📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমাদের বন্ধুত্বের অবস্থা

📄 আমাদের বন্ধুত্বের অবস্থা


এ হাদীসের মধ্যে বিশেষভাবে ঐ সব লোককে সোনালী শিক্ষা দান করা হয়েছে, যাদের অবস্থা এই হয়ে থাকে যে, যখন তাদের কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়, কারো সাথে সম্পর্ক হয় এবং ভালোবাসা হয়, তখন ঐ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসায় নির্দ্বিধায় আগে বাড়তে থাকে। কোনো সীমারেখার পরোয়া তারা করে না। যার সাথে মহব্বত ও সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে কোনো দোষ চোখে পড়ে না। দিন-রাত তার সাথে পানাহার চলছে, ওঠা-বসা চলছে, চলাফেরা চলছে, সব কাজ তার সাথে হচ্ছে। দিন-রাত তার বন্ধুত্ব ও সাহচর্য লাভ হচ্ছে। তার প্রশংসা গাওয়া হচ্ছে, কিন্তু হঠাৎ জানা গেলো যে, বন্ধুত্ব ভেঙ্গে গিয়েছে এবং এমনভাবেই ভেঙ্গেছে যে, একে অপরের মুখ দেখতেও রাজি না। একে অপরের নাম শুনতেও রাজি না। এখন আর তার মধ্যে কোনো ভালো গুণ দেখা যায় না। বরং এখন তার নিন্দাবাদ শুরু হয়েছে। এই প্রান্তিকতা ও ভারসাম্যহীনতা শরীয়তে কাঙ্খিত নয়। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, ভালোবাসাও করো ভারসাম্যের সাথে, আর শত্রুতাও করো ভারসাম্যের সাথে। কোনো কিছুতেই সীমা অতিক্রম কোরো না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত আবু বকর রাযি. একজন খাঁটি দোস্ত

📄 হযরত আবু বকর রাযি. একজন খাঁটি দোস্ত


এ পৃথিবীতে কেউ যদি কারো খাঁটি বন্ধু হতে পারতো, তাহলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে হযরত আবু বরক সিদ্দীক রাযি.-এর চেয়ে অধিক বড়ো আর কে হতে পারতো? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. যেভাবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, দুনিয়াতে তার দৃষ্টান্ত পাওয়া ভার। অন্য কোনো ব্যক্তি দাবিই করতে পারে না যে, আমি তাঁর মতো বন্ধুত্ব করতে সক্ষম। প্রত্যেক ধাপে তাঁকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি খাঁটি প্রমাণিত হয়েছেন। প্রথম দিন যখন তিনি 'আমাননা' (اَمَنَّا) ও 'সদদাকনা' (صَدَّقْنَا) বলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান এনেছেন, তখন থেকে সারা জীবনে কখনো সেই বিশ্বাস ও ঈমানের মধ্যে অণু পরিমাণ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়নি।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বন্ধুত্বের উপযুক্ত একমাত্র সত্ত্বা

📄 বন্ধুত্বের উপযুক্ত একমাত্র সত্ত্বা


মনে রাখবে! প্রথমত বন্ধুত্ব যেই জিনিসের নাম, তা দুনিয়ার কোনো মাখলুকের মধ্যে প্রকৃত ও সঠিক অর্থে নাই। প্রকৃত বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার উপযুক্ত তো হলো একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সত্তা। অন্তরে যাকে জায়গা দেওয়া হবে, যার ভালোবাসা অন্তরে বদ্ধমূল হবে, সেতো একমাত্র তাঁরই সত্তা। কারণ, আল্লাহ তা'আলা মানুষের দেহের মধ্যে যেই অন্তর বানিয়েছেন, তা কেবল নিজের জন্যেই বানিয়েছেন। এটা তাঁরই তাজাল্লির জায়গা। তাঁর জন্যেই এটা বানিয়েছেন। এখন এই অন্তরের মধ্যে অন্য কাউকে এমনভাবে বসানো যে, সে অন্তরের উপরে আধিপত্য বিস্তার করবে, তা কোনো মুমিনের জন্যে সমীচীন নয়। কারণ বন্ধুত্বের যোগ্য একজনই।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 গারে সা ওরের ঘটনা

📄 গারে সা ওরের ঘটনা


গারে সাওরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। কুরআনে কারীমে এর বর্ণনা এভাবে দেওয়া হয়েছে, إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا 'তারা দুজন যখন গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি নিজের সাথীকে বলছিলেন আপনি চিন্তা করবেন না, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সঙ্গে আছেন।'
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. গুহা সাফ করা এবং গুহার ভিতরে সাপ- বিচ্ছু ও বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের যেসব গর্ত রয়েছে সেগুলো বন্ধ করার জন্যে গুহায় আগে প্রবেশ করেন। তিনি কাপড় কেটে ছিদ্রসমূহ বন্ধ করেন। কাপড় শেষ হয়ে গেলে পায়ের গোড়ালি দ্বারা অবশিষ্ট ছিদ্র বন্ধ করেন।

টিকাঃ
২. তাওবা: ৪০
৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ডঃ ৩, পৃঃ ১৮০, কানযুল উম্মাল খন্ডঃ ৮, পৃঃ ৩৩৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00