📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমি এর মধ্যে বরকত দেখছি না

📄 আমি এর মধ্যে বরকত দেখছি না


দারুল উলূমের ব্যবস্থাপনা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত শুনে হযরত ওয়ালেদ ছাহেবকে বললেন, হযরত! এ আপনি কেমন ফয়সালা করছেন? এতো বড়ো জায়গা তাও শহরের মাঝখানে এমন জায়গা পাওয়া তো কঠিন। এ জায়গা আপনি পেয়েছেন, তা আপনার দখলেও আছে, আপনি এমন জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন! হযরত ওয়ালেদ ছাহেব উত্তরে বললেন যে, আমি ব্যবস্থাপনা পরিষদকে এ জায়গা ছাড়তে বাধ্য করবো না। কারণ, ব্যবস্থাপনা পরিষদ মূলত এই জায়গার মালিক হয়ে গিয়েছে। আপনারা চাইলে এখানে মাদরাসা করুন। আমি এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবো না। কারণ, যে মাদরাসার ভিত্তি ঝগড়ার উপর রাখা হচ্ছে, ঐ মাদরাসার মধ্যে আমি বরকত দেখছি না। তারপর হাদীস শোনালেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হকের উপর থেকে ঝগড়া ছেড়ে দিবে তাকে জান্নাতের মাঝখানে ঘর দেওয়ার জন্যে আমি দায়িত্ব নিবো। আপনারা বলছেন যে, শহরের মাঝখানে এমন জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে, কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, আমি তাকে জান্নাতের মাঝখানে ঘর দেওয়াবো। একথা বলে ঐ জায়গা ছেড়ে দেন। বর্তমান যুগে এর দৃষ্টান্ত পাওয়া কঠিন যে, এমন ঝগড়ার কারণে কোনো ব্যক্তি এতো বড়ো জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার উপর যার পরিপূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, সেই এ কাজ করতে পারে। এরপর আল্লাহ তা'আলা এমন মেহেরবানী করলেন যে, কয়েক মাস পরেই ঐ জমির থেকে কয়েকগুণ বড়ো জমি দান করলেন। যেখানে বর্তমানে দারুল উলূম প্রতিভাত। এটা তো আমি আপনাদের সামনে একটা দৃষ্টান্ত বর্ণনা করলাম। অনাবশ্যক হযরত ওয়ালেদ হাফেযকে আমি সারাজীবন এ হাদীসের উপর যথাসাধ্য আমল করতে দেখেছি। হ্যাঁ, তবে যদি অন্য ব্যক্তি ঝগড়ার মধ্যে জড়িয়েই ফেলে, প্রতিহত করা ছাড়া কোনো উপায় না থাকে, তবে সে ভিন্ন কথা। আমরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে বসে যাই যে, অমুক সময় অমুক ব্যক্তি এ কথা বলেছিল, অমুক এই করেছিলো, এখন সবসমস্যার জন্য তা অন্তরে বসিয়ে নেই। ঝগড়া দাঁড়িয়ে যায়। আজ আমাদের পুরো সমাজে এই জিনিস ধ্বংস করছে। ঝগড়া মানুষের দ্বীনকে ম্লান করে। মানুষের অন্তরকে বরবাদ করে। এজন্য আল্লাহ্র ওয়াস্তে পরস্পরে ঝগড়া মিটিয়ে দিন। যদি দুই মুসলমানের মধ্যে ঝগড়া দেখেন, তাহলে তাদের মধ্যে আপোস করার পুরোপুরি চেষ্টা করুন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আপোস করানো ছদকা

