📄 সন্ধি করানোর গুরুত্ব
হযরত শেখ সাদী রহ.-এর প্রসিদ্ধ উক্তি আপনারা শুনে থাকবেন যে,
دروغ مصلحت آمیز به از راستی فتنه انگیز 'যে মিথ্যার দ্বারা দুই মুসলমানের মধ্যে সন্ধি স্থাপন উদ্দেশ্য হয়, তা এমন সত্য থেকে ভালো, যার দ্বারা ফেত্না সৃষ্টি হয়।'
কিন্তু এর দ্বারা স্পষ্ট মিথ্যা বলা উদ্দেশ্য নয়। বরং দুই অর্থবিশিষ্ট কথা বলা উদ্দেশ্য। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ ধরনের মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন, এতেই আপনি অনুমান করুন যে, দুই মুসলমানের মাঝে বিবাদ নিরসনের গুরুত্ব কতো বেশি।
📄 এক সাহাবীর ঘটনা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْتَ خُصُومٍ بِالْبَابِ عَالِيَةٍ أَصْوَاتُهُمَا، وَإِذَا أَحَدُهُمَا يَسْتَوْضِعُ الْآخَرَ وَيَسْتَرْفِقُهُ فِي شَيْءٍ، وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لَا أَفْعَلُ ، فَخَرَجَ عَلَيْهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَيْنَ الْمُتَأَتِي عَلَى اللَّهِ لَا يَفْعَلُ الْمَعْرُوفَ فَقَالَ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَهُ أَيُّ ذَلِكَ أَحَبَّ
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন যে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ছিলেন। ইতিমধ্যে বাহির থেকে দুই ব্যক্তির ঝগড়ার আওয়াজ শুনলেন। ঝগড়া ছিলো এই বিষয়ে যে, তাদের একজন অপরজনের নিকট থেকে ধার নিয়েছিলো। পাওনাদার দেনাদারের কাছে দেনার দাবি করছিলো। দেনাদার বলছিলো যে, এখন আমি পুরা ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না, তুমি কিছু ঋণ নাও, আর কিছু ছেড়ে দাও। এই ঝগড়ার মাঝে তাদের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। ঝগড়ার মাঝে ঋণদাতা এ কথা বলে কসম খায় যে, খোদার কসম! আমি ঋণ কমাবো না। ইতিমধ্যে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ঘরের বাইরে চলে আসেন। বাইরে এসে তিনি জিজ্ঞাসা করেন ঐ ব্যক্তি কোথায়, যে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে যে, আমি নেক কাজ করবো না? তখন সে ব্যক্তি সম্মুখে অগ্রসর হলো এবং বললো যে, আমি হে আল্লাহর রাসূল। সাথে সাথে একথাও বললো যে, এ ব্যক্তি যে পরিমাণ ইচ্ছা ঋণের টাকা কম দিক, আমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি।”
টিকাঃ
১১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫০৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯১১, মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, হাদীস নং ১১৩৩
📄 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা
এই ছিলো সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা। মাত্র আবেগে উত্তেজিত ছিলো। আওয়াজ উঁচু হচ্ছিলো। সে কম করতে বলছিলো, এ কম করতে প্রস্তুত ছিলো না। না কমানোর জন্যে কসমও খেয়েছিলো যে, আমি কম করবো না।
এর পর হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ঐ সাহাবীকে ঋণ কমানোর নির্দেশও দেননি, পরামর্শও দেননি। শুধু বলেছেন, ঐ ব্যক্তি কোথায়, যে এই কসম খাচ্ছে যে, আমি নেক কাজ করবো না? একথা শোনার সাথে সাথে তিনি নরম হয়ে যান। সব উত্তেজনা ঠান্ডা হয়ে যায়। ঝগড়া মিটে যায়।
কারণ এই ছিলো যে, সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সামনে এ পরিমাণ অনুগত ছিলেন যে, রসূলের মুখে এ কথা শোনার পর আর সামনে বাড়ার সাধ্য ছিলো না। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় এই আবেগের কিছু অংশ আমাদেরকে দান করুন, সমস্ত মুসলমানের মাঝে পারস্পরিক বিরোধ ও ঝগড়া মিটিয়ে দিন এবং সমস্ত মুসলমানকে পরস্পরের হক আদায় করার তওফীক দান করুন। আমীন।