📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জামাতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্ব

📄 জামাতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্ব


দেখুন! পুরুষদেরকে মসজিদে জামাতের সাথে ফরয নামায আদায়ের কঠোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মন চায় যে, একদিন এমন করি যে, যখন জামাতের সময় হয় তখন কাউকে ইমাম বানিয়ে নিজে বাইরে যাই এবং ঘরে ঘরে গিয়ে দেখি কোন কোন লোক মসজিদে আসেনি। ঘরে বসে আছে। তারপর তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেই। কারণ, তারা আল্লাহর এই ফরয হুকুম আদায়ে ত্রুটি করছে। এ হাদীস দ্বারা জামাতের সাথে নামায পড়ার কতো তাকিদ তা জানা গেলো। সুতরাং কতক ফকীহ জামাতের সাথে নামায পড়াকে সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ বলেছেন, কিন্তু অন্য কতক ফকীহ ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন। জামাতের সাথে নামায আদায় করলে পরিপূর্ণরূপে আদায় হবে, আর একা আদায় করলে ত্রুটিপূর্ণভাবে আদায় হবে। সুতরাং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আমল দ্বারা এর গুরুত্ব ও তাকিদ এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, অন্তিম রোগকালীন যখন তাঁর জন্যে চলাফেরা কঠিন ছিলো এবং হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে ইমাম বানিয়েছিলেন, তখনও দুই ব্যক্তির উপর ভর দিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়ার জন্যে মসজিদে তাশরীফ এনেছেন। এতে করে জামাতের সাথে নামায পড়ার কঠোর তাকিদ জানা যায়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এমন ব্যক্তির জন্য মসজিদে আসা জায়েয নেই

📄 এমন ব্যক্তির জন্য মসজিদে আসা জায়েয নেই


অপরদিকে সকল ফকীহ এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো মানুষ যদি এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হয়, যা মানুষের ঘৃণার কারণ, যার কারণে দুর্গন্ধ আসে, এমন ব্যক্তির জন্যে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়া জায়েয নেই। জামাতের সাথে নামায পড়ার হুকুম তার থেকে রহিত হয়ে যায়। তাই নয়, বরং জামাতের সাথে নামায পড়া তার জন্যে নাজায়েয হয়ে যায়। যদি জামাতের সাথে নামায পড়ে তাহলে গোনাহগার হবে। কারণ, সে মসজিদে জামাতের সাথে নামায পড়লে তার পাশে যারা দাঁড়াবে দুর্গন্ধের কারণে তাদের কষ্ট হবে। লক্ষ করুন! জামাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে শুধু মানুষকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়ার সময় কষ্ট দেওয়া

📄 হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়ার সময় কষ্ট দেওয়া


হাজরে আসওয়াদের ফযীলত ও গুরুত্ব কোন মুসলমান জানে না? হাদীস শরীফে এসেছে- হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়া এমন, যেমন কিনা আল্লাহ তা'আলার সাথে মুসাফাহা করা। হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়া মানুষের গোনাহসমূহকে ঝেড়ে ফেলে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে হাজরে আসওয়াদকে চুমা দিয়েছেন, সাহাবায়ে কেরাম চুমা দিয়েছেন, এটা এর মর্যাদার বিষয়। অপরদিকে বলেছেন যে, হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়ার জন্যে যদি অন্যকে ধাক্কা দিতে হয়, এর ফলে অন্যে কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেওয়া জায়েয নেই, বরং গোনাহ। আপনারা লক্ষ করুন! অন্যকে সামান্যতম কষ্ট দেওয়া থেকেও বাঁচার ব্যাপারে শরীয়ত কি পরিমাণ গুরুত্ব দিয়েছে! এতো ফযীলতপূর্ণ জিনিসকে শুধুমাত্র এজন্যে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যেন আমার দ্বারা অন্য কেউ কষ্ট না পায়। তাহলে নফল ও মুস্তাহাব দ্বারা অন্যকে কষ্ট দেওয়া কি করে জায়েয হতে পারে?

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 উঁচু আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করা

📄 উঁচু আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করা


উদাহরণস্বরূপ, কুরআন পাকের তিলাওয়াত করা একটা ইবাদত। এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যে, এক হরফে দশ নেকী লেখা হয়। তিলাওয়াতের সময় যেন নেকীর ভান্ডার জমা হয়। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, সমস্ত যিকির ও তাসবীহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত। উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করা উত্তম। আস্তে আওয়াজের তুলনায় উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু তিলাওয়াতের কারণে যদি কারো ঘুম বা বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটে তাহলে উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করা জায়েয নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00