📄 আপোস করানো ছদকা


হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানবদেহে যতোগুলো গিরা আছে, প্রত্যেক গিরার পক্ষ থেকে প্রতি দিন একটা করে সদকা করা মানুষের দায়িত্বে ওয়াজিব। কারণ, প্রত্যেক গিরা একটি স্বতন্ত্র নেয়ামত। আর প্রত্যেক নেয়ামতের শোকর আদায় করা ওয়াজিব। একজন মানুষের দেহের মধ্যে ৩৬০টি গিরা রয়েছে। এজন্য প্রত্যেক মানুষের দায়িত্বে প্রতিদিন ৩৬০টি সদকা করা ওয়াজিব। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা এই সদকাকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, মানুষের ছোট ছোট আমলকে সদকা বলে গণ্য করেছেন। যাতে করে যে কোনোভাবে ৩৬০ সংখ্যা পুরা হয়ে যায়। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই মানুষের মাঝে ঝগড়া ও মনোমালিন্য ছিলো, তুমি তাদের মাঝে আপোস করিয়ে দিলে এই আপোস করানো একটা সদকা। এমনিভাবে একজন মানুষ তার ঘোড়া বা বাহনে আরোহণ করতে চাচ্ছিল, কিন্তু কোনো কারণে সে আরোহণ করতে পারছিলো না, তুমি তাকে আরোহণ করতে সাহায্য করলে, এই সাহায্য করাও একটা সদকা, বা এক ব্যক্তি তার বাহনে মালপত্র বোঝাই করতে চাচ্ছে, কিন্তু সে বোঝাই করতে পারছে না, তুমি তাকে সাহায্য করলে, তার বাহনে উঠিয়ে দিলে, এটাও একটা সদকা। এমনিভাবে কাউকে কোনো ভালো কথা বললে- যেমন কোনো বেদনাহত লোককে তুমি সান্ত্বনামূলক কথা বললে বা এমন কোনো কথা কাউকে বললে, যার দ্বারা ঐ মুসলমানের অন্তর খুশি হলো, এটাও সদকা। এমনিভাবে যখন তুমি মসজিদের যা ও তখন মসজিদের দিকে যাতায়াত পা ফেলো, তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ সদকা বলে গণ্য হয়। এমনিভাবে পথে কোনো কষ্টদায়ক জিনিস পড়ে আছে, যার দ্বারা মানুষ কষ্ট পাওয়ার আশংকা রয়েছে, তুমি রাস্তা থেকে তা সরিয়ে ফেললে, এটাও একটা সদকা।”
যাই হোক, এ হাদীসের মধ্যে সর্বপ্রথম যেই জিনিসকে সদকা বলে গণ্য করা হয়েছে, তা হলো দু'জন মুসলমানের মধ্যে আপোস করানো। এর দ্বারা জানা গেলো যে, আপোস করানো সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইসলামের কারিশমা

📄 ইসলামের কারিশমা


وَ عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَنْمِي خَيْرًا أَوْ يَقُولُ خَيْرًا
হযরত উম্মে কুলসুম একজন মহিলা সাহাবী। তিনি উকবা ইবনে আবি মুয়াইতের মেয়ে। উকবা ইবনে আবি মুয়াইত ছিলো হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানের দুশমন। চরম পর্যায়ের মুশরিক। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার মধ্যে আবু জেহেল ও উমাইয়া ইবনে খালফের মতো কঠোর মুশরিক যারা ছিলো, এও তাদের অন্যতম ছিলো। এ এমন এক ব্যক্তি ছিলো, যার জন্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ-দু'আ করেছিলেন। তিনি বদ-দু'আ করেছিলেন যে,
اللَّهُمَّ سَلِّطْ عَلَيْهِ كَلْبًا مِنْ كِلَا بِكَ
'হে আল্লাহ! আপনার হিংস্র প্রাণীসমূহের মধ্যে থেকে কোনো এক হিংস্র প্রাণী এর উপর চাপিয়ে দিন।'১০
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বদ-দু'আ কবুল হয়েছিলো। এক সিংহের আক্রমণে তার মৃত্যু হয়। বাপ তো ছিলো ইসলামের এমন শত্রু, কিন্তু মেয়ে হযরত উম্মে কুলসুম রাযি.-কে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের দৌলত দান করেন, তিনি সাহাবী হন।

টিকাঃ
- বুখারী, হাদীস নং ২৫০৮ ও ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৬৭৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৭০৬ - সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৯২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭১৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৬০১১
১০. ফাতহুর বারী - খন্ডঃ ৪, পৃঃ ৩৯

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এমন ব্যক্তি মিথুক নয়

📄 এমন ব্যক্তি মিথুক নয়


যাই হোক, হযরত উম্মে কুলসুম বলেন, আমি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের জন্যে ভালো কোনো কথা এদিক থেকে সেদিক লাগায় বা একজনের কথা অপরজনের নিকট এমনভাবে পৌছায় যে, তার অন্তরে মূল্যবোধ জাগে এবং ঘৃণা দূর হয়, এমন ব্যক্তি মিথুক নয়।
অর্থাৎ, সে ব্যক্তি এমন কথা বলছে, যা বাহ্যত সত্য নয়। কিন্তু একথা সে এজন্যে বলছে, যাতে তার অন্তর থেকে অন্য মুসলমানের খারাবী বের হয়ে যায়। পরস্পরের অন্তরের মলীনতা দূর হয়ে যায়। ঘৃণা শেষ হয়ে যায়। এ উদ্দেশ্যে যদি সে এমন কথা বলে তাহলে সে মিথুকদের মধ্যে গণ্য হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00