📄 কোনো ব্যক্তি নবী থেকে সম্মুখে অগ্রসর হতে পারে না
এবার আপনারা লক্ষ করুন! এই তিন সাহাবী যে সংকল্প করেছেন, তা ছিলো নেক কাজের সংকল্প। আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের সংকল্প। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন যে, এসব সাহাবী এই সংকল্প করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং বললেন,
أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِاللَّهِ وَأَتْقَاكُمْ بِهِ
আল্লাহ তা'আলার যে পরিমাণ মারেফত আমার অর্জন হয়েছে, এ পরিমাণ মারেফত পৃথিবীর আর কারো অর্জন হয়নি। আল্লাহ তা'আলার যে পরিমাণ ভয় ও তাকওয়া তিনি আমাকে দান করেছেন, পৃথিবীর অন্য কারো সে পরিমাণ তাকওয়া লাভ হয়নি। এতদসত্ত্বেও আমি ঘুমাই এবং রাতে ওঠে নামাযও পড়ি। কোনো দিন রোযা রাখি, কোনো দিন রাখি না। আমি স্ত্রীদের বিয়ে করেছি। মনে রাখবে! এ সুন্নাতের মধ্যেই তোমাদের মুক্তি。
فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
'কেউ যদি আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হয়, সে আমার দলভুক্ত থাকবে না।'
এ হাদীস দ্বারা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছেন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত উন্নতি ও সফলতা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। কেউ যদি চায় যে, আমি নবীর থেকে সম্মুখে অগ্রসর হবো, মনে রাখবেন! তা কখনো হতে পারে না。
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৬৭৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৮৭, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩১৬৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬১৮৮
📄 হক আদায় করা সুন্নাতের অনুসরণ
অন্য এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যেমনিভাবে ইবাদত ফরয করেছেন এবং ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, তেমনিভাবে তোমাদের উপরে কিছু হকও আরোপ করেছেন। তোমাদের জানেরও তোমাদের উপর হক রয়েছে, তোমাদের স্ত্রীরও তোমাদের উপর হক রয়েছে, তোমাদের চোখেরও তোমাদের উপর হক রয়েছে, তোমাদের সঙ্গী-সাথীদেরও তোমাদের উপর হক রয়েছে।
তোমরা যদি এসব হক আদায় করো, তাহলে সুন্নাতের অনুসরণ হবে। আর যদি দুনিয়াবিরাগীদের মতো বনে-জঙ্গলে গিয়ে বসে যাও, আর বলো যে, আমি দুনিয়াকে ত্যাগ করে এখানে 'আল্লাহ' 'আল্লাহ' করবো, তাহলে এটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ হবে না। যাই হোক, এ আয়াতের তৃতীয় অর্থ এই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না, বরং যে কাজকে যে সীমার মধ্যে করার নির্দেশ তাঁরা দিয়েছেন, সে কাজকে ঐ সীমার মধ্যেই রাখো, তারচে' সম্মুখে অগ্রসর হয়ো না。
টিকাঃ
৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৩৭
📄 অনুসরণের নাম দ্বীন
মনে রাখবেন! নিজের ইচ্ছা ও নিজের আগ্রহ পুরা করার নাম দ্বীন নয়, বরং দ্বীন হলো অনুসরণের নাম। আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাতের অনুসরণের নাম দ্বীন। এজন্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যখন যে হুকুম আসবে এবং তাঁর অনুসরণের যে দাবি হবে, সেটাই কল্যাণকর, সেটাই আনুগত্য। তার মধ্যে তোমাদের দুনিয়া আখেরাতের সফলতা। নিজের পক্ষ থেকে কোনো পথ নির্ধারণ করে চলতে আরম্ভ করা যে, আমি তো এটা করবো, এটা ঠিক নয়। তাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। কেউ যদি একথা চিন্তা করে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করেছেন তা করতে আমার লজ্জা বোধ হয়, তাহলে সে যেন দাবি করছে যে, আমার মর্যাদা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উর্ধ্বে, আমি বড়ো মানুষ, এজন্যে আমি এ কাজ করি না। নাউযুবিল্লাহ। এটাও মূলত হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। এর বিভিন্ন দৃষ্টান্ত সাহাবায়ে কেরামের ঘটনায় পাওয়া যায়。
📄 বৃষ্টির সময় ঘরে নামায পড়ার ছাড়
একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিলেন যে, যদি বৃষ্টি হয়, আর কাদা এতো বেশি হয় যে, মানুষের চলতে কষ্ট হয়, পদস্খলনের আশঙ্কা হয়, কাপড় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হয়, তখন শরীয়ত মসজিদের পরিবর্তে ঘরে নামায পড়ার ছাড় দিয়েছে।'
এখন আমরা শহরে বাস করি। যেখানে গলি ও সড়ক পাকা। এ কারণে বৃষ্টি হলে এতো কাদা হয় না যে, মানুষের চলা-ফেরা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু যেখানে কাঁচা বাড়ি ও কাঁচা গলি রয়েছে, সেখানে আজও এ হুকুম বিদ্যমান যে, এমতাবস্থায় জামাত মাফ হয়ে যায়। ঘরে নামায পড়া জায়েয হয়ে যায়。
টিকাঃ
৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৯৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৫০৫০