📄 হযরত থানভী রহ.-এর বাকশক্তি
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী ছাহেব রহ.-কে আল্লাহ তা'আলা এমন বাকশক্তি দান করেছিলেন যে, কোনো ব্যক্তি যে কোনো বিষয়ে বাহাস করতে এলে তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে নিরুত্তর করে দিতেন। আমাদের হযরত ডাক্তার আব্দুল হাই ছাহেব রহ. ঘটনা শুনিয়েছিলেন যে, একবার হযরত থানভী রহ. অসুস্থ ছিলেন, বিছানায় শোয়া ছিলেন, তখন তিনি ইরশাদ করেন,
'আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার রহমতের উপর ভরসা করে বলছি যে, সারা দুনিয়ার সকল বুদ্ধিমান একত্র হয়ে এলে এবং ইসলামের যে কোনো সাধারণ মাসআলার উপর কোনো আপত্তি করলে এ অধম ইনশাআল্লাহ দুই মিনিটের মধ্যে তাদেরকে নিরুত্তর করতে সক্ষম। তারপর বলেন, আমি তো একজন সাধারণ তালিবে ইলম, আলেমদের শান তো অনেক উর্ধ্বে।' সুতরাং বাস্তবেই হযরত থানভী রহ.-এর নিকট কেউ কোনো বিষয়ে কথা বললে সে কয়েক মিনিটের অধিক অগ্রসর হতে পারতো না।
📄 'মুনাযারা' দ্বারা সাধারণত উপকার হয় না
হযরত থানভী রহ. নিজেই বলেন যে, আমি যখন দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে দরসে নিযামীর নেসাব শেষ করি, তখন আমার বাতেল ফেরকার সঙ্গে 'মুনাযারা' করার আগ্রহ ছিলো। সুতরাং কখনো শিয়াদের সঙ্গে 'মুনাযারা' হতো, কখনো গাইরে মুকাল্লিদদের সঙ্গে, কখনো বেরেলবীদের সঙ্গে, কখনো হিন্দুদের সঙ্গে এবং কখনো শিখদের সঙ্গে 'মুনাযারা' হতো। নতুন নতুন পাশ করেছি, এজন্যে খুব আবেগ-উদ্দীপনা নিয়ে এসব 'মুনাযারা' করতে থাকি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি 'মুনাযারা' থেকে তওবা করি। কারণ, আমার অভিজ্ঞতা হলো যে, এর দ্বারা উপকার হয় না, বরং নিজের আধ্যাত্মিক অবস্থার উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এজন্যে আমি তা ছেড়ে দেই। মোটকথা, আমাদের বড়োরা যখন হক ও বাতিলের মধ্যেও 'মুনাযারা' করা পছন্দ করেননি, তখন নিজের প্রবৃত্তির চাহিদার ভিত্তিতে বা জাগতিক বিষয়ের ভিত্তিতে 'মুনাযারা' ও ঝগড়া-বিবাদ করাকে কি করে পছন্দ করবেন? ঝগড়া আমাদের অন্তরকে খারাপ করে দেয়।
📄 জান্নাতের মধ্যে ঘরের দায়িত্ব
একহাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
وَمَنْ تَرَكَ الْبِرَاءَ وَهُوَ مُحِقٌّ بُنِي لَهُ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ
'আমি ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতের মাঝে ঘর দেওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছি, যে হকের উপর থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া ছেড়ে দেয়।' অর্থাৎ, যে ব্যক্তি হকের উপর থাকা সত্ত্বেও এ কথা চিন্তা করে যে, আমি হকের বিষয়ে অধিক দাবি খাড়া করলে ঝগড়া হবে, তাই এই হক ছেড়ে দিচ্ছি, যাতে ঝগড়া মিটে যায়। তার জন্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, আমি তাকে জান্নাতের মাঝখানে ঘর দেওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছি।
টিকাঃ
৭. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৯১৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৫০
📄 ঝগড়ার ফল
আজ আমাদের সমাজ ঝগড়ায় ভরে গিয়েছে। এর বেবরকতী ও অন্ধকার পুরো সমাজে এ পরিমাণ ছেয়ে গিয়েছে যে, ইবাদতের নূর অনুভূত হয় না। ছোট ছোট বিষয়ে ঝগড়া চলছে। কোথাও পরিবারে পরিবারে ঝগড়া, কোথাও স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, কোথাও বন্ধুদের মধ্যে ঝগড়া, কোথাও ভাই-বেরাদারের মধ্যে ঝগড়া, কোথাও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ঝগড়া, এমনকি ওলামায়ে কেরামের মাঝে পরস্পরে ঝগড়া হচ্ছে, দ্বীনদারদের মাঝে ঝগড়া হচ্ছে, পরিণতিতে দ্বীনের নূর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।