📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ঝগড়া কীভাবে দূর হবে

📄 ঝগড়া কীভাবে দূর হবে


এখন প্রশ্ন হলো, এ ঝগড়া মিটবে কীভাবে? হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আশরাফ আলী ছাহেব রহ.-এর একটি মালফ্য আপনাদেরকে শুনাচ্ছি, যা অতি বড়ো সোনালী মূলনীতি। এই মূলনীতির উপর যদি মানুষ আমল করে, তাহলে আশা করা যায় পঁচাত্তর শতাংশ ঝগড়া তাৎক্ষণিকভাবে মিটে যাবে। হযরত বলেন,
'একটি কাজ এই করো যে, দুনিয়াদারদের থেকে আশা করা ছেড়ে দাও। যখন আশা ছেড়ে দিবে, তখন ইনশাআল্লাহ অন্তরে কখনো ঝগড়া ও বিদ্বেষের চিন্তা জাগবে না।'
অন্যদের প্রতি যেসব অভিযোগ-আপত্তি জন্মায়, যেমন অমুক ব্যক্তির এমন করা উচিত ছিলো সে তা করেনি, আমার যেভাবে সম্মান করা উচিত ছিলো সেভাবে সম্মান করেনি, যেভাবে আমার আদর-আপ্যায়ন করা দরকার ছিলো তা করেনি, বা অমুকের প্রতি আমি অমুক দয়া করেছিলাম সে তার বদলা দেয়নি ইত্যাদি। এসব অভিযোগ এজন্যে জন্মায় যে, অন্যের প্রতি আশা-প্রত্যাশা পোষণ করেছে। যখন সে আশা পুরা হয়নি, তখন পরিণতিতে অন্তরে গিট লেগেছে যে, সে আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। অন্তরে অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল বলেছেন যে, কারো প্রতি তোমার কোনো অভিযোগ সৃষ্টি হলে তুমি তাকে গিয়ে বলো যে, তোমার প্রতি আমার এ অভিযোগ রয়েছে। তোমার এ কাজ আমার ভালো লাগেনি। আমার পছন্দ হয়নি, আমার খারাপ লেগেছে। একথা বলে নিজের মনকে পরিষ্কার করে নাও। বর্তমানে কথা বলে মন ছাপ করার রীতি শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন ঐ বিষয় অন্তরে পোষণ করে বসে থাকে। পরবর্তীতে যখন আরেক ব্যাপার দেখা দেয় তখন আরেকটি গিট লাগে। সুতরাং আস্তে আস্তে এ গিট অন্তরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরিণতিতে তা বিদ্বেষের আকার ধারণ করে। বিদ্বেষের ফলে পরস্পরে শত্রুতা সৃষ্টি হয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আশা রেখো না, ঝগড়া শেষ হয়ে যাবে

📄 আশা রেখো না, ঝগড়া শেষ হয়ে যাবে


এজন্যে হযরত থানভী রহ. বলেন, এভাবে ঝগড়ার শিকড় কেটে দাও যে, কারো থেকে কোনো আশাই রেখো না। মানুষের প্রতি কেন আশা পোষণ করছো যে, অমুক এই দিবে, অমুক এই কাজ করবে, সব আশা কেবল আল্লাহ তা'আলার প্রতি রাখো, যিনি খালেক ও মালেক। বরং দুনিয়ার মানুষের প্রতি কেবল অকল্যাণের আশা রাখো যে, তাদের থেকে সবসময় অকল্যাণই পাওয়া যাবে। অকল্যাণের আশা করার পর যদি ভালো কিছু কখনো পাও তাহলে আল্লাহর শোক আদায় করো যে, হে আল্লাহ! আপনার মেহেরবানী, আপনার দয়া। আর যদি অকল্যাণ পাও তাহলে চিন্তা করো যে, আমার তো পূর্ব থেকেই অকল্যাণের আশা ছিলো। তাহলে এর ফলে অন্তরে অভিযোগ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে না। তখন শত্রুতাও সৃষ্টি হবে না, ঝগড়াও হবে না। তাই কারো থেকে কোনো আশাই রেখো না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বিনিময় গ্রহণের নিয়ত করো না

