📄 কুরআন তিলাওয়াতের সময় সালাম করা
কতক সময় মানুষ বুঝতেও পারে না যে, আমি মুখ দ্বারা কষ্ট দিচ্ছি। বরং সে মনে করে যে, আমি তো সওয়াবের কাজ করছি। অথচ বাস্তবে সে গোনাহের কাজ করছে। এর মাধ্যমে অন্যকে কষ্ট দিচ্ছে। যেমন সালাম করা অনেক বড়ো সওয়াবের কাজ। কিন্তু শরীয়ত অন্যকে কষ্ট না দেওয়ার প্রতি এ পরিমাণ লক্ষ রেখেছে যে, সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধান দিয়েছে যে, সবসময় সালাম দেওয়া জায়েয নেই। বরং কতক সময় সালাম দিলে সওয়াবের পরিবর্তে গোনাহ হবে। কারণ, সালাম দিয়ে তুমি অন্যকে কষ্ট দিয়েছো। যেমন একব্যক্তি কুরআনে কারীম তিলাওয়াতে মগ্ন, তাকে সালাম করা জায়েয নেই। কারণ, একদিকে তো তোমার সালামের কারণে তার তিলাওয়াতের মধ্যে বিঘ্ন ঘটবে, অপরদিকে তিলাওয়াত ছেড়ে তোমার দিকে মনোযোগী হতে তার কষ্ট হবে, এমতাবস্থায় সালাম করা মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। তেমনিভাবে মানুষ মসজিদে বসে যিকিরে মগ্ন থাকলে মসজিদে প্রবেশ করার সময় তাদেরকে সালাম দেওয়া জায়েয নেই। কারণ, তারা আল্লাহর স্মরণে মশগুল। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাদের মুখে যিকির চলছে। তোমার সালামের কারণে তাদের যিকিরের মধ্যে বিঘ্ন ঘটবে। এদিকে মনোযোগ দেওয়ায় তার কষ্ট হবে।
📄 মজলিস চলাকালে সালাম দেওয়া
ফুকাহায়ে কেরাম লিখেছেন যে, এক ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে কোনো দীর্ঘ কথা বলছে, অন্যরা মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে, তা যদি দুনিয়াবি কথাও হয় এমতাবস্থাতেও ঐ মজলিসে গিয়ে সালাম দেওয়া জায়েয নেই। কারণ, তারা কথা শোনায় ব্যস্ত ছিলো। আপনি সালাম দিয়ে তাদের কথায় বিঘ্ন ঘটালেন। যার ফলে কথার মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলো। একারণে এ সময় সালাম দেওয়া জায়েয নেই। তাই হুকুম হলো, যদি তুমি কোনো মজলিসে অংশ গ্রহণের জন্যে যাও আর সেখানে কথা শুরু হয়ে থাকে, তাহলে সালাম না দিয়ে বসে পড়ো। তখন সালাম দেওয়া কষ্ট দেওয়ার সমার্থক। এতে অনুমান করুন যে, শরীয়ত এ ব্যাপারে কি পরিমাণ স্পর্শকাতর যে, আমার দ্বারা যেন অন্য কেউ সামান্যতম কষ্টও না পায়।
📄 আহারকারীকে সালাম করা
এক ব্যক্তি খানা খাওয়ায় রত আছে। যদি আশঙ্কা হয় যে, আপনার সালামের ফলে তার অস্বস্তি হবে, তাহলে সে সময় তাকে সালাম দেওয়া হারাম তো নয়, তবে মাকরূহ অবশ্যই। লক্ষ করুন! সে খানা খাচ্ছে, না ইবাদত করছে, না যিকির করছে। তাকে আপনি সালাম দিলে তার উপর তো পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে না, কিন্তু সালাম দেওয়ার ফলে তার অস্বস্তি হওয়ার ও খারাপ লাগার আশঙ্কা রয়েছে, এ জন্যে সে সময় সালাম করবেন না। এমনিভাবে এক ব্যক্তি তার কাজের জন্যে দ্রুত যাচ্ছে। আপনি বুঝতে পারলেন যে, এখন সে খুব ব্যতিব্যস্ত আছে। আপনি সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তাকে সালাম করলেন, মুসাফাহার জন্যে হাত এগিয়ে দিলেন, এটা আপনি ভালো কাজ করলেন না। এ কারণে যে, তার দ্রুততার কারণে আপনার বোঝা উচিত ছিলো যে, এ লোক ব্যস্ত। এটা সালাম দেওয়া ও মুসাফাহা করার উপযুক্ত সময় নয়। এমন সময় তাকে সালাম দিবেন না, বরং তাকে যেতে দিন। এসব বিষয় মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
📄 টেলিফোনে লম্বা কথা বলা
আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন যে, এখন কষ্ট দেওয়ার আরেকটি যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে, তাহলো টেলিফোন। এর মাধ্যমে যতো ইচ্ছা অন্যকে কষ্ট দাও। আপনি কাউকে টেলিফোন করে লম্বা আলোচনা শুরু করলেন। এদিকে খেয়াল করলেন না যে, সে লোক কোনো কাজে ব্যস্ত আছে কি না। তার কাছে সময় আছে কি না। আমার ওয়ালেদ মাজেদ মাআরেফুল কুরআনে লিখেছেন যে, টেলিফোন করার অন্যতম আদব হলো, কারো সাথে লম্বা কথা বলতে হলে প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করে নাও- আমার একটু লম্বা কথা বলতে হবে, চার-পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। আপনি এখন অবসর থাকলে এখনই বলবো, আর অবসর না থাকলে উপযুক্ত কোনো সময়ের কথা বলে দিন, তখন কথা বলবো। সূরায়ে নূরের তাফসীরের মধ্যে এসব আদব লেখা আছে। সেখানে দেখুন। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব রহ. নিজেও এর উপর আমল করতেন।