📄 তিনি তাকে আদর-যত্ন কেন করলেন
লোকটি চলে গেলে স্যার সাইয়িদ ছাহেবকে তার সঙ্গী বললো, আপনিও বিস্ময়কর মানুষ! আপনি স্বচক্ষে দেখলেন, সে তার বেশ পরিবর্তন করলো। তার সাধারণ পোষাক খুলে আরবীয় পোষাক পরলো। আপনি নিজেই বললেন যে, সে ফেরাডি। এসে ধোঁকা দিবে। পয়সা চাইবে, এতদসত্ত্বেও তাকে এতো আদর-যত্ন করলেন। এতোগুলো পয়সা দিলেন, এর কারণ কী? স্যার সাইয়িদ ছাহেব উত্তর দিলেন, আসল কথা হলো, একদিকে তো সে মেহমান হয়ে এসেছিলো এজন্যে আমি তার আদর-আপ্যায়ন করলাম। আর পয়সা দেওয়ার বিষয়, তার ধোঁকার কারণে তাকে পয়সা দিতাম না, কিন্তু যেহেতু সে এতো বড়ো একজন বুযুর্গের নাম নিয়েছে, তাই আমার না করতে সাহস হয়নি। কারণ, হযরত শাহ গোলাম আলী রহ. এমন এক আল্লাহর ওলী, তাঁর সঙ্গে দূরের সম্পর্ক থাকলেও তাঁর সম্পর্ককে সম্মান করা আমার দায়িত্ব। এই সম্পর্কের সম্মান করার ফলে হয়তো আল্লাহ তা'আলা আমাকে মাফ করে দিবেন। এজন্যে আমি তাকে পয়সা দিয়েছি।
📄 দ্বীনের সম্পর্কের সম্মান
এ ঘটনা আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ.-এর নিকট শুনেছি। তিনি এ ঘটনা তার শাইখ হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নিকট শুনেছেন। হযরত থানভী রহ. এ ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন, একদিকে স্যার সাইয়িদ ছাহেব মেহমানকে সম্মান করেছেন, অপরদিকে বুযুর্গানে দ্বীনের সম্পর্কের সম্মান করেছেন। কারণ, আল্লাহর ওলীর সঙ্গে যদি কারো সামান্য সম্পর্কও থাকে, আর ঐ সম্পর্কের যদি সম্মান করা হয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা এর বদৌলতেও মেহেরবানী করতে পারেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। আমীন। যাই হোক, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বলেছেন যে, যে কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আসলে তাকে সম্মান করো।
📄 সাধারণ সভায় সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করা
এখানে আরেকটি কথা বলছি, তা এই যে, সাধারণ সভা, মজলিস বা মসজিদের স্বাভাবিক নিয়ম এই যে, মসজিদ, মজলিস বা সমাবেশে যে ব্যক্তি প্রথমে যেখানে এসে বসবে সে ঐ জায়গার অধিক হকদার। যেমন মসজিদের প্রথম কাতারে গিয়ে যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে বসে, সে তার অধিক হকদার। এখন অন্যের এ কথা বলার অধিকার নেই যে, ভাই তুমি এখান থেকে সরে যাও, আমি এখানে বসবো। বরং যে ব্যক্তি যেখানে জায়গা পাবে, সে সেখানেই বসবে। কিন্তু ঐ মজলিস, মসজিদ বা সমাবেশে যদি এমন কোনো ব্যক্তি আসে, যে ঐ সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি, তাহলে তাকে সম্মুখে বসানো এবং অন্যদের আগে তাকে জায়গা দেওয়াও এ হাদীসের অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের বড়োদের আমল রয়েছে যে, কোনো মজলিসে সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসা আছে, এমন সময় কোনো সম্মানিত মেহমান এলে তাকে নিজেদের কাছে এনে বসান। যদি তাকে নিকটে বসানোর জন্যে অন্যদেরকে বলতে হয় যে, সামান্য পিছনে সরে যান, তাহলে এতেও সমস্যা নেই।
📄 এটা হাদীসের উপরে আমল হচ্ছে
একথা এজন্যে বললাম যে, এ কর্মপদ্ধতির উপর আমাদের বড়োদের আমল রয়েছে। যে কারণে মানুষের অন্তরে প্রশ্ন জাগে যে, শরীয়তের হুকুম তো এই যে, যে ব্যক্তি আগে আসবে, সে যেখানে জায়গা পাবে সেখানে বসবে। কেউ যদি দেরিতে আসে আর পিছনে জায়গা পায় তাহলে তার উচিত পিছনেই বসা। কিন্তু বড়োরা অন্যদের হক নষ্ট করে দেরিতে আগমনকারী ব্যক্তিকে কেন সামনে ডেকে নেন? আসল কথা এই যে, সম্মুখে আহবানকারী বুযুর্গ মূলত এই হাদীসের উপর আমল করছেন যে,
إِذَا أَتَاكُمْ كَرِيمٌ قَوْمٍ فَأَكْرِمُوهُ 'যখন তোমাদের নিকট কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আসে, তখন তোমরা তাকে সম্মান করবে।'
বরং আমাদের বুযুর্গ হযরত মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান ছাহেব রহ. (আল্লাহ তা'আলা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমীন।) এ বিষয়ে খুব লক্ষ রাখতেন। এমনকি বড়ো কোনো ব্যক্তি মসজিদে আসলে এবং সামনের কাতারের মানুষ তাকে জায়গা না দিলে তিনি এ ব্যাপারে মানুষদেরকে বিশেষভাবে সতর্ক করতেন যে, ভাই এটা কেমন আচরণ! তোমাদের উচিত নিজের জায়গা থেকে সরে গিয়ে সম্মানিত মানুষকে জায়গা দেওয়া। এটাকে অবিচার মনে করবে না, বরং এটাও এই হাদীসের উপর আমল করার একটি অংশ।