📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর একটি ঘটনা

📄 হযরত থানভী রহ.-এর একটি ঘটনা


হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী ছাহেব রহ.-এর একজন খাদেম ছিলেন। তাকে 'ভাই নিয়ায' বলে ডাকা হতো। খুব অভিমানী খাদেম। এজন্যে আগন্তুকরাও তাকে মহব্বত করতো। খানকার মধ্যে সব জিনিসের একটি শৃঙ্খলা ও সময় ছিলো। এজন্যে আগন্তুকদের ধরপাকড়ও করতো। এ কাজ করো না, এ কাজ এভাবে করো ইত্যাদি। এক ব্যক্তি হযরতের কাছে অভিযোগ করে যে, আপনার এই খাদেম খুব মাথায় চড়েছে। অনেক মানুষের উপর রাগ হয় ও ধমক দেয়। এ কথা শুনে হযরতের রাগ হলো। তাকে ডাকালেন এবং ধমক দিলেন যে, কেন ভাই নিয়ায! তোমার এ কি আচরণ! সবাইকে তুমি ধমকাতে থাকো। তোমাকে ধমকানোর অধিকার কে দিলো? উত্তরে ভাই নিয়ায বললেন, হযরত আল্লাহকে ভয় করুন! মিথ্যা বলবেন না। তার উদ্দেশ্য হযরতকে বলা নয়, বরং উদ্দেশ্য ছিলো- যারা আপনার কাছে অভিযোগ করছে তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং মিথ্যা না বলা। ভাই নিয়াযের মুখে হযরত যখন এ কথা শুনলেন, তখন সাথে সাথে মাথা নত করে দিলেন এবং 'আসতাগফিরুল্লাহ' 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলতে বলতে সেখান থেকে চলে গেলেন। দর্শকরা অবাক যে, এ কি হলো! সাধারণ এক খাদেম হযরতকে এমন কথা বললো আর হযরত তাকে কিছু না বলে 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলতে বলতে চলে গেলেন! পরবর্তীতে হযরত নিজে বলেন যে, আসলে আমারই ভুল হয়েছিলো। একদিকের কথা শুনে আমি শাসন করতে আরম্ভ করেছিলাম। আমার উচিত ছিলো প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করা। আপনার সম্পর্কে মানুষ এ অভিযোগ করছে, আপনি কি বলেন? অভিযোগ ঠিক, না ভুল? অপরপক্ষের কথা না শুনে শাসন করা শরীয়তবিরোধী। একাজ যেহেতু শরীয়তবিরোধী ছিলো, এজন্যে আমি ইস্তিগফার করতে করতে সেখান থেকে চলে গিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তির • অন্তরে আল্লাহ তা'আলা হক ও বাতেল পরিমাপ কথার মানদন্ড সৃষ্টি করে দেন, তার অবস্থা এই হয় যে, তার কোনো কথা সীমালঙ্ঘন করে না। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এর বুঝ দান করুন। আমীন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অমুসলিমদেরকেও কষ্ট দেওয়া জায়েয নেই

📄 অমুসলিমদেরকেও কষ্ট দেওয়া জায়েয নেই


এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, মুসলসমান সেই, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদে থাকে। এর দ্বারা অনেক সময় মানুষ বুঝে যে, এ হাদীসে শুধু মুসলমানদেরকে কষ্ট না দেওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে। অমুসলিমকে কষ্ট দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা এ হাদীসের মধ্যে নেই। এ কথা ঠিক নয়। কারণ, হাদীসের মধ্যে মুসলমানের উল্লেখ এ কারণে করা হয়েছে যে, একজন মুসলমান যে পরিবেশে বসবাস করে, সেখানে সাধারণত মুসলমানদের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হয়। এজন্যে হাদীসের মধ্যে বিশেষভাবে মুসলমানদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যথায় এ হুকুম মুসলমান ও অমুসলমান সকলের জন্যে সমান। নিজের দ্বারা কোনো অমুসলমানকেও 'নিরাপত্তা অবস্থায়' কষ্ট দেওয়া জায়েয নেই। তবে কাফেরদের সঙ্গে জিহাদ চলাকালে কাফেরদের শান-শওকত ভাঙ্গার এটা একটা মাধ্যম। এ সময় কষ্ট দেওয়া জায়েয। কিন্তু যেসব কাফেরের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে না, তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার হুকুমও এটাই।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নাজায়েয হওয়ার দলিল

