📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 পশু তিন প্রকার

📄 পশু তিন প্রকার


ইমাম গাযালী রহ. 'ইহইয়াউল উলূমে' লিখেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে তিন ধরনের প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। এক. এক ধরনের প্রাণী সেগুলো, যেগুলো মানুষের উপকার করে। খুব কমই তাদের দ্বারা ক্ষতি হয়। যেমন গরু, ছাগল ইত্যাদি। এসব পশু দুধ দিয়ে তোমাদের উপকার করে। দুধ দেওয়া বন্ধ করলে তাকে জবাই করে তোমরা গোশত খাও। তোমাদের উপকারের জন্যে এভাবে তারা নিজেদের জান দিয়ে দেয়। এসব প্রাণী ক্ষতি করে না। দুই. দ্বিতীয় প্রকারের প্রাণী সেগুলো, যেগুলো কেবলই কষ্ট দেয়। বাহাত সেগুলোর কোনো উপকার নেই। যেমন সাপ, বিচ্ছু, হিংস্র প্রাণী ইত্যাদি। এগুলো কষ্টদায়ক প্রাণী। কোনো মানুষকে পেলে এরা কষ্ট দেয়, দংশন করে। তিন. তৃতীয় প্রকারের প্রাণী সেগুলো, যেগুলো না কষ্ট দেয়, না উপকার করে। যেমন বনে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ। শিয়াল, গেদোড় ইত্যাদি। এগুলোর দ্বারা মানুষ বিশেষ কোনো উপকারও লাভ করে না, আবার বিশেষ কোনো ক্ষতিও হয় না।
এই তিন শ্রেণির প্রাণীর বর্ণনা দিয়ে ইমাম গাযালী রহ. মানুষকে লক্ষ করে বলেন, হে মানুষ! তুমি আশরাফুল মাখলুকাত। সমস্ত প্রাণীর উপর তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। তুমি যদি মানুষ হতে না চাও, বরং পশু হতে চাও তাহলে কমপক্ষে প্রথম প্রকারের পশু হও। যেগুলো অন্যের উপকার তো করে কিন্তু ক্ষতি করে না। যেমন গরু, বকরী ইত্যাদি। আর যদি তার থেকেও নিচে নামতে চাও তাহলে তৃতীয় শ্রেণির প্রাণী হও, যেগুলো না ক্ষতি করে, না উপকার। আর যদি তুমি অন্যের উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি করতে আরম্ভ করো, তাহলে সাপ, বিচ্ছু ও হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমি মানুষ দেখেছি

📄 আমি মানুষ দেখেছি


যাই হোক, মুসলমান অমুসলমানের কথা পরে, আলেম অনালেম এবং আবেদ-অনাবেদের কথা তো অনেক পরে। প্রথম বিষয় তো হলো মানুষকে মানুষ হতে হবে। মানুষ হওয়ার জন্যে ইসলামী মুআশারাত অনেক জরুরী। যাতে তার দ্বারা অন্য কেউ সামান্যও কষ্ট না পায়। তার হাত দ্বারা, মুখ দ্বারা ও কাজ দ্বারা কেউ কষ্ট পাবে না। একবার হযরত থানভী রহ, নিতান্ত বিনয়ের সাথে বললেন যে, পাকা ও পুরা একশ' ভাগ মানুষ তো আমিও হতে পারিনি, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ মানুষ দেখেছি যে, মানুষ কেমন হয়। কোনো বলদ এসে আমাকে ধোঁকা দিতে পারবে না যে, আমি মানুষ। তাই কখনো যদি মানুষ হতে চাই, তাহলে মানুষই হবো, মানুষের ধোঁকায় বলদ হবো না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্যকে কষ্ট থেকে বাঁচাও

📄 অন্যকে কষ্ট থেকে বাঁচাও


দেখুন! নফল নামায, মুস্তাহাব আমল, যিকির-আযকার ও তাসবীহের বিষয় এরকম যে, যদি করো তাহলে ইনশাআল্লাহ আখেরাতে তার সওয়াব পাবে, আর যদি না করো আখেরাতে ধরা হবে না যে, অমুক নফল কেন পড়োনি? যিকির-আযকার কেন করোনি? তবে এসব আমলের ফযীলত রয়েছে। অবশ্যই করা উচিত। করলে আখেরাতে সওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে ধরা হবে না। অপরদিকে তোমার দ্বারা যদি অন্য কেউ কষ্ট পায় তাহলে এটা কবীরা গোনাহ হলো। এখন আখেরাতে ধরা হবে যে, এমন কাজ কেন করেছিলে? এ কারণেই কোনো সময়ে যদি নফলের মধ্যে আর ইসলামী মুআশারাতের বিধানের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়, হয় নফল নামায পড়ো, না হয় মুআশারাতের হুকুমের উপর আমল করে অন্যকে কষ্ট থেকে বাঁচাও, এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান এই যে, নফল ছেড়ে দাও এবং শরীয়তের ঐ বিধানের উপর আমল করো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জামাতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্ব

📄 জামাতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্ব


দেখুন! পুরুষদেরকে মসজিদে জামাতের সাথে ফরয নামায আদায়ের কঠোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মন চায় যে, একদিন এমন করি যে, যখন জামাতের সময় হয় তখন কাউকে ইমাম বানিয়ে নিজে বাইরে যাই এবং ঘরে ঘরে গিয়ে দেখি কোন কোন লোক মসজিদে আসেনি। ঘরে বসে আছে। তারপর তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেই। কারণ, তারা আল্লাহর এই ফরয হুকুম আদায়ে ত্রুটি করছে। এ হাদীস দ্বারা জামাতের সাথে নামায পড়ার কতো তাকিদ তা জানা গেলো। সুতরাং কতক ফকীহ জামাতের সাথে নামায পড়াকে সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ বলেছেন, কিন্তু অন্য কতক ফকীহ ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন। জামাতের সাথে নামায আদায় করলে পরিপূর্ণরূপে আদায় হবে, আর একা আদায় করলে ত্রুটিপূর্ণভাবে আদায় হবে। সুতরাং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আমল দ্বারা এর গুরুত্ব ও তাকিদ এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, অন্তিম রোগকালীন যখন তাঁর জন্যে চলাফেরা কঠিন ছিলো এবং হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে ইমাম বানিয়েছিলেন, তখনও দুই ব্যক্তির উপর ভর দিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়ার জন্যে মসজিদে তাশরীফ এনেছেন। এতে করে জামাতের সাথে নামায পড়ার কঠোর তাকিদ জানা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00