📄 আমি মানুষ দেখেছি
যাই হোক, মুসলমান অমুসলমানের কথা পরে, আলেম অনালেম এবং আবেদ-অনাবেদের কথা তো অনেক পরে। প্রথম বিষয় তো হলো মানুষকে মানুষ হতে হবে। মানুষ হওয়ার জন্যে ইসলামী মুআশারাত অনেক জরুরী। যাতে তার দ্বারা অন্য কেউ সামান্যও কষ্ট না পায়। তার হাত দ্বারা, মুখ দ্বারা ও কাজ দ্বারা কেউ কষ্ট পাবে না। একবার হযরত থানভী রহ, নিতান্ত বিনয়ের সাথে বললেন যে, পাকা ও পুরা একশ' ভাগ মানুষ তো আমিও হতে পারিনি, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ মানুষ দেখেছি যে, মানুষ কেমন হয়। কোনো বলদ এসে আমাকে ধোঁকা দিতে পারবে না যে, আমি মানুষ। তাই কখনো যদি মানুষ হতে চাই, তাহলে মানুষই হবো, মানুষের ধোঁকায় বলদ হবো না।
📄 অন্যকে কষ্ট থেকে বাঁচাও
দেখুন! নফল নামায, মুস্তাহাব আমল, যিকির-আযকার ও তাসবীহের বিষয় এরকম যে, যদি করো তাহলে ইনশাআল্লাহ আখেরাতে তার সওয়াব পাবে, আর যদি না করো আখেরাতে ধরা হবে না যে, অমুক নফল কেন পড়োনি? যিকির-আযকার কেন করোনি? তবে এসব আমলের ফযীলত রয়েছে। অবশ্যই করা উচিত। করলে আখেরাতে সওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে ধরা হবে না। অপরদিকে তোমার দ্বারা যদি অন্য কেউ কষ্ট পায় তাহলে এটা কবীরা গোনাহ হলো। এখন আখেরাতে ধরা হবে যে, এমন কাজ কেন করেছিলে? এ কারণেই কোনো সময়ে যদি নফলের মধ্যে আর ইসলামী মুআশারাতের বিধানের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়, হয় নফল নামায পড়ো, না হয় মুআশারাতের হুকুমের উপর আমল করে অন্যকে কষ্ট থেকে বাঁচাও, এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান এই যে, নফল ছেড়ে দাও এবং শরীয়তের ঐ বিধানের উপর আমল করো।
📄 জামাতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্ব
দেখুন! পুরুষদেরকে মসজিদে জামাতের সাথে ফরয নামায আদায়ের কঠোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মন চায় যে, একদিন এমন করি যে, যখন জামাতের সময় হয় তখন কাউকে ইমাম বানিয়ে নিজে বাইরে যাই এবং ঘরে ঘরে গিয়ে দেখি কোন কোন লোক মসজিদে আসেনি। ঘরে বসে আছে। তারপর তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেই। কারণ, তারা আল্লাহর এই ফরয হুকুম আদায়ে ত্রুটি করছে। এ হাদীস দ্বারা জামাতের সাথে নামায পড়ার কতো তাকিদ তা জানা গেলো। সুতরাং কতক ফকীহ জামাতের সাথে নামায পড়াকে সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ বলেছেন, কিন্তু অন্য কতক ফকীহ ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন। জামাতের সাথে নামায আদায় করলে পরিপূর্ণরূপে আদায় হবে, আর একা আদায় করলে ত্রুটিপূর্ণভাবে আদায় হবে। সুতরাং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আমল দ্বারা এর গুরুত্ব ও তাকিদ এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, অন্তিম রোগকালীন যখন তাঁর জন্যে চলাফেরা কঠিন ছিলো এবং হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে ইমাম বানিয়েছিলেন, তখনও দুই ব্যক্তির উপর ভর দিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়ার জন্যে মসজিদে তাশরীফ এনেছেন। এতে করে জামাতের সাথে নামায পড়ার কঠোর তাকিদ জানা যায়।
📄 এমন ব্যক্তির জন্য মসজিদে আসা জায়েয নেই
অপরদিকে সকল ফকীহ এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো মানুষ যদি এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হয়, যা মানুষের ঘৃণার কারণ, যার কারণে দুর্গন্ধ আসে, এমন ব্যক্তির জন্যে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়া জায়েয নেই। জামাতের সাথে নামায পড়ার হুকুম তার থেকে রহিত হয়ে যায়। তাই নয়, বরং জামাতের সাথে নামায পড়া তার জন্যে নাজায়েয হয়ে যায়। যদি জামাতের সাথে নামায পড়ে তাহলে গোনাহগার হবে। কারণ, সে মসজিদে জামাতের সাথে নামায পড়লে তার পাশে যারা দাঁড়াবে দুর্গন্ধের কারণে তাদের কষ্ট হবে। লক্ষ করুন! জামাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে শুধু মানুষকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।