📄 হযরত আবু বকর রাযি. একজন খাঁটি দোস্ত
এ পৃথিবীতে কেউ যদি কারো খাঁটি বন্ধু হতে পারতো, তাহলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে হযরত আবু বরক সিদ্দীক রাযি.-এর চেয়ে অধিক বড়ো আর কে হতে পারতো? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. যেভাবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, দুনিয়াতে তার দৃষ্টান্ত পাওয়া ভার। অন্য কোনো ব্যক্তি দাবিই করতে পারে না যে, আমি তাঁর মতো বন্ধুত্ব করতে সক্ষম। প্রত্যেক ধাপে তাঁকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি খাঁটি প্রমাণিত হয়েছেন। প্রথম দিন যখন তিনি 'আমাননা' (اَمَنَّا) ও 'সদদাকনা' (صَدَّقْنَا) বলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান এনেছেন, তখন থেকে সারা জীবনে কখনো সেই বিশ্বাস ও ঈমানের মধ্যে অণু পরিমাণ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়নি।
📄 বন্ধুত্বের উপযুক্ত একমাত্র সত্ত্বা
মনে রাখবে! প্রথমত বন্ধুত্ব যেই জিনিসের নাম, তা দুনিয়ার কোনো মাখলুকের মধ্যে প্রকৃত ও সঠিক অর্থে নাই। প্রকৃত বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার উপযুক্ত তো হলো একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সত্তা। অন্তরে যাকে জায়গা দেওয়া হবে, যার ভালোবাসা অন্তরে বদ্ধমূল হবে, সেতো একমাত্র তাঁরই সত্তা। কারণ, আল্লাহ তা'আলা মানুষের দেহের মধ্যে যেই অন্তর বানিয়েছেন, তা কেবল নিজের জন্যেই বানিয়েছেন। এটা তাঁরই তাজাল্লির জায়গা। তাঁর জন্যেই এটা বানিয়েছেন। এখন এই অন্তরের মধ্যে অন্য কাউকে এমনভাবে বসানো যে, সে অন্তরের উপরে আধিপত্য বিস্তার করবে, তা কোনো মুমিনের জন্যে সমীচীন নয়। কারণ বন্ধুত্বের যোগ্য একজনই।
📄 গারে সা ওরের ঘটনা
গারে সাওরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। কুরআনে কারীমে এর বর্ণনা এভাবে দেওয়া হয়েছে, إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا 'তারা দুজন যখন গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি নিজের সাথীকে বলছিলেন আপনি চিন্তা করবেন না, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সঙ্গে আছেন।'
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. গুহা সাফ করা এবং গুহার ভিতরে সাপ- বিচ্ছু ও বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের যেসব গর্ত রয়েছে সেগুলো বন্ধ করার জন্যে গুহায় আগে প্রবেশ করেন। তিনি কাপড় কেটে ছিদ্রসমূহ বন্ধ করেন। কাপড় শেষ হয়ে গেলে পায়ের গোড়ালি দ্বারা অবশিষ্ট ছিদ্র বন্ধ করেন।
টিকাঃ
২. তাওবা: ৪০
৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ডঃ ৩, পৃঃ ১৮০, কানযুল উম্মাল খন্ডঃ ৮, পৃঃ ৩৩৫
📄 হিজরতের একটি ঘটনা
হাদীস শরীফে এসেছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করছিলেন, তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. তাঁর চেহারা মুবারকে ক্ষুধার আলামত দেখতে পান। তিনি এক জায়গা থেকে দুধ এনে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশ করেন, অথচ তখন তিনি নিজেও ক্ষুধার্ত ছিলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. পরবর্তীতে এ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে দুধ পান করেন যে, আমি পরিতৃপ্ত হয়ে যাই। অর্থাৎ, দুধ তো পান করেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিন্তু পরিতৃপ্ত হন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.। একারণে বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের যেই পর্যায় হযরত আবু বকর রাযি. দেখিয়েছেন, তা দুনিয়াতে অন্য কেউ দেখাতে পারবে না।
টিকাঃ
৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৪৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৩২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