📄 হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর নিজেদের পক্ষ থেকে আমীর নির্ধারণ করা
যখন বনু তামীম কবীলার প্রতিনিধি দল এলো এবং ইসলামী শিক্ষা অর্জন করে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলো, তখন তাদের মধ্যেও একজন আমীর নির্ধারণ করার প্রয়োজন দেখা দিলো। সাহাবায়ে কেরাম হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে বসা ছিলেন। তিনি নিজেও উপবিষ্ট ছিলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বনু তামীম গোত্রের জন্যে কাউকে আমীর নির্ধারণ করার পূর্বেই হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ও হযরত ওমর ফারুক রাযি, পরস্পরে পরামর্শ শুরু করলেন যে, বনু তামীমের পক্ষ থেকে কাকে আমীর বানানো উচিত। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কা'কা ইবনে মা'বাদ রাযি.-কে আমীর বানানোর প্রস্তাব পেশ করেন, আর হযরত ওমর ফারুক রাযি. করেন আকরা' ইবনে হাবেস রাযি.-কে আমীর বানানোর প্রস্তাব। প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রস্তাবের পক্ষে দলিল দিতে আরম্ভ করেন। এই কথাবার্তার মাঝে তাদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। অথচ সেখানে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। এসময় সূরায়ে হুজরাতের প্রথম আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়。
টিকাঃ
২. তাফসীরে ইবনে কাসীর, খন্ডঃ ৪, পৃঃ ২৬১
📄 দুটি ভুল হয়ে যায়
এ আয়াতসমূহ হযরত আবু বকর রাযি. ও ওমর রাযি.-কে সতর্ক করে যে, এই বিশেষ ঘটনায় দুটি ভুল সংঘটিত হয়েছে। এক এই যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আলোচনা আরম্ভ করেননি যে, কাকে আমীর বানানো হবে। নিজেও এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি এবং সাহাবায়ে কেরামের কাছেও পরামর্শ চাননি যে, বলো কাকে আমীর বানানো যায়? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণার পূর্বে এবং তাঁর পরামর্শ চাওয়ার পূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করা হয়েছে, যা সঙ্গত ছিলো না। বরং ভুল ও আপত্তিযোগ্য ছিলো। দ্বিতীয় ভুল এই হয়েছে যে, কথাবার্তার মাঝে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে তাদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়েছে। অথচ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে কেউ উঁচু আওয়াজে কথা বলা তার সম্মানের উপযোগী নয়। তাই ভবিষ্যতে এ থেকে বিরত থাকা উচিত।
📄 প্রথম ভুলের ব্যাপারে সতর্কতা
যাই হোক, সূরায়ে হুজরাতে সর্বপ্রথম এই দুই ভুল সম্পর্কে সতর্ক করে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না।'
এটা এ আয়াতের শাব্দিক অর্থ। এ আয়াতের প্রেক্ষাপট এই যে, এখনো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু তামীমের মধ্য থেকে কাউকে আমীর বানানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেননি। না নিজে ঘোষণা করেছেন, না সাহাবায়ে কেরাম থেকে পরামর্শ চেয়েছেন। এর পূর্বে নিজেদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলোচনা উঠানো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার নামান্তর। এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
📄 এ কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত পথপ্রদর্শন করতে থাকবে
কুরআনে কারীমের এটা বিরল-বিস্ময়কর অলৌকিক উপস্থাপন যে, কতক সময় বিশেষ কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। কোনো একটি ঘটনা দেখা দিলো, তাতে মুসলমানদের শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো, কোনো হেদায়েত দান করা লক্ষ্য ছিলো, সে বিষয়ে আয়াত নাযিল করা হয়, কিন্তু কুরআনে কারীম কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের পথপ্রদর্শনের জন্যে এসেছে। এজন্যে এমন শব্দে তা বর্ণনা করে যে, সে পথপ্রদর্শন ঐ ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং কিয়ামত পর্যন্ত আগমণকারী সময় মানুষের জন্যে একটি চিরস্থায়ী পথপ্রদর্শন হয়। সুতরাং এখানে এরূপ বলা হয়নি যে, বনু তামীমের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে কোনো একজনের আমীর বানানোর বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলার পূর্বেই তোমরা কেন কথা বলতে আরম্ভ করলে? এভাবে বলেননি। বরং সাধারণভাবে হুকুম দিয়েছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না। এই একটি বাক্য দ্বারা অনেক বিধান বের হয়। কি বিধান বের হয়? আজকের মাহফিলে সেটাই বর্ণনা করা উদ্দেশ্য।