📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 রাস্তাকে ময়লা করা হারাম

📄 রাস্তাকে ময়লা করা হারাম


কিংবা উদাহরণস্বরূপ সড়কের উপর দিয়ে যাওয়ার পথে আপনি সেখানে ছিলকা বা ময়লা ফেলে দিলেন। এখন এ কারণে কারো পা পিছলে গেলো বা কেউ কষ্ট পেলো, তাহলে কিয়ামতের দিন আপনাকে পাকড়াউ করা হবে। আর যদি এর দ্বারা কেউ কষ্ট নাও পায়, কিন্তু আপনি ময়লা তো ফেললেন। এই ময়লা ফেলার কারণে আপনার গোনাহ হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে- সফরকালে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথে কোথাও পেশাব করার প্রয়োজন হলে পেশাব করার জন্যে তিনি উপযুক্ত জায়গা এ পরিমাণ খোঁজ করতেন, যেমন একজন মানুষ বাড়ি বানানোর জন্যে উপযুক্ত জায়গা খোঁজ করে। কেন এমন করতেন? যেন তা মানুষের চলাচলের পথ না হয়, আর ময়লার কারণে মানুষের কষ্ট না হয়। অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে ময়লা ও কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা।১০
যেমন পথে কাঁটা বা ছিলকা পড়ে আছে, আপনি তা তুলে দূরে ফেলে দিলেন, যেন পথিকদের কষ্ট না হয়। এটা ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা। পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা যেহেতু ঈমানের শাখা, তাই পথে কষ্টদায়ক জিনিস ফেলা হবে কুফরের শাখা, ঈমানের শাখা হবে না। এ সব বিষয় এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
১০. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫১, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৯১৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৫৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৯৯৩ ইসলামী মুআশারাত-১৫

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মানসিক কষ্টে লিপ্ত করা হারাম

📄 মানসিক কষ্টে লিপ্ত করা হারাম


হযরত থানভী রহ. বলেন যে, এ হাদীসে জিব ও হাত দ্বারা বাহ্যিক আমলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি জিব বা হাত দ্বারা এমন কোনো কাজ করেন, যার দ্বারা অন্যের মানসিক কষ্ট হয় তাহলে তাও এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কারো থেকে ঋণ নিলেন এবং তার সাথে ওয়াদা করলেন যে, এতো দিনের মধ্যে পরিশোধ করবো। আপনি যদি যথাসময়ে পরিশোধ করতে সক্ষম না হন তাহলে তাকে জানিয়ে দিন যে, আমি এখন পরিশোধ করতে পারছি না। এতোদিন পরে পরিশোধ করবো। এর পরেও পরিশোধ করতে না পারলে আবারও জানিয়ে দিন। কিন্তু তাকে ঝুলিয়ে রাখা ঠিক নয়। সে মানসিক অস্বস্তির মধ্যে থাকবে। সে বেচারা অপেক্ষায় আছে যে, আপনি আজকে ঋণ পরিশোধ করবেন, বা কাল দিয়ে দিবেন। কিন্তু আপনি না তাকে জানালেন, না ঋণ পরিশোধ করলেন। এভাবে আপনি তাকে মানসিক কষ্টে ফেললেন। সে এখন আর কোনো প্লান তৈরি করতে পারবে না। কোনো প্রোগ্রাম বানাতে পারবে না। কারণ তার জানাই নেই যে, সে ঋণ ফিরে পাবে কি না? পেলে কবে পাবে? আপনার এই কর্মপদ্ধতিও নাজায়েয ও হারাম।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 চাকরদের উপর মানসিক বোঝা ফেলা

