📄 মজলিস চলাকালে সালাম দেওয়া
ফুকাহায়ে কেরাম লিখেছেন যে, এক ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে কোনো দীর্ঘ কথা বলছে, অন্যরা মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে, তা যদি দুনিয়াবি কথাও হয় এমতাবস্থাতেও ঐ মজলিসে গিয়ে সালাম দেওয়া জায়েয নেই। কারণ, তারা কথা শোনায় ব্যস্ত ছিলো। আপনি সালাম দিয়ে তাদের কথায় বিঘ্ন ঘটালেন। যার ফলে কথার মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। একারণে এ সময় সালাম দেওয়া জায়েয নেই। তাই হুকুম হলো, যদি তুমি কোনো মজলিসে অংশ গ্রহণের জন্যে যাও আর সেখানে কথা শুরু হয়ে থাকে, তাহলে সালাম না দিয়ে বসে পড়ো। তখন সালাম দেওয়া কষ্ট দেওয়ার সমার্থক। এতে অনুমান করুন যে, শরীয়ত এ ব্যাপারে কি পরিমাণ স্পর্শকাতর যে, আমার দ্বারা যেন অন্য কেউ সামান্যতম কষ্টও না পায়।
📄 আহারকারীকে সালাম করা
এক ব্যক্তি খানা খাওয়ায় রত আছে। যদি আশঙ্কা হয় যে, আপনার সালামের ফলে তার অস্বস্তি হবে, তাহলে সে সময় তাকে সালাম দেওয়া হারাম তো নয়, তবে মাকরূহ অবশ্যই। লক্ষ করুন! সে খানা খাচ্ছে, না ইবাদত করছে, না যিকির করছে। তাকে আপনি সালাম দিলে তার উপর তো পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে না, কিন্তু সালাম দেওয়ার ফলে তার অস্বস্তি হওয়ার ও খারাপ লাগার আশঙ্কা রয়েছে, এ জন্যে সে সময় সালাম করবেন না। এমনিভাবে এক ব্যক্তি তার কাজের জন্যে দ্রুত যাচ্ছে। আপনি বুঝতে পারলেন যে, এখন সে খুব ব্যতিব্যস্ত আছে। আপনি সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তাকে সালাম করলেন, মুসাফাহার জন্যে হাত এগিয়ে দিলেন, এটা আপনি ভালো কাজ করলেন না। এ কারণে যে, তার দ্রুততার কারণে আপনার বোঝা উচিত ছিলো যে, এ লোক ব্যস্ত। এটা সালাম দেওয়া ও মুসাফাহা করার উপযুক্ত সময় নয়। এমন সময় তাকে সালাম দিবেন না, বরং তাকে যেতে দিন। এসব বিষয় মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
📄 টেলিফোনে লম্বা কথা বলা
আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন যে, এখন কষ্ট দেওয়ার আরেকটি যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে, তাহলো টেলিফোন। এর মাধ্যমে যতো ইচ্ছা অন্যকে কষ্ট দাও। আপনি কাউকে টেলিফোন করে লম্বা আলোচনা শুরু করলেন। এদিকে খেয়াল করলেন না যে, সে লোক কোনো কাজে ব্যস্ত আছে কি না। তার কাছে সময় আছে কি না। আমার ওয়ালেদ মাজেদ মাআরেফুল কুরআনে লিখেছেন যে, টেলিফোন করার অন্যতম আদব হলো, কারো সাথে লম্বা কথা বলতে হলে প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করে নাও- আমার একটু লম্বা কথা বলতে হবে, চার-পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। আপনি এখন অবসর থাকলে এখনই বলবো, আর অবসর না থাকলে উপযুক্ত কোনো সময়ের কথা বলে দিন, তখন কথা বলবো। সূরায়ে নূরের তাফসীরের মধ্যে এসব আদব লেখা আছে। সেখানে দেখুন। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব রহ. নিজেও এর উপর আমল করতেন।
📄 বাইরের লাউড স্পিকারে বক্তব্য দেওয়া
উদাহরণস্বরূপ, মসজিদের মধ্যে কিছু লোকের সঙ্গে আপনার কথা বলতে হবে। তাদের পর্যন্ত আওয়াজ পৌছানোর জন্যে মসজিদের ভিতরের লাউড স্পিকারও যথেষ্ট। কিন্তু আপনি বাইরের লাউড স্পিকারও খুলে দিলেন। যার ফলে পুরো এলাকার এবং পুরো মহল্লার মানুষ পর্যন্ত আওয়াজ পৌছছে। এখন মহল্লার কোনো মানুষ নিজের ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করতে চায়, বা যিকির করতে চায়, বা ঘুমাতে চায়, বা অসুস্থ মানুষ বিশ্রাম করতে চায়, কিন্তু আপনি জোর করে পুরো মহল্লার লোকের উপর আপনার ওয়ায চাপিয়ে দিলেন। এটাও মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।