📄 হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি ছাড়া কথা বলা জায়েয নেই
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। এর একটি সরাসরি অর্থ তো এই হয় যে, যে বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখনো আলোচনা শুরু করেননি, সে বিষয়ে তাঁর হুকুম ও অনুমতি ছাড়া কথা বলা জায়েয নেই। এটা তো ছিলো একটা ঘটনা, কিন্তু ভবিষ্যতেও এধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্যে হুকুম দিয়েছেন যে, যে বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখনো আলোচনা শুরু করেননি, সে বিষয়ে নিজের মতামত দেওয়া আরম্ভ করো না।
📄 আলেমের পূর্বে কথা বলা জায়েয নেই
এ আয়াতের অধীনে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, যেহেতু কুরআনে কারীম কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী হেদায়েত, এ কারণে যদিও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বর্তমান নেই, কিন্তু তাঁর ওয়াক্তিগ ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
الْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ
অর্থাৎ, ওলামায়ে কেরাম নবীগণের ওয়ারিস। এজন্যে মুফাসসিরীনে কেরাম বলেছেন, একই হুকুম সেসব আলেমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যাদের কথা মানুষ শোনে এবং মানে। যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা দ্বীন ও শরীয়তের ইলম দান করেছেন, তাদের মজলিসে কোনো প্রশ্ন করা হলে তাদের উত্তরের প্রতীক্ষা না করে বিনা অনুমতিতে কোনো ব্যক্তির নিজের থেকে কথা বলা আলেমের সম্মান এবং মজলিসের আদবের পরিপন্থী, বরং বেয়াদবী। কিংবা এখনো পর্যন্ত কোনো বিষয়ে কথা বলার অনুমতি দেননি তার পূর্বে মানুষ নিজের থেকে পরস্পরে ঐ বিষয়ে কথা বলতে আরম্ভ করা, এটাও মজলিসের আদবের খেলাফ ও বেয়াদবী। তবে যদি মজলিসের প্রধান ব্যক্তি পরামর্শ চান যে, অমুক বিষয়ে আপনাদের মত দিন, তখন স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবে। কিংবা কোনো বিষয়ে যদি কথা উঠাতে হয়, তাহলে মজলিসের প্রধান ব্যক্তির নিকট অনুমতি নিবে যে, এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করবো কি না? তিনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে নিঃসন্দেহে সে বিষয়ে কথা বলবে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া সে বিষয়ে কথা বলবে না। কারণ, এর ফলে মজলিসের প্রধান ব্যক্তির চেয়ে অগ্রসর হওয়া হবে। এ আয়াতে যা নিষেধ করা হয়েছে। এ আয়াতের একটি সরাসরি অর্থ এই。
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬০৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৫৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২০৭২৩
📄 পথে নবী বা আলেমগণের সম্মুখে অগ্রসর হওয়া
এ আয়াত দ্বারা দ্বিতীয় বিধান এই বের হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও তাশরীফ নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর চেয়ে সম্মুখে অগ্রসর হওয়া বেয়াদবী। তাঁর মর্যাদা ও সম্মানের দাবি হলো, যখন তাঁর সঙ্গে চলবে, তখন কিছুটা পিছে চলবে। আগে আগে চলবে না। এটাও এ আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত। এ বিধান সম্পর্কেও মুফাসসিরীনে কেরাম বলেছেন যে, এটাও যেহেতু কিয়ামত পর্যন্তের জন্যে, তাই আম্বিয়ায়ে কেরামের ওয়ারিসদের ব্যাপারেও একই বিধান। সুতরাং কেউ যদি নিজের বড়োর সঙ্গে উদাহরণস্বরূপ কোনো আলেম, শাইখ বা ওস্তাদের সঙ্গে পথ চলে, তাহলে তাদের সম্মুখে অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। হয় সাথে সাথে চলবে, না হয় কিছুটা পিছনে চলবে। সম্মুখে অগ্রসর হওয়া বেয়াদবী। এ আয়াতে যার নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এটা ছিলো দ্বিতীয় বিধান।
📄 সুন্নাতের অনুসরণে সফলতা
তৃতীয় যেই হুকুম এ আয়াত থেকে বের হয় তা এই যে, তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের উন্নতি ও সফলতার ভিত্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণের মধ্যে। তাঁর সুন্নাতের উপর আমল করো। তাঁর থেকে সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। অর্থাৎ, তিনি যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, হকদারের হক দিয়েছেন, নিজের নফসের হক আদায় করেছেন, নিজের পরিবার-পরিজনের হক আদায় করেছেন, সঙ্গী-সাথীদের হক আদায় করেছেন, বন্ধু-বান্ধবের হক আদায় করেছেন, সেভাবে তোমরাও হক আদায় করে জীবন অতিবাহিত করো। এমন যেন না হয় যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আগে বাড়ার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কেবল হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের উপর আমল করো।