📄 আল্লাহর দরবারে আমল পেশ করা
সহীহ মুসলিমের একটি হাদীসে আছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবারে সমস্ত মানুষের আমল আল্লাহ তা'আলার দরবারে পেশ করা হয় এবং বেহেশতের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
আল্লাহর সামনে তো সবসময় বান্দার আমল আছেই। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক ব্যক্তির আমল সম্পর্কে অবগত। এমনকি অন্তরের ভেদ সম্পর্কেও জানেন যে, কার অন্তরে কোন সময় কোন চিন্তা জাগ্রত হচ্ছে। তাই প্রশ্ন জাগে যে, তাহলে এ হাদীসের অর্থ কি যে, আল্লাহ তা'আলার সামনে আমল পেশ করা হয়।
মূলত আল্লাহ তা'আলা সবকিছুই জানেন, কিন্তু তিনি তাঁর রাজত্বের এই ব্যবস্থাপনা রেখেছেন যে, এ দুই দিন মানুষের আমল পেশ করা হয়, যাতে তার ভিত্তিতে তাদের জান্নাতী বা জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা করা যায়।
টিকাঃ
৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৫২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৭০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৬৯২, মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, হাদীস নং ১৪১৪
📄 ঐ ব্যক্তিকে আটকে দেওয়া হোক
মোটকথা, আমল পেশ করার পর যখন কোনো মানুষ সম্পর্কে জানা যায় যে, এ ব্যক্তি এ সপ্তাহে ঈমানের হালতে ছিলো এবং সে আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করেনি, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমি আজকে তাঁর জন্যে ক্ষমা ঘোষণা করলাম। অর্থাৎ, এ ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে না, বরং কোনো এক সময় অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কারণে তার জন্যে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হোক। কিন্তু একই সাথে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন যে,
إِلَّا امْرَأَكَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِهَا
'কিন্তু যেই দুই ব্যক্তির মাঝে পরস্পরে বিদ্বেষ রয়েছে তাকে আটকিয়ে দেওয়া হোক। তাদের জান্নাতী হওয়ার ফয়সালা আমি এখনই করছি না, যতোক্ষণ না তাদের মাঝে পরস্পরে সন্ধি স্থাপন হয়।'
📄 বিদ্বেষ থেকে কুফরীর আশঙ্কা
প্রশ্ন হলো, এ ব্যক্তির জান্নাতী হওয়ার ঘোষণা কেন আটকিয়ে দেওয়া হলো? আসল কথা হলো, যে ব্যক্তি গোনাহ করবে আইন অনুসারে সে তার গোনাহের শাস্তি ভোগ করবে তারপর জান্নাতে যাবে, কিন্তু অন্য যতো গোনাহ আছে সেগুলো সম্পর্কে এ আশঙ্কা নেই যে, ঐ গোনাহ তাকে কুফরী ও শিরকে লিপ্ত করবে। এজন্যে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, যেহেতু ঈমানদার তাই তার জান্নাতী হওয়ার ঘোষণা এখনই দিয়ে দাও। তার যতো গোনাহ আছে, সেগুলো থেকে যদি সে তওবা করে তাহলে মাফ হয়ে যাবে, আর যদি তওবা না করে তাহলে বেশির চে' বেশি গোনাহের শাস্তি ভোগ করে জান্নাতে যাবে। কিন্তু শত্রুতা ও বিদ্বেষ এমন গোনাহ, যার সম্পর্কে আশঙ্কা রয়েছে যে, এই গোনাহ তাকে কুফর ও শিরকের মধ্যে লিপ্ত করে দিবে এবং তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্যে তার জান্নাতী হওয়ার ফয়সালা ঐ সময় পর্যন্তের জন্যে আটকিয়ে দাও, যতোক্ষণ পর্যন্ত এরা পরস্পরে সন্ধি স্থাপন না করে। এর দ্বারা আপনারা অনুমান করতে পারেন যে, মুসলমানদের পারস্পরিক বিদ্বেষ ও ঘৃণা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট কি পরিমাণ অপছন্দনীয়।
📄 শবে বরাতেও মাফ হবে না
শবে বরাত সম্পর্কে এ হাদীস আপনারা শুনে থাকবেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, এ রাতে আল্লাহ তা'আলার রহমত মানুষের দিকে ধাবিত হয়। এ রাতে আল্লাহ তা'আলা কাল্ব গোত্রের ছাগল পালের দেহে যে পরিমাণ পশম রয়েছে, সে পরিমাণ মানুষকে মাফ করেন। কিন্তু দুই ব্যক্তি এমন রয়েছে, তাদেরকে এ রাতেও মাফ করা হয় না। এক ঐ ব্যক্তি, যার অন্তরে অন্য মুসলমানের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা রয়েছে। যে রাতে আল্লাহ তা'আলার রহমতের দরজা উন্মুক্ত থাকে, রহমতের বাতাস চলতে থাকে, তখনও ঐ ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত থেকে বঞ্চিত থাকে। দ্বিতীয় ঐ ব্যক্তি, যে তার কাপড়ের অংশ গিরার নিচে ঝুলিয়ে দেয়, তাকেও ক্ষমা হবে না।
টিকাঃ
. ৪. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৩৫৩