📄 এটা হাদীসের উপরে আমল হচ্ছে
একথা এজন্যে বললাম যে, এ কর্মপদ্ধতির উপর আমাদের বড়োদের আমল রয়েছে। যে কারণে মানুষের অন্তরে প্রশ্ন জাগে যে, শরীয়তের হুকুম তো এই যে, যে ব্যক্তি আগে আসবে, সে যেখানে জায়গা পাবে সেখানে বসবে। কেউ যদি দেরিতে আসে আর পিছনে জায়গা পায় তাহলে তার উচিত পিছনেই বসা। কিন্তু বড়োরা অন্যদের হক নষ্ট করে দেরিতে আগমনকারী ব্যক্তিকে কেন সামনে ডেকে নেন? আসল কথা এই যে, সম্মুখে আহবানকারী বুযুর্গ মূলত এই হাদীসের উপর আমল করছেন যে,
إِذَا أَتَاكُمْ كَرِيمٌ قَوْمٍ فَأَكْرِمُوهُ 'যখন তোমাদের নিকট কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আসে, তখন তোমরা তাকে সম্মান করবে।'
বরং আমাদের বুযুর্গ হযরত মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান ছাহেব রহ. (আল্লাহ তা'আলা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমীন।) এ বিষয়ে খুব লক্ষ রাখতেন। এমনকি বড়ো কোনো ব্যক্তি মসজিদে আসলে এবং সামনের কাতারের মানুষ তাকে জায়গা না দিলে তিনি এ ব্যাপারে মানুষদেরকে বিশেষভাবে সতর্ক করতেন যে, ভাই এটা কেমন আচরণ! তোমাদের উচিত নিজের জায়গা থেকে সরে গিয়ে সম্মানিত মানুষকে জায়গা দেওয়া। এটাকে অবিচার মনে করবে না, বরং এটাও এই হাদীসের উপর আমল করার একটি অংশ।
📄 সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করা সওয়াবের কারণ
হযরত থানভী রহ. এ হাদীসের বিষয়ে একটি স্মরণ রাখার মতো কথা এই লিখেছেন যে, কোনো ব্যক্তি কাফের হোক বা ফাসেক, এ হাদীসের উপর আমল করার নিয়তে যদি তার আগমণে তাকে সম্মান করা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ সওয়াব হবে। কারণ, এভাবে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুম তামিল করা হলো। কিন্তু যদি এ নিয়তে তার সম্মান করা হয় যে, আমি যদি তাকে সম্মান করি তাহলে অমুক সময়ে সে আমার কাজে আসবে, বা অমুক সময় তার দ্বারা সুপারিশ করাবো, বা তার দ্বারা অমুক দুনিয়াবি স্বার্থ উদ্ধার করবো, যেন একজন ফাসেককে সম্মান করার উদ্দেশ্য জাগতিক লালসা, তার দ্বারা পয়সা হাসিল করা, বা নিজের কোনো পদ অর্জন করা, তাহলে এমতাবস্থায় এ সম্মান ঠিন নয়।
এ কারণে সম্মান করার সময় নিয়ত ঠিক থাকা উচিত। অর্থাৎ, এ নিয়ত থাকা উচিত যে, যেহেতু হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিয়েছেন, তাই তাঁর হুকুম তামিলের জন্যে সম্মান করছি। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদের সকলকে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