📄 এ কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত পথপ্রদর্শন করতে থাকবে
কুরআনে কারীমের এটা বিরল-বিস্ময়কর অলৌকিক উপস্থাপন যে, কতক সময় বিশেষ কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। কোনো একটি ঘটনা দেখা দিলো, তাতে মুসলমানদের শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো, কোনো হেদায়েত দান করা লক্ষ্য ছিলো, সে বিষয়ে আয়াত নাযিল করা হয়, কিন্তু কুরআনে কারীম কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের পথপ্রদর্শনের জন্যে এসেছে। এজন্যে এমন শব্দে তা বর্ণনা করে যে, সে পথপ্রদর্শন ঐ ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং কিয়ামত পর্যন্ত আগমণকারী সময় মানুষের জন্যে একটি চিরস্থায়ী পথপ্রদর্শন হয়। সুতরাং এখানে এরূপ বলা হয়নি যে, বনু তামীমের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে কোনো একজনের আমীর বানানোর বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলার পূর্বেই তোমরা কেন কথা বলতে আরম্ভ করলে? এভাবে বলেননি। বরং সাধারণভাবে হুকুম দিয়েছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। এই একটি বাক্য দ্বারা অনেক বিধান বের হয়। কি বিধান বের হয়? আজকের মাহফিলে সেটাই বর্ণনা করা উদ্দেশ্য।
📄 হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি ছাড়া কথা বলা জায়েয নেই
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। এর একটি সরাসরি অর্থ তো এই হয় যে, যে বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখনো আলোচনা শুরু করেননি, সে বিষয়ে তাঁর হুকুম ও অনুমতি ছাড়া কথা বলা জায়েয নেই। এটা তো ছিলো একটা ঘটনা, কিন্তু ভবিষ্যতেও এধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্যে হুকুম দিয়েছেন যে, যে বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখনো আলোচনা শুরু করেননি, সে বিষয়ে নিজের মতামত দেওয়া আরম্ভ করো না।
📄 আলেমের পূর্বে কথা বলা জায়েয নেই
এ আয়াতের অধীনে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, যেহেতু কুরআনে কারীম কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী হেদায়েত, এ কারণে যদিও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বর্তমান নেই, কিন্তু তাঁর ওয়াক্তিগ ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
الْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ
অর্থাৎ, ওলামায়ে কেরাম নবীগণের ওয়ারিস। এজন্যে মুফাসসিরীনে কেরাম বলেছেন, একই হুকুম সেসব আলেমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যাদের কথা মানুষ শোনে এবং মানে। যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা দ্বীন ও শরীয়তের ইলম দান করেছেন, তাদের মজলিসে কোনো প্রশ্ন করা হলে তাদের উত্তরের প্রতীক্ষা না করে বিনা অনুমতিতে কোনো ব্যক্তির নিজের থেকে কথা বলা আলেমের সম্মান এবং মজলিসের আদবের পরিপন্থী, বরং বেয়াদবী। কিংবা এখনো পর্যন্ত কোনো বিষয়ে কথা বলার অনুমতি দেননি তার পূর্বে মানুষ নিজের থেকে পরস্পরে ঐ বিষয়ে কথা বলতে আরম্ভ করা, এটাও মজলিসের আদবের খেলাফ ও বেয়াদবী। তবে যদি মজলিসের প্রধান ব্যক্তি পরামর্শ চান যে, অমুক বিষয়ে আপনাদের মত দিন, তখন স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবে। কিংবা কোনো বিষয়ে যদি কথা উঠাতে হয়, তাহলে মজলিসের প্রধান ব্যক্তির নিকট অনুমতি নিবে যে, এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করবো কি না? তিনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে নিঃসন্দেহে সে বিষয়ে কথা বলবে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া সে বিষয়ে কথা বলবে না। কারণ, এর ফলে মজলিসের প্রধান ব্যক্তির চেয়ে অগ্রসর হওয়া হবে। এ আয়াতে যা নিষেধ করা হয়েছে। এ আয়াতের একটি সরাসরি অর্থ এই。
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬০৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৫৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২০৭২৩
📄 পথে নবী বা আলেমগণের সম্মুখে অগ্রসর হওয়া
এ আয়াত দ্বারা দ্বিতীয় বিধান এই বের হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও তাশরীফ নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর চেয়ে সম্মুখে অগ্রসর হওয়া বেয়াদবী। তাঁর মর্যাদা ও সম্মানের দাবি হলো, যখন তাঁর সঙ্গে চলবে, তখন কিছুটা পিছে চলবে। আগে আগে চলবে না। এটাও এ আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত। এ বিধান সম্পর্কেও মুফাসসিরীনে কেরাম বলেছেন যে, এটাও যেহেতু কিয়ামত পর্যন্তের জন্যে, তাই আম্বিয়ায়ে কেরামের ওয়ারিসদের ব্যাপারেও একই বিধান। সুতরাং কেউ যদি নিজের বড়োর সঙ্গে উদাহরণস্বরূপ কোনো আলেম, শাইখ বা ওস্তাদের সঙ্গে পথ চলে, তাহলে তাদের সম্মুখে অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। হয় সাথে সাথে চলবে, না হয় কিছুটা পিছনে চলবে। সম্মুখে অগ্রসর হওয়া বেয়াদবী। এ আয়াতে যার নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এটা ছিলো দ্বিতীয় বিধান।