📄 ইসলামের কারিশমা
وَ عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَنْمِي خَيْرًا أَوْ يَقُولُ خَيْرًا
হযরত উম্মে কুলসুম একজন মহিলা সাহাবী। তিনি উকবা ইবনে আবি মুয়াইতের মেয়ে। উকবা ইবনে আবি মুয়াইত ছিলো হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানের দুশমন। চরম পর্যায়ের মুশরিক। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার মধ্যে আবু জেহেল ও উমাইয়া ইবনে খালফের মতো কঠোর মুশরিক যারা ছিলো, এও তাদের অন্যতম ছিলো। এ এমন এক ব্যক্তি ছিলো, যার জন্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ-দু'আ করেছিলেন। তিনি বদ-দু'আ করেছিলেন যে,
اللَّهُمَّ سَلِّطْ عَلَيْهِ كَلْبًا مِنْ كِلَا بِكَ
'হে আল্লাহ! আপনার হিংস্র প্রাণীসমূহের মধ্যে থেকে কোনো এক হিংস্র প্রাণী এর উপর চাপিয়ে দিন।'১০
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বদ-দু'আ কবুল হয়েছিলো। এক সিংহের আক্রমণে তার মৃত্যু হয়। বাপ তো ছিলো ইসলামের এমন শত্রু, কিন্তু মেয়ে হযরত উম্মে কুলসুম রাযি.-কে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের দৌলত দান করেন, তিনি সাহাবী হন।
টিকাঃ
- বুখারী, হাদীস নং ২৫০৮ ও ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৬৭৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৭০৬ - সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৯২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭১৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৬০১১
১০. ফাতহুর বারী - খন্ডঃ ৪, পৃঃ ৩৯
📄 এমন ব্যক্তি মিথুক নয়
যাই হোক, হযরত উম্মে কুলসুম বলেন, আমি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের জন্যে ভালো কোনো কথা এদিক থেকে সেদিক লাগায় বা একজনের কথা অপরজনের নিকট এমনভাবে পৌছায় যে, তার অন্তরে মূল্যবোধ জাগে এবং ঘৃণা দূর হয়, এমন ব্যক্তি মিথুক নয়।
অর্থাৎ, সে ব্যক্তি এমন কথা বলছে, যা বাহ্যত সত্য নয়। কিন্তু একথা সে এজন্যে বলছে, যাতে তার অন্তর থেকে অন্য মুসলমানের খারাবী বের হয়ে যায়। পরস্পরের অন্তরের মলীনতা দূর হয়ে যায়। ঘৃণা শেষ হয়ে যায়। এ উদ্দেশ্যে যদি সে এমন কথা বলে তাহলে সে মিথুকদের মধ্যে গণ্য হবে না।
📄 স্পষ্ট মিথ্যা জায়েয নেই
ওলামায়ে কেরাম বলেন যে, এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাষায় মিথ্যা বলা জায়েয নেই। তবে যদি এমন অস্পষ্ট কথা বলে, যার বাহ্যিক অর্থ তো ঘটনার বিপরীত, কিন্তু মনে মনে এমন অর্থ উদ্দেশ্য নেয়, যা ঘটনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, দুই লোকের মধ্যে ঘৃণা ও বিবাদ চলছে। এ ওর নাম শুনতে রাজি না, ও এর নাম শুনতে রাজি না। এখন এক ব্যক্তি তাদের একজনের নিকট গেলো, আর সে অন্য জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুরু করলো যে, সে তো আমার এমন দুশমন। তখন এ ব্যক্তি বললো যে, তুমি তো তার নিন্দা করছো, অথচ সে তোমার কল্যাণকামী। কারণ, আমি নিজে তাকে তোমার জন্যে দু'আ করতে শুনেছি।
এখানে লক্ষ করার বিষয় হলো, সে সরাসরি দু'আ করতে শোনেনি, কিছু মনে মনে সে উদ্দেশ্য নিয়েছে যে, সে তাকে এভাবে দু'আ করতে শুনেছে যে,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ হে আল্লাহ! সমস্ত মুমিনকে আপনি মাফ করে দিন।
সুতরাং এও যেহতু একজন মুসলমান, তাই এ দু'আর মধ্যে এও অন্তর্ভুক্ত আছে। এখন সামনের ব্যক্তি তো মনে করবে যে, আমার নাম নিয়ে দু'আ করেছে। এমন কথা বলা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং ইনশাআল্লাহ এর জন্যেও সওয়াব পাবে।
📄 মুখ দিয়ে ভালো কথা বের করো
যখন আল্লাহ তা'আলার কোনো বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে দুই মুসলমান ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে এমন কথা ঢেলে দেন, যার দ্বারা তার অন্তর থেকে অন্যের ঘৃণা দূর হয়ে যায়। তাই এমন কথা বলো না যে, তাদের মাঝে ঘৃণার আগুন তো আগে থেকেই প্রজ্বলিত ছিলো, এখন তুমি গিয়ে এমন কথা শুনালে, যা আগুনের মধ্যে তেল দেওয়ার কাজ করলো। যার ফলে ঘৃণা দূর হওয়ার পরিবর্তে আগুন আরো জ্বলে উঠলো। এটা অত্যন্ত ছোটলোকী কাজ। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এটা খুবই অপছন্দ।