📄 টেলিফোনে লম্বা কথা বলা
আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন যে, এখন কষ্ট দেওয়ার আরেকটি যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে, তাহলো টেলিফোন। এর মাধ্যমে যতো ইচ্ছা অন্যকে কষ্ট দাও। আপনি কাউকে টেলিফোন করে লম্বা আলোচনা শুরু করলেন। এদিকে খেয়াল করলেন না যে, সে লোক কোনো কাজে ব্যস্ত আছে কি না। তার কাছে সময় আছে কি না। আমার ওয়ালেদ মাজেদ মাআরেফুল কুরআনে লিখেছেন যে, টেলিফোন করার অন্যতম আদব হলো, কারো সাথে লম্বা কথা বলতে হলে প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করে নাও- আমার একটু লম্বা কথা বলতে হবে, চার-পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। আপনি এখন অবসর থাকলে এখনই বলবো, আর অবসর না থাকলে উপযুক্ত কোনো সময়ের কথা বলে দিন, তখন কথা বলবো। সূরায়ে নূরের তাফসীরের মধ্যে এসব আদব লেখা আছে। সেখানে দেখুন। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব রহ. নিজেও এর উপর আমল করতেন।
📄 বাইরের লাউড স্পিকারে বক্তব্য দেওয়া
উদাহরণস্বরূপ, মসজিদের মধ্যে কিছু লোকের সঙ্গে আপনার কথা বলতে হবে। তাদের পর্যন্ত আওয়াজ পৌছানোর জন্যে মসজিদের ভিতরের লাউড স্পিকারও যথেষ্ট। কিন্তু আপনি বাইরের লাউড স্পিকারও খুলে দিলেন। যার ফলে পুরো এলাকার এবং পুরো মহল্লার মানুষ পর্যন্ত আওয়াজ পৌছছে। এখন মহল্লার কোনো মানুষ নিজের ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করতে চায়, বা যিকির করতে চায়, বা ঘুমাতে চায়, বা অসুস্থ মানুষ বিশ্রাম করতে চায়, কিন্তু আপনি জোর করে পুরো মহল্লার লোকের উপর আপনার ওয়ায চাপিয়ে দিলেন। এটাও মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
📄 হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর যুগের একটি ঘটনা
হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর যুগে এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে এসে ওয়ায করতো। হযরত আয়েশা রাযি.-এর কামরা মসজিদে নববীর একেবারে সংলগ্ন ছিলো। যদিও সে যুগে লাউড স্পিকার ছিলো না, কিন্তু ঐ লোক খুব উঁচু আওয়াজে ওয়ায করতো। তার আওয়াজ হযরত আয়েশা রাযি.-এর কামরার ভিতর পৌছতো। তিনি নিজের ইবাদত, তিলাওয়াত, যিকির বা অন্য কাজে মশগুল থাকতেন। ঐ ব্যক্তির আওয়াজে তাঁর কষ্ট হতো। হযরত আয়েশা রাযি. হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর নিকট সংবাদ পাঠান যে, এক ব্যক্তি আমার কামরার নিকট এসে এভাবে ওয়ায করে। এতে আমার কষ্ট হয়। আপনি তাকে বলে দিন- অন্য কোথাও গিয়ে ওয়ায করুক, না হয় আস্তে আওয়াজে ওয়ায করুক। হযরত ওমর ফারুক রাযি. তাকে ডেকে বুঝালেন যে, আপনার আওয়াজে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযি.-এর কষ্ট হয়। আপনি এখানে ওয়ায করা বন্ধ করে দিন। সুতরাং সে থেমে গেলো। কিন্তু লোকটির ওয়াযের প্রতি আগ্রহ ছিলো। কিছুদিন পর আবারও ওয়ায করতে শুরু করলো। হযরত ওমর ফারুক রাযি. জানতে পারলেন যে, সে পুনরায় ওয়ায করতে শুরু করেছে। তিনি পুনরায় তাকে ডাকলেন এবং বললেন যে, এবার আমি আপনাকে শেষবারের মতো নিষেধ করলাম। এর পর যদি আমি জানতে পারি যে, আপনি এখানে ওয়ায করেন, তাহলে এই ছড়ি আপনার উপর ভাঙ্গবো। অর্থাৎ, এ পরিমাণ প্রহার করবো যে, আপনার উপর এই ছড়ি ভেঙ্গে যাবে।
📄 বর্তমানে আমাদের অবস্থা
বর্তমানে আমরা এর প্রতি মোটেই লক্ষ করি না। মসজিদে ওয়ায হচ্ছে। পুরো আওয়াজে লাউড স্পিকার ছাড়া আছে। পুরো মহল্লার লোককে কষ্টে ফেলা হয়েছে। মহল্লায় কেউ ঘুমাতে পারে না। কোনো ব্যক্তি গিয়ে নিষেধ করলে তাকে তিরস্কার করা হয় যে, সে দ্বীনের কাজে বাধা দিচ্ছে। অথচ এই ওয়াযের মাধ্যমে শরীয়তের বিধানকে পদদলিত করা হচ্ছে। অন্যদেরকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। আলেমের আদবসমূহের মধ্যে এ কথাও লেখা আছে যে,
يَنْبَغِي لِلْعَالِمِ أَنْ لَا يَعْدُ وَ صَوْتَهُ مَجْلِسَهُ 'আলেমের আওয়াজ তার মজলিস থেকে যেন দূরে না যায়।" এসব বিষয় জিব দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। এই জিব আল্লাহ তা'আলা এজন্যে দিয়েছেন যে, এটা আল্লাহর যিকির করবে, সত্য কথা বলবে। এই জিব এজন্যে দেওয়া হয়েছে যে, এর মাধ্যমে তোমরা মানুষের অন্তরে প্রলেপ দিবে। এই জিব এজন্যে দেওয়া হয়নি যে, এর মাধ্যমে তোমরা মানুষকে কষ্ট দিবে।