📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বনু তামীম গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 বনু তামীম গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন


এই সূরার প্রথমাংশ যেই ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়, সেই ঘটনা এই ছিলো যে, বনু তামীম গোত্রের একদল লোক মুসলমান হয়ে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আসেন। সে সময় বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধি দল এ উদ্দেশ্যেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আসছিলো এবং তাঁর থেকে ইসলামী শিক্ষা অর্জন করছিলো। যখন কোনো প্রতিনিধি দল ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করতো, তখন তিনি তাদের মধ্যে থেকে একজনকে তাদের আমীর নির্ধারণ করতেন। যাতে পরবর্তীতে সেই আমীর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং তাঁর বিধানাবলী কবীলার লোকদের নিকট পৌছানোর কাজে সহযোগী হয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর নিজেদের পক্ষ থেকে আমীর নির্ধারণ করা

📄 হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর নিজেদের পক্ষ থেকে আমীর নির্ধারণ করা


যখন বনু তামীম কবীলার প্রতিনিধি দল এলো এবং ইসলামী শিক্ষা অর্জন করে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলো, তখন তাদের মধ্যেও একজন আমীর নির্ধারণ করার প্রয়োজন দেখা দিলো। সাহাবায়ে কেরাম হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে বসা ছিলেন। তিনি নিজেও উপবিষ্ট ছিলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বনু তামীম গোত্রের জন্যে কাউকে আমীর নির্ধারণ করার পূর্বেই হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ও হযরত ওমর ফারুক রাযি, পরস্পরে পরামর্শ শুরু করলেন যে, বনু তামীমের পক্ষ থেকে কাকে আমীর বানানো উচিত। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কা'কা ইবনে মা'বাদ রাযি.-কে আমীর বানানোর প্রস্তাব পেশ করেন, আর হযরত ওমর ফারুক রাযি. করেন আকরা' ইবনে হাবেস রাযি.-কে আমীর বানানোর প্রস্তাব। প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রস্তাবের পক্ষে দলিল দিতে আরম্ভ করেন। এই কথাবার্তার মাঝে তাদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। অথচ সেখানে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। এসময় সূরায়ে হুজরাতের প্রথম আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়。

টিকাঃ
২. তাফসীরে ইবনে কাসীর, খন্ডঃ ৪, পৃঃ ২৬১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 দুটি ভুল হয়ে যায়

📄 দুটি ভুল হয়ে যায়


এ আয়াতসমূহ হযরত আবু বকর রাযি. ও ওমর রাযি.-কে সতর্ক করে যে, এই বিশেষ ঘটনায় দুটি ভুল সংঘটিত হয়েছে। এক এই যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আলোচনা আরম্ভ করেননি যে, কাকে আমীর বানানো হবে। নিজেও এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি এবং সাহাবায়ে কেরামের কাছেও পরামর্শ চাননি যে, বলো কাকে আমীর বানানো যায়? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণার পূর্বে এবং তাঁর পরামর্শ চাওয়ার পূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করা হয়েছে, যা সঙ্গত ছিলো না। বরং ভুল ও আপত্তিযোগ্য ছিলো। দ্বিতীয় ভুল এই হয়েছে যে, কথাবার্তার মাঝে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে তাদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়েছে। অথচ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে কেউ উঁচু আওয়াজে কথা বলা তার সম্মানের উপযোগী নয়। তাই ভবিষ্যতে এ থেকে বিরত থাকা উচিত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রথম ভুলের ব্যাপারে সতর্কতা

📄 প্রথম ভুলের ব্যাপারে সতর্কতা


যাই হোক, সূরায়ে হুজরাতে সর্বপ্রথম এই দুই ভুল সম্পর্কে সতর্ক করে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করো না।'
এটা এ আয়াতের শাব্দিক অর্থ। এ আয়াতের প্রেক্ষাপট এই যে, এখনো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু তামীমের মধ্য থেকে কাউকে আমীর বানানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেননি। না নিজে ঘোষণা করেছেন, না সাহাবায়ে কেরাম থেকে পরামর্শ চেয়েছেন। এর পূর্বে নিজেদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলোচনা উঠানো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার নামান্তর। এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00