📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রথমে চিন্তা করো, তারপর কথা বলো

📄 প্রথমে চিন্তা করো, তারপর কথা বলো


জিব ব্যবহারের পূর্বে একটু চিন্তা করে নাও। যে কথা আমি বলতে যাচ্ছি, তার পরিণতি কী হবে? অন্যের উপরে এর কী প্রভাব পড়বে? আরো চিন্তা করো যে, যে কথা আমি অন্যকে বলতে যাচ্ছি, অন্য কেউ যদি আমাকে এ কথা বলে, তাহলে আমার উপরে এর কী প্রভাব পড়বে? আমার ভালো লাগবে, না খারাপ। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এই শিক্ষা দিয়েছেন এবং মূলনীতি বলেছেন যে-
أَحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ
'অন্যের জন্যে তাই পছন্দ করো, যা নিজের জন্যে পছন্দ করো।"
আমরা যে দুই ধরনের মাপ বানিয়ে রেখেছি, নিজের জন্যে এক ধরনের মাপ, আর অন্যের জন্যে অন্য রকমের মাপ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিলোপ সাধন করেছেন। এই মানদন্ড যদি আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করে দেন, তাহলে সব ধরনের ঝগড়া বিবাদ ও ফেৎনা-ফাসাদ মিটে যাবে।

টিকাঃ
৫. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২২২৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২০৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৭৪৮

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জিব একটি মহান নেয়ামত

📄 জিব একটি মহান নেয়ামত


জিব আল্লাহ তা'আলার দেওয়া একটি মহান নেয়ামত। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বিনামূল্যে এ নেয়ামত দান করেছেন। আমাদেরকে এর মূল্য পরিশোধ করতে হয়নি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সরকারি এ মেশিন চলতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ না করুন যদি এ নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন এর কদর বুঝে আসবে যে, এটা কতো বড়ো নেয়ামত! যদি প্যারালাইসিসে জিব বন্ধ হয়ে যায়, আর অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, কথা বলতে চায়, মনের কথা অন্যকে জানাতে চায়, কিন্তু জিব চলে না, তখন বুঝে আসবে যে, এ বাকশক্তি কতো বড়ো নেয়ামত! কিন্তু আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ জিবকে কেচির মতো চালিয়ে যাচ্ছি। এ কথা চিন্তা করি না যে, জিব দ্বারা কি কথা বের হচ্ছে? এ পদ্ধতি ঠিক নয়। বরং সঠিক পদ্ধতি হলো, আগে পরিমাপ করো, তারপরে কথা বলো। এই পদ্ধতির উপর যদি আমরা আমল করি, তাহলে এই জিব- যা আমাদের জন্যে জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ সৃষ্টি করছে- ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার উপকরণ সৃষ্টিকারী এবং আখেরাতের ভান্ডার সঞ্চয়কারী হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 চিন্তা করে কথা বলার অভ্যাস গড়ুন

📄 চিন্তা করে কথা বলার অভ্যাস গড়ুন


এক হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষকে সর্বাধিক অধঃমুখী জাহান্নামে পতিতকারী হলো জিব। অর্থাৎ, জাহান্নামে অধঃমুখে পতিত হওয়ার সবচেয়ে বড়ো কারণ জিব।
এ কারণে যখনই এই জিবকে ব্যবহার করবে, তার পূর্বে একটু চিন্তা করে নিবে। কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এর অর্থ এই যে, একটা কথা বলার পূর্বে প্রথমে পাঁচ মিনিট চিন্তা করে তারপর বলতে হবে। তাহলে তো অনেক সময় ব্যয় হয়ে যাবে। আসল কথা এই যে, প্রথম প্রথম যদি মানুষ চিন্তা করে করে কথা বলার অভ্যাস গড়ে, তাহলে ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তখন চিন্তা করতে সময় লাগে না। একমুহূর্তে মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে, একথা বলবো কি বলবো না? তারপর আল্লাহ তা'আলা জিবের মধ্যেই মানদন্ড সৃষ্টি করে দেন। ফলে জিব দ্বারা কেবল হক কথাই বের হয়। ভুল কথা বা এমন কথা মুখ দ্বারা বের হয় না, যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে। অন্যকে কষ্ট দেয়। তবে এই অনুভূতি সৃষ্টি করা শর্ত যে, এ সরকারি মেশিনকে আদবের সাথে ব্যবহার করতে হবে।

টিকাঃ
৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১০০৮

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর একটি ঘটনা

📄 হযরত থানভী রহ.-এর একটি ঘটনা


হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী ছাহেব রহ.-এর একজন খাদেম ছিলেন। তাকে 'ভাই নিয়ায' বলে ডাকা হতো। খুব অভিমানী খাদেম। এজন্যে আগন্তুকরাও তাকে মহব্বত করতো। খানকার মধ্যে সব জিনিসের একটি শৃঙ্খলা ও সময় ছিলো। এজন্যে আগন্তুকদের ধরপাকড়ও করতো। এ কাজ করো না, এ কাজ এভাবে করো ইত্যাদি। এক ব্যক্তি হযরতের কাছে অভিযোগ করে যে, আপনার এই খাদেম খুব মাথায় চড়েছে। অনেক মানুষের উপর রাগ হয় ও ধমক দেয়। এ কথা শুনে হযরতের রাগ হলো। তাকে ডাকালেন এবং ধমক দিলেন যে, কেন ভাই নিয়ায! তোমার এ কি আচরণ! সবাইকে তুমি ধমকাতে থাকো। তোমাকে ধমকানোর অধিকার কে দিলো? উত্তরে ভাই নিয়ায বললেন, হযরত আল্লাহকে ভয় করুন! মিথ্যা বলবেন না। তার উদ্দেশ্য হযরতকে বলা নয়, বরং উদ্দেশ্য ছিলো- যারা আপনার কাছে অভিযোগ করছে তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং মিথ্যা না বলা। ভাই নিয়াযের মুখে হযরত যখন এ কথা শুনলেন, তখন সাথে সাথে মাথা নত করে দিলেন এবং 'আসতাগফিরুল্লাহ' 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলতে বলতে সেখান থেকে চলে গেলেন। দর্শকরা অবাক যে, এ কি হলো! সাধারণ এক খাদেম হযরতকে এমন কথা বললো আর হযরত তাকে কিছু না বলে 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলতে বলতে চলে গেলেন! পরবর্তীতে হযরত নিজে বলেন যে, আসলে আমারই ভুল হয়েছিলো। একদিকের কথা শুনে আমি শাসন করতে আরম্ভ করেছিলাম। আমার উচিত ছিলো প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করা। আপনার সম্পর্কে মানুষ এ অভিযোগ করছে, আপনি কি বলেন? অভিযোগ ঠিক, না ভুল? অপরপক্ষের কথা না শুনে শাসন করা শরীয়তবিরোধী। একাজ যেহেতু শরীয়তবিরোধী ছিলো, এজন্যে আমি ইস্তিগফার করতে করতে সেখান থেকে চলে গিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তির • অন্তরে আল্লাহ তা'আলা হক ও বাতেল পরিমাপ কথার মানদন্ড সৃষ্টি করে দেন, তার অবস্থা এই হয় যে, তার কোনো কথা সীমালঙ্ঘন করে না। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এর বুঝ দান করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00