📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 এমন ব্যক্তির জন্য মসজিদে আসা জায়েয নেই

📄 এমন ব্যক্তির জন্য মসজিদে আসা জায়েয নেই


অপরদিকে সকল ফকীহ এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো মানুষ যদি এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হয়, যা মানুষের ঘৃণার কারণ, যার কারণে দুর্গন্ধ আসে, এমন ব্যক্তির জন্যে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়া জায়েয নেই। জামাতের সাথে নামায পড়ার হুকুম তার থেকে রহিত হয়ে যায়। তাই নয়, বরং জামাতের সাথে নামায পড়া তার জন্যে নাজায়েয হয়ে যায়। যদি জামাতের সাথে নামায পড়ে তাহলে গোনাহগার হবে। কারণ, সে মসজিদে জামাতের সাথে নামায পড়লে তার পাশে যারা দাঁড়াবে দুর্গন্ধের কারণে তাদের কষ্ট হবে। লক্ষ করুন! জামাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে শুধু মানুষকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়ার সময় কষ্ট দেওয়া

📄 হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়ার সময় কষ্ট দেওয়া


হাজরে আসওয়াদের ফযীলত ও গুরুত্ব কোন মুসলমান জানে না? হাদীস শরীফে এসেছে- হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়া এমন, যেমন কিনা আল্লাহ তা'আলার সাথে মুসাফাহা করা। হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়া মানুষের গোনাহসমূহকে ঝেড়ে ফেলে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে হাজরে আসওয়াদকে চুমা দিয়েছেন, সাহাবায়ে কেরাম চুমা দিয়েছেন, এটা এর মর্যাদার বিষয়। অপরদিকে বলেছেন যে, হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়ার জন্যে যদি অন্যকে ধাক্কা দিতে হয়, এর ফলে অন্যে কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়া জায়েয নেই, বরং গোনাহ। আপনারা লক্ষ করুন! অন্যকে সামান্যতম কষ্ট দেওয়া থেকেও বাঁচার ব্যাপারে শরীয়ত কি পরিমাণ গুরুত্ব দিয়েছে! এতো ফযীলতপূর্ণ জিনিসকে শুধুমাত্র এজন্যে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যেন আমার দ্বারা অন্য কেউ কষ্ট না পায়। তাহলে নফল ও মুস্তাহাব দ্বারা অন্যকে কষ্ট দেওয়া কি করে জায়েয হতে পারে?

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 উঁচু আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করা

📄 উঁচু আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করা


উদাহরণস্বরূপ, কুরআন পাকের তিলাওয়াত করা একটা ইবাদত। এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যে, এক হরফে দশ নেকী লেখা হয়। তিলাওয়াতের সময় যেন নেকীর ভান্ডার জমা হয়। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, সমস্ত যিকির ও তাসবীহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত। উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করা উত্তম। আস্তে আওয়াজের তুলনায় উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু তিলাওয়াতের কারণে যদি কারো ঘুম বা বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটে তাহলে উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করা জায়েয নেই।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 তাহাজ্জুদের সময় হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উঠার ধরন

📄 তাহাজ্জুদের সময় হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উঠার ধরন


হযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সময় উঠতেন। সারাজীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামায ছাড়েননি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের জন্যে সহজ করে দিয়েছেন, তাহাজ্জুদের নামাযকে আমাদের উপর ওয়াজিব করেননি। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে তাহাজ্জুদের নামায ওয়াজিব ছিলো। তিনি কখনো তাহাজ্জুদের নামায কাযা করেননি। কিন্তু হাদীস শরীফে এসেছে যে, তিনি যখন তাহাজ্জুদের নামাযের জন্যে উঠতেন, তখন আস্তে উঠতেন এবং আস্তে দরজা খুলতেন, যেন তাঁর এ আমলের কারণে তাঁর স্ত্রীর চোখ খুলে না যায়। তার ঘুম নষ্ট না হয়।' পুরো কুরআন ও হাদীস এ বিষয়ে পরিপূর্ণ যে, আমার দ্বারা যেন অন্যে কষ্ট না পায়। পদে পদে শরীয়ত এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px