📄 বিনিময় গ্রহণের নিয়ত করো না


এমনিভাবে হযরত থানভী রহ. আরেকটি মূলনীতি এই বলেছেন যে, তুমি যখন অন্য কারো সঙ্গে কোনো সদাচরণ করবে, তখন শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্যে করবে। যেমন কাউকে সাহায্য করলে বা কারো জন্যে সুপারিশ করলে বা কারো সঙ্গে সদব্যবহার করলে বা কাউকে সম্মান করলে, তখন একথা চিন্তা করো যে, আমি আল্লাহকে খুশি করার জন্যে এ আচরণ করছি। নিজের আখেরাত গড়ার জন্যে এ কাজ করছি। এ নিয়তে যখন সদাচরণ করবে তখন তার বিনিময়ের আশাই থাকবে না। এবার মনে করুন! আপনি এক ব্যক্তির সঙ্গে সদাচরণ করলেন, কিন্তু সে আপনার সঙ্গে সদাচরণের বদলায় সদাচরণ করলো না। কখনোই আপনার দয়াকে স্বীকার করলো না। এমতাবস্থায় আপনার অন্তরে অবশ্যই এ চিন্তা জাগবে যে, আমি তার সঙ্গে সদাচরণ করলাম আর সে আমার সঙ্গে উল্টা অসৎ ব্যবহার করলো। কিন্তু আপনি যদি তার সঙ্গে শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে সদাচরণ করে থাকেন, তাহলে এমতাবস্থায় তার অসদাচরণে আপনার অভিযোগ সৃষ্টি হবে না। কারণ, আপনার উদ্দেশ্য ছিলো কেবল আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। এই দুই মূলনীতির উপর যদি আমরা সকলে আমল করি, তাহলে পারস্পরিক সকল ঝগড়া মিটে যাবে এবং এ হাদীসের উপরও আমল হবে, যা এখন আমি আপনাদের সামনে পাঠ করেছি। যার মধ্যে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হকের উপর থেকে বিবাদ ত্যাগ করবে, আমি তাকে জান্নাতের মাঝখানে ঘর দেওয়ার দায়িত্ব নিবো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত মুফতী ছাহেব রহ.-এর বিরাট কুরবানী

📄 হযরত মুফতী ছাহেব রহ.-এর বিরাট কুরবানী


আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.- কে সারা জীবন এ হাদীসের উপর আমল করতে দেখেছি। বিবাদ নিরসনের জন্যে তিনি বড়ো থেকে বড়ো হক ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছেন। তাঁর এমন একটি ঘটনা শুনাচ্ছি, বর্তমানে মানুষের যার উপর বিশ্বাস করা কঠিন মনে হয়। এই দারুল উলূম, যা এখন কৌরঙ্গীতে প্রতিষ্ঠিত, প্রথমে নানকওয়াড়ায় ছোট্ট একটি ভবনে প্রতিষ্ঠিত ছিলো। কাজ বেড়ে গেলে ঐ জায়গা দারুল উলুমের জন্যে সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। বিস্তৃত জায়গার প্রয়োজন পড়ে। সুতরাং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এমন সাহায্য লাভ হয় যে, একেবারে শহরের মাঝখানে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক বড়ো ও বিস্তৃত জায়গা পাওয়া যায়। যেখানে বর্তমানে ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত আছে। হযরত আল্লামা শাব্বীর আহমাদ ওসমানী রহ.-এর মাযারও সেখানে রয়েছে। এই বিস্তৃত জায়গা দারুল উলুম করাচীর নামে এলোট হয়। জায়গার কাগজ হাতে চলে আসে। জায়গা দখলে চলে আসে। একটি কক্ষও বানিয়ে দেওয়া হয়। টেলিফোনের সংযোগও দেওয়া হয়। তারপর দারুল উলূমের ভিত্তিপ্রস্তর রাখার সময় একটা সমাবেশও করা হয়। যার মধ্যে পুরো পাকিস্তানের বড়ো বড়ো আলেম তাশরীফ আনেন। ঐ সমাবেশের সময় কিছু লোক ঝগড়া শুরু করে যে, এই জায়গা দারুল উলূমের পাওয়া উচিত ছিলো না, বরং অমুকের পাওয়া উচিত ছিলো। ঘটনাক্রমে ঝগড়ার মধ্যে তারা এমন কিছু বড়ো ব্যক্তিত্বকেও শামিল করে নেয়, যারা ছিলেন হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের জন্যে সম্মানের পাত্র। ওয়ালেদ ছাহেব তো প্রথমে যে কোনোভাবে ঝগড়া মিটাতে চাইলেন, কিন্তু ঝগড়া শেষ হলো না। ওয়ালেদ ছাহেব চিন্তা করলেন, যে মাদরাসার সূচনাই হচ্ছে ঝগড়ার মাধ্যমে, তার মধ্যে কী বরকত হবে? সুতরাং হযরত ওয়ালেদ ছাহেব তার এই ফয়সালা শুনিয়ে দিলেন যে, আমি এ জায়গা ছেড়ে দিচ্ছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00