📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মানুষের চলার পথে নামায পড়া

📄 মানুষের চলার পথে নামায পড়া


নামায পড়ার জন্যে মানুষের চলার পথে দাঁড়ানো জায়েয নেই। কতক মানুষ এ ব্যাপারে মোটেই লক্ষ করে না। পুরো মসজিদ খালি পড়ে আছে, কিন্তু পিছনের কাতারে গিয়ে নামাযের জন্যে দাঁড়িয়েছে। নিয়ত বেঁধেছে। এর ফল এই হয় যে, অতিক্রমকারী ব্যক্তিকে লম্বা চক্কর দিয়ে তার পিছন দিয়ে যেতে হবে, না হয় নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে গোনাহে লিপ্ত হতে হবে। এভাবে নামায পড়া জায়েয নেই, গোনাহ।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'মুসলিমে'র মধ্যে 'সালামতী' অন্তর্ভুক্ত

📄 'মুসলিমে'র মধ্যে 'সালামতী' অন্তর্ভুক্ত


যাই হোক, হাদীস শরীফে বলা হয়েছে,
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ 'মুসলমান সেই, যার হাত ও মুখ থেকে মানুষ নিরাপদে থাকে।'" 'মুসলিম' (مُسْلِمٌ) শব্দের মূল ধাতু 'সীন' (س), 'লাম' (ل), 'মীম' (م) এবং 'সালামতী' (سلامتی) শব্দও এ ধাতু এবং এসব অক্ষর দিয়েই গঠিত। এর দ্বারা যেন এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, 'মুসলমান' শব্দের মধ্যে 'সালামতী' তথা 'শান্তি' অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৪৬৭১
৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৫১, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৯১০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২১২২

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'আসসালামু আলাইকুমে'র অর্থ

📄 'আসসালামু আলাইকুমে'র অর্থ


অন্যান্য ধর্মের লোক যখন পরস্পরে সাক্ষাত করে তখন কেউ 'হ্যালো' বলে, কেউ 'গুড নাইট' আর কেউ 'গুড মর্নিং' বলে, কেউ 'নিহাও' এবং কেউ 'আদাব' বলে। বিভিন্ন জাতি সাক্ষাতের সময় অন্যকে সম্বোধন করার জন্যে বিভিন্ন শব্দ নির্বাচন করে রেখেছে। কিন্তু ইসলাম আমাদেরকে এই শিক্ষা দিয়েছে যে, যখন অন্যের সঙ্গে সাক্ষাত করবে তখন বলবে ‘আসসালামু আলাইকুম’। যার অর্থ হলো, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। একদিকে তো এর মধ্যে শান্তির জন্যে দু’আ রয়েছে, পক্ষান্তরে অন্যান্য শব্দের মধ্যে কোনো দু’আ নেই। এ কারণে শ্রোতা ও সম্বোধিত ব্যক্তির এসব শব্দ দ্বারা কোনো উপকার হয় না। কিন্তু আপনি যখন ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বললেন, তখন আপনি সম্বোধিত ব্যক্তিকে তিনটি দু’আ দিলেন। অর্থাৎ, তোমার উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমার উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হোক। একবারের সালামও যদি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় তাহলে সারাজীবনের জন্যে তা যথেষ্ট। এই সালামের মাধ্যমে দ্বিতীয় শিক্ষা এই দেওয়া হয়েছে যে, দুই ব্যক্তির সাক্ষাতের সময় যে জিনিস সর্বাধিক কাম্য, তাহলো এর পক্ষ থেকে ওর জন্যে শান্তি ও নিরাপত্তা। এর দ্বারা যেন ওর কোনো কষ্ট না হয়। একজন মুসলমান সাক্ষাতের সময় সর্বপ্রথম এই পয়গাম দিয়ে থাকে যে, আমি তোমার জন্যে শান্তি ও নিরাপত্তারূপে এসেছি। আমি তোমার জন্যে আযাব ও কষ্টরূপে আসিনি।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মুখ দ্বারা কষ্ট না দেওয়ার অর্থ

📄 মুখ দ্বারা কষ্ট না দেওয়ার অর্থ


এ হাদীসে দুইটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। একটি হলো , আর অপরটি হলো يد। অর্থাৎ, অন্য মুসলমান দুই জিনিস থেকে নিরাপদ থাকবে। এক তার মুখ থেকে, আরেক তার হাত থেকে। মুখ থেকে নিরাপদ থাকার অর্থ এই যে, এমন কোনো কথা সে বলবে না, যার দ্বারা শ্রোতার অন্তর ভেঙ্গে যায়, সে কষ্ট পায়, তার মনে দুঃখ হয়। অন্য মুসলমানকে যদি কোনো বিষয়ে আপত্তি করতেই হয়, তাহলেও এমন শব্দ ব্যবহার করবে, যার দ্বারা তার মনে মোটেই কষ্ট হবে না, বা হলেও সর্বনিম্ন পর্যায়ের হবে। উদাহরণস্বরূপ বলবে যে, আপনার অমুক বিষয় আমার ভালো লাগেনি, বা আপনি অমুক বিষয়টি চিন্তা করে দেখবেন তা সংশোধনযোগ্য, তা শরীয়তসম্মত নয়। কিন্তু এমন কোনো পন্থা অবলম্বন করা, যার দ্বারা তাকে বকা দেওয়া হয়, যেমন গালি দিলো বা ‘তিরস্কার’ করলো, এটা ঠিক নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00