📄 স্পষ্ট মিথ্যা জায়েয নেই
ওলামায়ে কেরাম বলেন যে, এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাষায় মিথ্যা বলা জায়েয নেই। তবে যদি এমন অস্পষ্ট কথা বলে, যার বাহ্যিক অর্থ তো ঘটনার বিপরীত, কিন্তু মনে মনে এমন অর্থ উদ্দেশ্য নেয়, যা ঘটনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, দুই লোকের মধ্যে ঘৃণা ও বিবাদ চলছে। এ ওর নাম শুনতে রাজি না, ও এর নাম শুনতে রাজি না। এখন এক ব্যক্তি তাদের একজনের নিকট গেলো, আর সে অন্য জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুরু করলো যে, সে তো আমার এমন দুশমন। তখন এ ব্যক্তি বললো যে, তুমি তো তার নিন্দা করছো, অথচ সে তোমার কল্যাণকামী। কারণ, আমি নিজে তাকে তোমার জন্যে দু'আ করতে শুনেছি।
এখানে লক্ষ করার বিষয় হলো, সে সরাসরি দু'আ করতে শোনেনি, কিছু মনে মনে সে উদ্দেশ্য নিয়েছে যে, সে তাকে এভাবে দু'আ করতে শুনেছে যে,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ হে আল্লাহ! সমস্ত মুমিনকে আপনি মাফ করে দিন।
সুতরাং এও যেহতু একজন মুসলমান, তাই এ দু'আর মধ্যে এও অন্তর্ভুক্ত আছে। এখন সামনের ব্যক্তি তো মনে করবে যে, আমার নাম নিয়ে দু'আ করেছে। এমন কথা বলা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং ইনশাআল্লাহ এর জন্যেও সওয়াব পাবে।
📄 মুখ দিয়ে ভালো কথা বের করো
যখন আল্লাহ তা'আলার কোনো বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে দুই মুসলমান ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে এমন কথা ঢেলে দেন, যার দ্বারা তার অন্তর থেকে অন্যের ঘৃণা দূর হয়ে যায়। তাই এমন কথা বলো না যে, তাদের মাঝে ঘৃণার আগুন তো আগে থেকেই প্রজ্বলিত ছিলো, এখন তুমি গিয়ে এমন কথা শুনালে, যা আগুনের মধ্যে তেল দেওয়ার কাজ করলো। যার ফলে ঘৃণা দূর হওয়ার পরিবর্তে আগুন আরো জ্বলে উঠলো। এটা অত্যন্ত ছোটলোকী কাজ। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এটা খুবই অপছন্দ।
📄 সন্ধি করানোর গুরুত্ব
হযরত শেখ সাদী রহ.-এর প্রসিদ্ধ উক্তি আপনারা শুনে থাকবেন যে,
دروغ مصلحت آمیز به از راستی فتنه انگیز 'যে মিথ্যার দ্বারা দুই মুসলমানের মধ্যে সন্ধি স্থাপন উদ্দেশ্য হয়, তা এমন সত্য থেকে ভালো, যার দ্বারা ফেত্না সৃষ্টি হয়।'
কিন্তু এর দ্বারা স্পষ্ট মিথ্যা বলা উদ্দেশ্য নয়। বরং দুই অর্থবিশিষ্ট কথা বলা উদ্দেশ্য। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ ধরনের মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন, এতেই আপনি অনুমান করুন যে, দুই মুসলমানের মাঝে বিবাদ নিরসনের গুরুত্ব কতো বেশি।
📄 এক সাহাবীর ঘটনা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْتَ خُصُومٍ بِالْبَابِ عَالِيَةٍ أَصْوَاتُهُمَا، وَإِذَا أَحَدُهُمَا يَسْتَوْضِعُ الْآخَرَ وَيَسْتَرْفِقُهُ فِي شَيْءٍ، وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لَا أَفْعَلُ ، فَخَرَجَ عَلَيْهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَيْنَ الْمُتَأَتِي عَلَى اللَّهِ لَا يَفْعَلُ الْمَعْرُوفَ فَقَالَ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَهُ أَيُّ ذَلِكَ أَحَبَّ
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন যে, একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ছিলেন। ইতিমধ্যে বাহির থেকে দুই ব্যক্তির ঝগড়ার আওয়াজ শুনলেন। ঝগড়া ছিলো এই বিষয়ে যে, তাদের একজন অপরজনের নিকট থেকে ধার নিয়েছিলো। পাওনাদার দেনাদারের কাছে দেনার দাবি করছিলো। দেনাদার বলছিলো যে, এখন আমি পুরা ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না, তুমি কিছু ঋণ নাও, আর কিছু ছেড়ে দাও। এই ঝগড়ার মাঝে তাদের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। ঝগড়ার মাঝে ঋণদাতা এ কথা বলে কসম খায় যে, খোদার কসম! আমি ঋণ কমাবো না। ইতিমধ্যে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ঘরের বাইরে চলে আসেন। বাইরে এসে তিনি জিজ্ঞাসা করেন ঐ ব্যক্তি কোথায়, যে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে যে, আমি নেক কাজ করবো না? তখন সে ব্যক্তি সম্মুখে অগ্রসর হলো এবং বললো যে, আমি হে আল্লাহর রাসূল। সাথে সাথে একথাও বললো যে, এ ব্যক্তি যে পরিমাণ ইচ্ছা ঋণের টাকা কম দিক, আমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি।”
টিকাঃ
১১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫০৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯১১, মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, হাদীস নং ১১৩৩