📄 নাজায়েয হওয়ার দলিল


এর দলিল এই যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের শাসনকালে মিসরে থাকতেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ছাড়া পুরো জাতি কুফর ও গোমরাহীর মধ্যে লিপ্ত ছিলো। তখন এই ঘটনা ঘটে যে, এক ইসরাঈলী ও কিবতীর মধ্যে ঝগড়া হয়। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কিবতীকে একটা ঘুষি মারেন, ফলে সে মারা যায়। সেই কিবতী কাফের হওয়া সত্ত্বেও হযরত মূসা আলাইহি সালাম তার মৃত্যুকে নিজের জন্যে গোনাহ সাব্যস্ত করে বলেন,
وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنْبٌ فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ অর্থাৎ, আমার দ্বারা তাদের একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যে কারণে আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, আমি যদি তাদের কাছে যাই তাহলে তারা আমাকে হত্যা করবে। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ঐ কাফেরের হত্যাকে গোনাহ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন জাগে যে, সে তো কাফের ছিলো, আর কাফেরকে হত্যা করা জিহাদের একটি অংশ, তারপরেও তিনি এটাকে গোনাহ আখ্যা দিলেন কেন এবং এর উপর ইসতিগফার করলেন কেন? এর উত্তর এই যে, ঐ কিবতী যদিও কাফের ছিলো, কিন্তু অবস্থা ছিলো নিরাপত্তার। যদি মুসলমান ও কাফের একসঙ্গে বসবাস করে আর নিরাপত্তার অবস্থা হয়, সে অবস্থায় জাগতিক দিক থেকে কাফেরেরও সেই অধিকার রয়েছে, যেই অধিকার রয়েছে একজন মুসলমানের। অর্থাৎ, যেভাবে মুসলমানদেরকে কষ্ট দেওয়া জায়েয নেই, একইভাবে কাফেরকেও কষ্ট দেওয়া জায়েয নেই। কারণ, এটা মানুষের হক। আর মানুষের প্রথম ফরয হলো তাকে মানুষ হতে হবে। মুসলমান হওয়া ও সূফী হওয়া তো পরের বিষয়। প্রথম কাজ হলো মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে হবে। আর মনুষ্যত্বের দাবি হলো, নিজের দ্বারা কাউকে কষ্ট দিবে না। এক্ষেত্রে মুসলমান ও অমুসলমান সকলে সমান।

টিকাঃ
৭. শু'আরা: ১৪

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ওয়াদাখেলাপী করা মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার শামিল

📄 ওয়াদাখেলাপী করা মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার শামিল


কতক কাজ এমন আছে, যাকে মানুষ জিব দ্বারা কষ্ট দেওয়ার মধ্যে গণ্য করে না, অথচ তা মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। যেমন ওয়াদাখেলাফী করা। আপনি কারো নিকট ওয়াদা করেছেন যে, অমুক সময় আপনার নিকট আসবো বা অমুক সময় আপনার কাজ করে দেবো। কিন্তু যথাসময়ে ওয়াদা পুরা করলেন না, যার ফলে সে কষ্ট পেলো। এ ক্ষেত্রে একদিকে তো ওয়াদাখেলাফীর গোনাহ হলো, অপরদিকে অন্যকে কষ্ট দেওয়ার গোনাহও হলো। এটা মুখ দ্বারা কষ্ট দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00