📄 ঈমানদারের দ্বিতীয় গুণ
এ সব আয়াতে উল্লিখিত দ্বিতীয় গুণ বা দ্বিতীয় আমল এই-
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ 'সফলতা লাভকারী ঈমানদার তারা, যারা অসার বিষয় থেকে বিরত থাকে।'
এ আয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে। এক অর্থ এই যে, কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গে অসমীচীন কথা বললে বা অসৌজন্যে আচরণ করলে সেও অসমীচীন কথা ও অসৌজন্যে আচরণের মাধ্যমে তার উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আলাদা হয়ে যায়। নিজেকে নিজে অসার কাজ ও কথা থেকে বিরত রাখে।
📄 হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.-এর ঘটনা
আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ. থেকে হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.-এর ঘটনা শুনেছি। তিনি এমন বুযুর্গ ছিলেন যে, নিকট অতীতে তার দৃষ্টান্ত মেলা কঠিন। রাজবংশের শাহজাদা ছিলেন। আল্লাহ তা'আলার দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে বের হন এবং কুরবানী করেন। একবার দিল্লীর জামে মসজিদে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বক্তব্য চলাকালে জনসমাবেশে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, আমি শুনেছি যে, আপনি হারামযাদা (নাউযুবিল্লাহ)। এতো বড়ো আলেম ও শাহাজাদাকে ভরা মজমার মধ্যে এই গালি দিলো এবং মজমাও ছিলো ভক্তদের। আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন যে, আমাদের মতো কোনো মানুষ হলে তাকে শাস্তি দিতো। আর নিজে শাস্তি না দিলেও তার ভক্তবৃন্দ তাকে টুকরা টুকরা করে ফেলতো। কমপক্ষে প্রতি উত্তরে এ কথা তো বলতো যে, তুই হারামজাদা, তোর বাপ হারামজাদা। কিন্তু হযরত মাওলানা শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.- যিনি পয়গম্বরসুলভ দাওয়াতের আমল করছিলেন- উত্তরে বললেন, আপনি ভুল সংবাদ পেয়েছেন। আমার মায়ের বিয়ের সাক্ষী তো আজও দিল্লীতে রয়েছে। তিনি গালিকে মাসআলা বানিয়ে দিলেন। গালির উত্তরে গালি দেননি।
📄 গালির উত্তরে গালি দিবে না
গালির উত্তরে গালি দিবে না। যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে অন্য ব্যক্তি তোমাকে যেমন গালি দিয়েছে তুমিও তাকে তেমন গালি দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু নবীগণ এবং তার ওয়ারিসগণ প্রতিশোধ গ্রহণের এই অধিকার ব্যবহার করেন না। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাজীবনে কখনো এই অধিকার ব্যবহার করেননি। সবসময় মাফ করে দিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন। নবীগণের ওয়ারিসদেরও এ আদর্শই ছিলো।
📄 প্রতিশোধ গ্রহণ না করে মাফ করে দাও
আরে ভাই! কেউ যদি তোমাকে গালি দিয়ে থাকে তাহলে তোমার কি ক্ষতি হয়েছে? তোমার আখেরাতের কি নষ্ট হয়েছে? বরং তোমার তো মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুমি যদি প্রতিশোধ না নাও, মাফ করে দাও তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে মাফ করে দিবেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অন্যের ভুল মাফ করে দেয় আল্লাহ তা'আলা তাকে সেদিন মাফ করে দিবেন, যেদিন সে মাফের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হবে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন। এজন্যে প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তা ছেড়ে দাও, মাফ করে দাও।