📄 চাকরদের উপর মানসিক বোঝা ফেলা


এমনকি হযরত থানভী রহ. বলেন যে, আপনার একজন চাকর আছে। আপনি একসঙ্গে তাকে চারটি কাজ বলে দিলেন। প্রথমে এ কাজ করবে, তারপর এ কাজ করবে, তারপর এ কাজ করবে, তারপর এ কাজ করবে। এভাবে চারটি কাজ মনে রাখার বোঝা আপনি তার মাথার উপর চাপিয়ে দিলেন। যদি ভীষণ প্রয়োজন না হয় তাহলে একসঙ্গে চার কাজের বোঝা তার মাথায় চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং তাকে প্রথমে একটি কাজ বলুন। সে প্রথম কাজটি সেরে ফেললে এবার দ্বিতীয়টি বলুন। এটা শেষ করলে তারপর তৃতীয় কাজের কথা বলুন। তিনি নিজে নিজের কর্মপদ্ধতি বলেন যে, আমি আমার চাকরকে এক সময়ে একটি কাজের কথা বলি। তার দ্বারা যে দ্বিতীয় কাজটি করা হবে, তা মনে রাখার বোঝা নিজের মাথায় রাখি। চাকরের মাথার উপর চাপাই না। যাতে সে মানসিক চাপে না পড়ে। সে একটি কাজ করে শেষ করলে তখন দ্বিতীয় কাজের কথা বলি। এর দ্বারা অনুমান করুন যে, হযরতের দৃষ্টি কতো সুদূরপ্রসারী ছিলো!

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নামাযরত ব্যক্তির জন্যে কোথায় অপেক্ষা করা উচিত

📄 নামাযরত ব্যক্তির জন্যে কোথায় অপেক্ষা করা উচিত


কিংবা এক ব্যক্তি নামায পড়ছে, তার সাথে আপনার কিছু কাজ আছে। এখন আপনি তার একেবারে নিকটে গিয়ে বসলেন। তার মাথায় এই চিন্তা চাপিয়ে দিলেন যে, আমি তোমার অপেক্ষায় আছি। তুমি জলদি নামায শেষ করো। আমি তোমার সাঙ্গে দেখা করবো। কাজ করাবো। সুতরাং আপনি নিকটে বসার কারণে তার নামাযের মধ্যে বিঘ্ন ঘটছে। তার মস্তিষ্কে চাপ পড়ছে যে, এ ব্যক্তি আমার অপেক্ষায় আছে, তার অপেক্ষার সমাধান করা উচিত। তাড়াতাড়ি নামায শেষ করে তার সঙ্গে দেখা করা উচিত। অথচ এটা আদবের অন্তর্ভুক্ত যে, আপনার যদি নামায রত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে হয়, তাহলে আপনি দূরে বসে তার অবসর হওয়ার অপেক্ষা করবেন। সে নিজের থেকে অবসর হলে তখন দেখা করবেন। কিন্তু তার একেবারে কাছে বসে তার উপর এই প্রভাব বিস্তার করা যে, আমি তোমার অপেক্ষায় আছি, এজন্যে তাড়াতাড়ি নামায শেষ করো- এটা আদবের খেলাফ। এসব বিষয় অন্যকে মানসিক কষ্টে ফেলার অন্তর্ভুক্ত। আলহামদুলিল্লাহ! যে সকল বুযুর্গকে আমরা দেখেছি এবং যাঁদের থেকে আল্লাহ তা'আলা দ্বীন শেখার তাওফীক দান করেছেন, তাঁদের উপর দ্বীনের সমস্ত শাখাকে আল্লাহ তা'আলা সমান রেখেছিলেন। এমন ছিলো না যে, দ্বীনের এক বা দুই শাখার উপর আমল আছে, আর অবশিষ্ট সব শাখা দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে উদাসীনতা রয়েছে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السَّلْمِ كَافَّةً
'হে ঈমানদারগণ! ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত হও।'১১ এমন যেন না হয় যে, নামায-রোযা ইত্যাদি ইবাদত তো করলে, কিন্তু মুআশারাত, মুআমালাত ও আখলাকের বিষয়ে দ্বীনের বিধি-বিধানের পারোয়া করলে না। অথচ এ সব কিছু দ্বীনের অংশ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00