📄 এটা কবীরা গোনাহ
আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ. আমাদেরকে এই ছোট ছোট বিষয় শিখিয়েছেন। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমরাও এসব আচরণ করতাম। একটা জিনিস তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তুলে নিয়ে ব্যবহার করতাম এবং অন্যত্র ফেলে রাখতাম। প্রয়োজনের সময় সারা বাড়ি তালাশ করা হতো। একদিন আমাদের সকলকে বললেন, তোমরা যে কাজ করো- একটা জিনিস তুলে নিয়ে অন্যত্র ফেলে রাখো, এটা অসদাচরণ তো বটেই, একই সাথে এটা কবীরা গোনাহও। কারণ, এর দ্বারা মুসলমান কষ্ট পায়, আর মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া কবীরা গোনাহ। সেদিন আমরা বুঝতে পারলাম যে, এটাও দ্বীনের বিধান এবং এটাও কবীরা গোনাহ। অন্যথায় এর পূর্বে এর অনুভূতিও ছিলো না। এ সব বিষয় হাত দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
📄 প্রিয়জন ও পরিবার-পরিজনকে কষ্ট দেওয়া
এ বিষয়টিও বুঝুন যে, যৌথ বসবাসের জন্যে পর মানুষ হওয়া জরুরী নয়। নিজেদের নিকটাত্মীয়, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সব এর অন্তর্ভুক্ত। আমরা নিজেদের নিকটাত্মীয়দের কষ্ট পাওয়ার বিষয় উপলব্ধি করি না। বরং চিন্তা করি যে, আমার এ কাজ দ্বারা স্ত্রী কষ্ট পেলে পাক। সে তো আমার স্ত্রী। বা নিজের সন্তান বা ভাই-বোন কষ্ট পাচ্ছে তো পাক, আমারই তো সন্তান, আমারই তো ভাই-বোন। সে তোমার ভাই বা বোন হয়ে কী অপরাধ করেছে? এই মহিলা তোমার স্ত্রী হয়ে বা এরা তোমার সন্তান হয়েছে তো কী অপরাধ করেছে? যে তুমি তাদেরকে কষ্ট দিচ্ছো। অথচ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সময় শুধু এ কথা চিন্তা করে সব কাজ আস্তে করতেন, যেন হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘুম ভেঙ্গে না যায়। যেভাবে অন্যদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম, একইভাবে নিজের পরিবার-পরিজন, নিজের ভাই-বোন এবং নিজের স্ত্রী-পুত্রকেও কষ্ট দেওয়া হরাম।
📄 না জানিয়ে খাওয়ার সময় অনুপস্থিত থাকা
উদাহরণস্বরূপ, আপনি পরিবারের লোকদেরকে বলে গেলেন যে, অমুক সময় এসে খানা খাবো। কিন্তু তারপর না জানিয়ে কোথাও চলে গেলেন এবং সেখানেই খানা খেলেন এবং সেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় পার করে দিলেন। সময় মতো বাড়িতে এলেন না। বাড়িতে আপনার স্ত্রী খানা নিয়ে আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। পেরেশান হচ্ছে যে, কি হলো? এখনো আসছে না কেন? খানা নিয়ে বসে আছে। আপনার এ কাজ কবীরা গোনাহ। এ কারণে যে, আপনি এ কাজের মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তিকে কষ্ট দিলেন, যাকে আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আপনার যদি অন্য জায়গায় খেতে হয় তো আপনি তাকে জানিয়ে মুক্ত করে দিতেন। তাকে অপেক্ষা ও পেরেশানীতে লিপ্ত না করতেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা এ বিষয়ে লক্ষ করি না। চিন্তা করি যে, সে তো আমারই স্ত্রী। আমার অধীন। অপেক্ষা করছে করুক। অথচ এটা কবীরা গোনাহ, হারাম। মুসলমানকে কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
📄 রাস্তাকে ময়লা করা হারাম
কিংবা উদাহরণস্বরূপ সড়কের উপর দিয়ে যাওয়ার পথে আপনি সেখানে ছিলকা বা ময়লা ফেলে দিলেন। এখন এ কারণে কারো পা পিছলে গেলো বা কেউ কষ্ট পেলো, তাহলে কিয়ামতের দিন আপনাকে পাকড়াউ করা হবে। আর যদি এর দ্বারা কেউ কষ্ট নাও পায়, কিন্তু আপনি ময়লা তো ফেললেন। এই ময়লা ফেলার কারণে আপনার গোনাহ হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে- সফরকালে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথে কোথাও পেশাব করার প্রয়োজন হলে পেশাব করার জন্যে তিনি উপযুক্ত জায়গা এ পরিমাণ খোঁজ করতেন, যেমন একজন মানুষ বাড়ি বানানোর জন্যে উপযুক্ত জায়গা খোঁজ করে। কেন এমন করতেন? যেন তা মানুষের চলাচলের পথ না হয়, আর ময়লার কারণে মানুষের কষ্ট না হয়। অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে ময়লা ও কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা।১০
যেমন পথে কাঁটা বা ছিলকা পড়ে আছে, আপনি তা তুলে দূরে ফেলে দিলেন, যেন পথিকদের কষ্ট না হয়। এটা ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা। পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা যেহেতু ঈমানের শাখা, তাই পথে কষ্টদায়ক জিনিস ফেলা হবে কুফরের শাখা, ঈমানের শাখা হবে না। এ সব বিষয় এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।
টিকাঃ
১০. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫১, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৯১৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৫৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৯৯৩ ইসলামী মুআশারাত-১৫