📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 গারে সা ওরের ঘটনা

📄 গারে সা ওরের ঘটনা


গারে সাওরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। কুরআনে কারীমে এর বর্ণনা এভাবে দেওয়া হয়েছে, إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا 'তারা দুজন যখন গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি নিজের সাথীকে বলছিলেন আপনি চিন্তা করবেন না, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সঙ্গে আছেন।'
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. গুহা সাফ করা এবং গুহার ভিতরে সাপ- বিচ্ছু ও বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের যেসব গর্ত রয়েছে সেগুলো বন্ধ করার জন্যে গুহায় আগে প্রবেশ করেন। তিনি কাপড় কেটে ছিদ্রসমূহ বন্ধ করেন। কাপড় শেষ হয়ে গেলে পায়ের গোড়ালি দ্বারা অবশিষ্ট ছিদ্র বন্ধ করেন।

টিকাঃ
২. তাওবা: ৪০
৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ডঃ ৩, পৃঃ ১৮০, কানযুল উম্মাল খন্ডঃ ৮, পৃঃ ৩৩৫

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হিজরতের একটি ঘটনা

📄 হিজরতের একটি ঘটনা


হাদীস শরীফে এসেছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করছিলেন, তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. তাঁর চেহারা মুবারকে ক্ষুধার আলামত দেখতে পান। তিনি এক জায়গা থেকে দুধ এনে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশ করেন, অথচ তখন তিনি নিজেও ক্ষুধার্ত ছিলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. পরবর্তীতে এ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে দুধ পান করেন যে, আমি পরিতৃপ্ত হয়ে যাই। অর্থাৎ, দুধ তো পান করেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিন্তু পরিতৃপ্ত হন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.। একারণে বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের যেই পর্যায় হযরত আবু বকর রাযি. দেখিয়েছেন, তা দুনিয়াতে অন্য কেউ দেখাতে পারবে না।

টিকাঃ
৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৪৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বন্ধুত্ব আল্লাহর জন্য নির্ধারিত

📄 বন্ধুত্ব আল্লাহর জন্য নির্ধারিত


কিন্তু এতদসত্ত্বেও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيْلًا لَا تَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيْلًا
'আমি যদি এ দুনিয়াতে কাউকে খাঁটি বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবু বকরকে গ্রহণ করতাম।" অর্থাৎ, তাঁকেও বন্ধু বানাননি। কারণ, এ দুনিয়াতে প্রকৃত অর্থে বন্ধু হওয়ার যোগ্য কেউ নয়। বন্ধুত্ব কেবল আল্লাহ তা'আলার জন্যেই অবধারিত। এমন বন্ধুত্ব, যা মানুষের অন্তরে আধিপত্য বিস্তার করবে, সে যা বলবে তাই করবে, মানুষের অন্তর তার অনুগামী হয়ে যাবে, এমন বন্ধুত্ব আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাথে শোভনীয় নয়।

টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩৯০, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৮৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩৩৯৯

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নিষ্ঠাবান বন্ধুদের বিলুপ্তি

📄 নিষ্ঠাবান বন্ধুদের বিলুপ্তি


দ্বিতীয় বিষয় এই যে, এই দুনিয়ায় এমন বন্ধু পাওয়া যায় কোথায়, যার বন্ধুত্ব আল্লাহর বন্ধুত্বের অনুগামী হবে? অনেক তত্ত্ব-তালাশ করেও এমন বন্ধু পাওয়া যায় না, যাকে সঠিক অর্থে বন্ধু বলা যায়। যার বন্ধুত্ব আল্লাহর বন্ধুত্বের অনুগামী হবে এবং কঠিন পরীক্ষার সময় পোক্ত প্রমাণিত হবে, এমন বস্তু পাওয়া ভার। ভাগ্যবানেরাই এমন বন্ধু পেয়ে থাকেন। আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.-এর সামনে যখন আমার বড়ো ভাইগণ তাদের বন্ধুদের কথা আলোচনা করতেন, তখন ওয়ালেদ ছাহেব তাদেরকে বলতেন যে, দুনিয়াতে তোমাদের অনেক বন্ধু। আমার ষাট বছর বয়স হয়ে গেলো কোনো বন্ধু খুঁজে পেলাম না। সারা জীবনে মাত্র দেড়জন বন্ধু পেয়েছি। একজন পুরা, আরেকজন অর্ধেক। কিন্তু তোমরা অনেক বন্ধু পেয়ে থাকো। বন্ধুত্বের মাপকাঠিতে পরিপূর্ণ প্রমাণিত হয় এবং কঠিন পরীক্ষার সময়ও পাকা ও খাঁটি প্রমাণিত হয়, এমন বন্ধু খুব কম পাওয়া যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00