📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সুন্নাতের অনুসরণে সফলতা

📄 সুন্নাতের অনুসরণে সফলতা


তৃতীয় যেই হুকুম এ আয়াত থেকে বের হয় তা এই যে, তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের উন্নতি ও সফলতার ভিত্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণের মধ্যে। তাঁর সুন্নাতের উপর আমল করো। তাঁর থেকে সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। অর্থাৎ, তিনি যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, হকদারের হক দিয়েছেন, নিজের নফসের হক আদায় করেছেন, নিজের পরিবার-পরিজনের হক আদায় করেছেন, সঙ্গী-সাথীদের হক আদায় করেছেন, বন্ধু-বান্ধবের হক আদায় করেছেন, সেভাবে তোমরাও হক আদায় করে জীবন অতিবাহিত করো। এমন যেন না হয় যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আগে বাড়ার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কেবল হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের উপর আমল করো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 তিন সাহাবীর ইবাদতের ইচ্ছা

📄 তিন সাহাবীর ইবাদতের ইচ্ছা


এক হাদীসে এসেছে যে, কয়েকজন সাহাবী বসা ছিলেন। তারা পরস্পরে এই আলোচনা আরম্ভ করেন যে, আল্লাহ তা'আলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এতো উঁচু মাকাম দান করেছেন যে, অন্য কোনো ব্যক্তি সে পর্যন্ত পৌছতেই পারবে না। তিনি যাবতীয় গোনাহ থেকে নিষ্পাপ। তাঁর কোনো গোনাহ হতে পারে না। আর যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ও তাহলে কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা দিয়েছেন যে,
لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ
আল্লাহ তা'আলা তাঁর পূর্বাপরের সব ভুল-ভ্রান্তি মাফ করে দিয়েছেন। এজন্যে তাঁর বেশি ইবাদত করার প্রয়োজন নেই। তাই তিনি রাতে ঘুমান এবং দিনে রোযা ছাড়েন। কিন্তু আমাদের তো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো জান্নাতের সুসংবাদ লাভ হয়নি। তাই আমাদের তাঁর চেয়ে অধিক ইবাদত করা উচিত। এ আলোচনার পর তাদের মধ্যে থেকে একজন সাহাবী বললেন, আমি আজ থেকে রাতে ঘুমাবো না। সারারাত তাহাজ্জুদ পড়বো। দ্বিতীয় সাহাবী বললেন, আমি সারাজীবন রোযা রাখবো। কোনো দিন রোযা ছাড়বো না। তৃতীয় সাহাবী বললেন, আমি সারাজীবন বিয়ে করবো না। যাতে আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে ইবাদতে মগ্ন থাকতে পারি। ইবাদতের ব্যাপারে গাফেল না হই。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কোনো ব্যক্তি নবী থেকে সম্মুখে অগ্রসর হতে পারে না

📄 কোনো ব্যক্তি নবী থেকে সম্মুখে অগ্রসর হতে পারে না


এবার আপনারা লক্ষ করুন! এই তিন সাহাবী যে সংকল্প করেছেন, তা ছিলো নেক কাজের সংকল্প। আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের সংকল্প। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন যে, এসব সাহাবী এই সংকল্প করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং বললেন,
أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِاللَّهِ وَأَتْقَاكُمْ بِهِ
আল্লাহ তা'আলার যে পরিমাণ মারেফত আমার অর্জন হয়েছে, এ পরিমাণ মারেফত পৃথিবীর আর কারো অর্জন হয়নি। আল্লাহ তা'আলার যে পরিমাণ ভয় ও তাকওয়া তিনি আমাকে দান করেছেন, পৃথিবীর অন্য কারো সে পরিমাণ তাকওয়া লাভ হয়নি। এতদসত্ত্বেও আমি ঘুমাই এবং রাতে ওঠে নামাযও পড়ি। কোনো দিন রোযা রাখি, কোনো দিন রাখি না। আমি স্ত্রীদের বিয়ে করেছি। মনে রাখবে! এ সুন্নাতের মধ্যেই তোমাদের মুক্তি。
فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
'কেউ যদি আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হয়, সে আমার দলভুক্ত থাকবে না।'
এ হাদীস দ্বারা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছেন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত উন্নতি ও সফলতা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। কেউ যদি চায় যে, আমি নবীর থেকে সম্মুখে অগ্রসর হবো, মনে রাখবেন! তা কখনো হতে পারে না。

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৬৭৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৮৭, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩১৬৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬১৮৮

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হক আদায় করা সুন্নাতের অনুসরণ

📄 হক আদায় করা সুন্নাতের অনুসরণ


অন্য এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যেমনিভাবে ইবাদত ফরয করেছেন এবং ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, তেমনিভাবে তোমাদের উপরে কিছু হকও আরোপ করেছেন। তোমাদের জানেরও তোমাদের উপর হক রয়েছে, তোমাদের স্ত্রীরও তোমাদের উপর হক রয়েছে, তোমাদের চোখেরও তোমাদের উপর হক রয়েছে, তোমাদের সঙ্গী-সাথীদেরও তোমাদের উপর হক রয়েছে।
তোমরা যদি এসব হক আদায় করো, তাহলে সুন্নাতের অনুসরণ হবে। আর যদি দুনিয়াবিরাগীদের মতো বনে-জঙ্গলে গিয়ে বসে যাও, আর বলো যে, আমি দুনিয়াকে ত্যাগ করে এখানে 'আল্লাহ' 'আল্লাহ' করবো, তাহলে এটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ হবে না। যাই হোক, এ আয়াতের তৃতীয় অর্থ এই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না, বরং যে কাজকে যে সীমার মধ্যে করার নির্দেশ তাঁরা দিয়েছেন, সে কাজকে ঐ সীমার মধ্যেই রাখো, তারচে' সম্মুখে অগ্রসর হয়ো না。

টিকাঃ
৬. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৩৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00