📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জিব দ্বারা দংশন করার একটি ঘটনা

📄 জিব দ্বারা দংশন করার একটি ঘটনা


আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. বলতেন যে, কতক মানুষের জিবে দংশন থাকে। এরা কারো সাথে কথা বললেই দংশন করে। খোঁটা দেয়। তিরস্কার করে। আপত্তি করে কথা বলে। অথচ এভাবে কথা বলার ফলে অন্তরে গিট পড়ে যায়। তারপর একটি ঘটনা শোনালেন যে, এক ব্যক্তি তার কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেলো। গিয়ে দেখলো তাদের বউ খুব রাগান্বিত অবস্থায় আছে। শাশুড়িকে গাল-মন্দ করছে। শাশুড়িও পাশে বসা ছিলো। লোকটি তার শাশুড়িকে জিজ্ঞাসা করলো- কি হয়েছে? সে এতো রাগ হচ্ছে কেন? উত্তরে শাশুড়ি বললো, এমন কিছুই হয়নি, আমি শুধু দুটি কথা বলেছি, এই ভুলের জন্যে আমাকে ধরা হয়েছে। আর সে নেচে নেচে গেয়ে ফিরছে, রাগ হচ্ছে। লোকটি জিজ্ঞাসা করলো- সেই কথা দুটি কি ছিলো? শাশুড়ি বললো, আমি শুধু এতোটুকু বলেছিলাম যে, তোমার বাপ গোলাম, আর তোমার মা বান্দি। তারপর থেকে সে নেচে বেড়াচ্ছে।
দেখুন! সে শুধু দুটি কথা বলেছিলো। কিন্তু দুটি কথা এমন ছিলো যা মানুষের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। এজন্যে তিরস্কারের আঙ্গিকে কথা বলা পরিবারকে ধ্বংস করে। অন্তরে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। এ থেকে বাঁচা উচিত। সবসময় পরিষ্কার ও সরল কথা বলা উচিত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রথমে চিন্তা করো, তারপর কথা বলো

📄 প্রথমে চিন্তা করো, তারপর কথা বলো


জিব ব্যবহারের পূর্বে একটু চিন্তা করে নাও। যে কথা আমি বলতে যাচ্ছি, তার পরিণতি কী হবে? অন্যের উপরে এর কী প্রভাব পড়বে? আরো চিন্তা করো যে, যে কথা আমি অন্যকে বলতে যাচ্ছি, অন্য কেউ যদি আমাকে এ কথা বলে, তাহলে আমার উপরে এর কী প্রভাব পড়বে? আমার ভালো লাগবে, না খারাপ। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এই শিক্ষা দিয়েছেন এবং মূলনীতি বলেছেন যে-
أَحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ
'অন্যের জন্যে তাই পছন্দ করো, যা নিজের জন্যে পছন্দ করো।"
আমরা যে দুই ধরনের মাপ বানিয়ে রেখেছি, নিজের জন্যে এক ধরনের মাপ, আর অন্যের জন্যে অন্য রকমের মাপ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিলোপ সাধন করেছেন। এই মানদন্ড যদি আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করে দেন, তাহলে সব ধরনের ঝগড়া বিবাদ ও ফেৎনা-ফাসাদ মিটে যাবে।

টিকাঃ
৫. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২২২৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২০৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৭৪৮

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জিব একটি মহান নেয়ামত

📄 জিব একটি মহান নেয়ামত


জিব আল্লাহ তা'আলার দেওয়া একটি মহান নেয়ামত। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বিনামূল্যে এ নেয়ামত দান করেছেন। আমাদেরকে এর মূল্য পরিশোধ করতে হয়নি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সরকারি এ মেশিন চলতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ না করুন যদি এ নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন এর কদর বুঝে আসবে যে, এটা কতো বড়ো নেয়ামত! যদি প্যারালাইসিসে জিব বন্ধ হয়ে যায়, আর অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, কথা বলতে চায়, মনের কথা অন্যকে জানাতে চায়, কিন্তু জিব চলে না, তখন বুঝে আসবে যে, এ বাকশক্তি কতো বড়ো নেয়ামত! কিন্তু আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ জিবকে কেচির মতো চালিয়ে যাচ্ছি। এ কথা চিন্তা করি না যে, জিব দ্বারা কি কথা বের হচ্ছে? এ পদ্ধতি ঠিক নয়। বরং সঠিক পদ্ধতি হলো, আগে পরিমাপ করো, তারপরে কথা বলো। এই পদ্ধতির উপর যদি আমরা আমল করি, তাহলে এই জিব- যা আমাদের জন্যে জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ সৃষ্টি করছে- ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার উপকরণ সৃষ্টিকারী এবং আখেরাতের ভান্ডার সঞ্চয়কারী হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 চিন্তা করে কথা বলার অভ্যাস গড়ুন

📄 চিন্তা করে কথা বলার অভ্যাস গড়ুন


এক হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষকে সর্বাধিক অধঃমুখী জাহান্নামে পতিতকারী হলো জিব। অর্থাৎ, জাহান্নামে অধঃমুখে পতিত হওয়ার সবচেয়ে বড়ো কারণ জিব।
এ কারণে যখনই এই জিবকে ব্যবহার করবে, তার পূর্বে একটু চিন্তা করে নিবে। কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এর অর্থ এই যে, একটা কথা বলার পূর্বে প্রথমে পাঁচ মিনিট চিন্তা করে তারপর বলতে হবে। তাহলে তো অনেক সময় ব্যয় হয়ে যাবে। আসল কথা এই যে, প্রথম প্রথম যদি মানুষ চিন্তা করে করে কথা বলার অভ্যাস গড়ে, তাহলে ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তখন চিন্তা করতে সময় লাগে না। একমুহূর্তে মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে, একথা বলবো কি বলবো না? তারপর আল্লাহ তা'আলা জিবের মধ্যেই মানদন্ড সৃষ্টি করে দেন। ফলে জিব দ্বারা কেবল হক কথাই বের হয়। ভুল কথা বা এমন কথা মুখ দ্বারা বের হয় না, যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে। অন্যকে কষ্ট দেয়। তবে এই অনুভূতি সৃষ্টি করা শর্ত যে, এ সরকারি মেশিনকে আদবের সাথে ব্যবহার করতে হবে।

টিকাঃ
৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১০০৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00