📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ঝগড়া দ্বীনকে মুণ্ডন করে

📄 ঝগড়া দ্বীনকে মুণ্ডন করে


কুরআন-সুন্নাহ নিয়ে চিন্তা করলে এ কথা সুস্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট মুসলমানদের পারস্পরিক ঝগড়া কোনো মূল্যেই পছন্দনীয় নয়। মুসলমানদের মাঝে লড়াই-ঝগড়া হোক, পরস্পরে টানাপোড়েন হোক বা মনোমালিন্য হোক, তা আল্লাহ তা'আলার কাছে পছন্দনীয় নয়, বরং হুকুম হলো পারস্পারিক মনোমালিন্য ঝগড়া-বিবাদ, ঘৃণা ও শত্রুতা যে কোনোভাবে যথাসাধ্য বিলুপ্ত করো। এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বলেন, আমি কি তোমাদেরকে সেই জিনিসের কথা বলবো, যা নামায, রোযা ও সদকা থেকে উত্তম? তিনি ইরশাদ করলেন-
إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ وَفَسَادُ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ
'মানুষের মধ্যে আপোস করানো। কারণ পরস্পরে ঝগড়া মুণ্ডনকারী।" অর্থাৎ, মুসলমানদের পরস্পরে ঝগড়া দেখা দিলে, বিপর্যয় সৃষ্টি হলে, একে অপরের নাম নিতে না চাইলে, একে অপরের সাথে কথা বন্ধ করে দিলে, বরং পরস্পরে হাত ও মুখ দ্বারা ঝগড়া শুরু করলে এসব জিনিস মানুষের দ্বীনকে মুণ্ডন করে দেয়। অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে দ্বীনের যেই জযবা আছে, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের যেই প্রেরণা আছে, তা এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরিশেষে মানুষের দ্বীন বরবাদ হয়ে যায়। এজন্যে বলেছেন যে, পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ থেকে বাঁচো।

টিকাঃ
১. হুজরাত: ১০
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৩৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৭৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৬২৩৬

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্তরকে ধ্বংসকারী জিনিস

📄 অন্তরকে ধ্বংসকারী জিনিস


বুযুর্গগণ বলেছেন, পরস্পরে ঝগড়া-বিবাদ করা এবং একে অপরের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করা মানুষের অন্তরকে এতো বেশি ধ্বংস করে যে, এরচে' অধিক ধ্বংসকারী আর কিছু নেই। মানুষ নামাযও পড়ছে, রোযাও রাখছে, তাসবীহও পাঠ করছে, ওযীফা ও নফল নামাযও পাঠ করছে, এতো সব কিছুর সাথে সাথে সে ঝগড়া-বিবাদও করছে, তাহলে এ ঝগড়া-বিবাদ তার অন্তরকে বরবাদ করে দিবে। তাকে অন্তঃসার শূন্য করে ছাড়বে। কারণ এ ঝগড়ার ফলে মানুষের অন্তরে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে। আর বিদ্বেষের বৈশিষ্ট্য হলো তা মানুষকে ন্যায়-নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে দেয় না। ফলে ঐ মানুষ অন্যের প্রতি কখনো হাত দ্বারা বাড়াবাড়ি করবে, কখনো মুখ দ্বারা সীমালঙ্ঘন করবে, কখনো অন্যের আর্থিক হক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আল্লাহর দরবারে আমল পেশ করা

📄 আল্লাহর দরবারে আমল পেশ করা


সহীহ মুসলিমের একটি হাদীসে আছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবারে সমস্ত মানুষের আমল আল্লাহ তা'আলার দরবারে পেশ করা হয় এবং বেহেশতের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
আল্লাহর সামনে তো সবসময় বান্দার আমল আছেই। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক ব্যক্তির আমল সম্পর্কে অবগত। এমনকি অন্তরের ভেদ সম্পর্কেও জানেন যে, কার অন্তরে কোন সময় কোন চিন্তা জাগ্রত হচ্ছে। তাই প্রশ্ন জাগে যে, তাহলে এ হাদীসের অর্থ কি যে, আল্লাহ তা'আলার সামনে আমল পেশ করা হয়।
মূলত আল্লাহ তা'আলা সবকিছুই জানেন, কিন্তু তিনি তাঁর রাজত্বের এই ব্যবস্থাপনা রেখেছেন যে, এ দুই দিন মানুষের আমল পেশ করা হয়, যাতে তার ভিত্তিতে তাদের জান্নাতী বা জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা করা যায়।

টিকাঃ
৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৫২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৭০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৬৯২, মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, হাদীস নং ১৪১৪

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ঐ ব্যক্তিকে আটকে দেওয়া হোক

📄 ঐ ব্যক্তিকে আটকে দেওয়া হোক


মোটকথা, আমল পেশ করার পর যখন কোনো মানুষ সম্পর্কে জানা যায় যে, এ ব্যক্তি এ সপ্তাহে ঈমানের হালতে ছিলো এবং সে আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করেনি, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমি আজকে তাঁর জন্যে ক্ষমা ঘোষণা করলাম। অর্থাৎ, এ ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে না, বরং কোনো এক সময় অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কারণে তার জন্যে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হোক। কিন্তু একই সাথে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন যে,
إِلَّا امْرَأَكَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِهَا
'কিন্তু যেই দুই ব্যক্তির মাঝে পরস্পরে বিদ্বেষ রয়েছে তাকে আটকিয়ে দেওয়া হোক। তাদের জান্নাতী হওয়ার ফয়সালা আমি এখনই করছি না, যতোক্ষণ না তাদের মাঝে পরস্পরে সন্ধি স্থাপন হয়।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00