📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হাত দ্বারা কষ্ট দিবেন না

📄 হাত দ্বারা কষ্ট দিবেন না


এ হাদীসে দ্বিতীয় যে জিনিসের কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো হাত। অর্থাৎ, তোমারদের হাত দ্বারা কেউ যেন কষ্ট না পায়। হাত দ্বারা কষ্ট দেওয়ার কিছু পদ্ধতি তো আছে স্পষ্ট, যেমন কাউকে মারলো। যে কেউ দেখে বলবে যে, সে হাত দ্বারা কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু হাত দ্বারা কষ্ট দেওয়ার এমন অনেক পদ্ধতি আছে, মানুষ যাকে কষ্ট দেওয়া বলে গণ্য করে না। হাদীস শরীফে হাতের কথা উল্লেখ করে হাত দ্বারা সংঘটিত কর্মসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ, বেশির ভাগ কাজ মানুষ হাত দ্বারা সম্পাদন করে থাকে। এ কারণে ওলামায়ে কেরাম হাতের মধ্যে সমস্ত কর্মকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যদিও সে কাজে হাতকে সরাসরি জড়িত দেখা যায় না।

কোনো জিনিসকে অনুপোযুক্ত জায়গায় রাখা
উদাহরণস্বরূপ, একটি যৌথ বাড়িতে আপনি অন্যদের সাথে বসবাস করেন। ঐ বাড়িতে যৌথ ব্যবহারের জিনিস রাখার একটি নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। যেমন তোয়ালে রাখার একটি নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। আপনি তোয়ালে ব্যবহার করে তা অন্য জায়গায় ফেলে রাখলেন। ফলে অন্য ব্যক্তি ওযু করে এসে ঐ জায়গায় তোয়ালে তালাশ করে পেলো না। এখন সে তোয়ালে খোঁজ করছে। তার কষ্ট হচ্ছে। এই যে কষ্ট সে পেলো, এটা আপনার হাতের কর্মের ফল। আপনি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তোয়ালে নিয়ে অন্যত্র ফেলে রেখেছেন, এতে কষ্ট দেওয়া হলো, যা এ হাদীসের ভিত্তিতে হারাম। তোয়ালে দিয়ে একটি উদাহরণ দেওয়া হলো। অন্যথায় যৌথ বদনা হোক, সাবান হোক, গ্লাস হোক, ঝাড়ু হোক ইত্যাদি, এগুলো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নিয়ে অন্য জায়গায় রাখা হাত দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এটা কবীরা গোনাহ

📄 এটা কবীরা গোনাহ


আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ. আমাদেরকে এই ছোট ছোট বিষয় শিখিয়েছেন। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমরাও এসব আচরণ করতাম। একটা জিনিস তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তুলে নিয়ে ব্যবহার করতাম এবং অন্যত্র ফেলে রাখতাম। প্রয়োজনের সময় সারা বাড়ি তালাশ করা হতো। একদিন আমাদের সকলকে বললেন, তোমরা যে কাজ করো- একটা জিনিস তুলে নিয়ে অন্যত্র ফেলে রাখো, এটা অসদাচরণ তো বটেই, একই সাথে এটা কবীরা গোনাহও। কারণ, এর দ্বারা মুসলমান কষ্ট পায়, আর মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া কবীরা গোনাহ। সেদিন আমরা বুঝতে পারলাম যে, এটাও দ্বীনের বিধান এবং এটাও কবীরা গোনাহ। অন্যথায় এর পূর্বে এর অনুভূতিও ছিলো না। এ সব বিষয় হাত দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রিয়জন ও পরিবার-পরিজনকে কষ্ট দেওয়া

📄 প্রিয়জন ও পরিবার-পরিজনকে কষ্ট দেওয়া


এ বিষয়টিও বুঝুন যে, যৌথ বসবাসের জন্যে পর মানুষ হওয়া জরুরী নয়। নিজেদের নিকটাত্মীয়, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সব এর অন্তর্ভুক্ত। আমরা নিজেদের নিকটাত্মীয়দের কষ্ট পাওয়ার বিষয় উপলব্ধি করি না। বরং চিন্তা করি যে, আমার এ কাজ দ্বারা স্ত্রী কষ্ট পেলে পাক। সে তো আমার স্ত্রী। বা নিজের সন্তান বা ভাই-বোন কষ্ট পাচ্ছে তো পাক, আমারই তো সন্তান, আমারই তো ভাই-বোন। সে তোমার ভাই বা বোন হয়ে কী অপরাধ করেছে? এই মহিলা তোমার স্ত্রী হয়ে বা এরা তোমার সন্তান হয়েছে তো কী অপরাধ করেছে? যে তুমি তাদেরকে কষ্ট দিচ্ছো। অথচ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সময় শুধু এ কথা চিন্তা করে সব কাজ আস্তে করতেন, যেন হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘুম ভেঙ্গে না যায়। যেভাবে অন্যদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম, একইভাবে নিজের পরিবার-পরিজন, নিজের ভাই-বোন এবং নিজের স্ত্রী-পুত্রকেও কষ্ট দেওয়া হরাম।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 না জানিয়ে খাওয়ার সময় অনুপস্থিত থাকা

📄 না জানিয়ে খাওয়ার সময় অনুপস্থিত থাকা


উদাহরণস্বরূপ, আপনি পরিবারের লোকদেরকে বলে গেলেন যে, অমুক সময় এসে খানা খাবো। কিন্তু তারপর না জানিয়ে কোথাও চলে গেলেন এবং সেখানেই খানা খেলেন এবং সেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় পার করে দিলেন। সময় মতো বাড়িতে এলেন না। বাড়িতে আপনার স্ত্রী খানা নিয়ে আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। পেরেশান হচ্ছে যে, কি হলো? এখনো আসছে না কেন? খানা নিয়ে বসে আছে। আপনার এ কাজ কবীরা গোনাহ। এ কারণে যে, আপনি এ কাজের মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তিকে কষ্ট দিলেন, যাকে আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আপনার যদি অন্য জায়গায় খেতে হয় তো আপনি তাকে জানিয়ে মুক্ত করে দিতেন। তাকে অপেক্ষা ও পেরেশানীতে লিপ্ত না করতেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা এ বিষয়ে লক্ষ করি না। চিন্তা করি যে, সে তো আমারই স্ত্রী। আমার অধীন। অপেক্ষা করছে করুক। অথচ এটা কবীরা গোনাহ, হারাম। মুসলমানকে কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00