📄 স্যার সাইয়্যিদ আহমাদ ছাহেবের একটি ঘটনা
আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. থেকে স্যার সাইয়িদের এ ঘটনা শুনেছি। এখন তো তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। এখন আল্লাহ ও তার ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, তিনি ইসলামী আকীদার বিষয়ে যেই গড়বড় করেছেন, তা খুবই মারাত্মক। কিন্তু যেহেতু তিনি প্রথম যুগে বুযুর্গদের সোহবত উঠিয়েছিলেন এবং নিয়মতান্ত্রিক আলেমও ছিলেন, এজন্যে তার আখলাক ছিলো ভালো। যাই হোক, হযরত ওয়ালেদ ছাহেব তার এ ঘটনা শুনিয়েছিলেন যে, একবার তিনি তার ঘরে বসা ছিলেন। সাথে অকৃত্রিম কিছু বন্ধুও ছিলো। সম্মুখে দূর থেকে একজন মানুষকে আসতে দেখলেন। আগমণকারী সাধারণ ভারতীয় পোষাক পরে আসছিলো। কিছুটা কাছে আসার পর লোকটা বাইরের একটি হাউজের নিকট দাঁড়িয়ে গেলো। তার হাতের মধ্যে একটা থলে ছিলো। ঐ থলের মধ্য থেকে একটা আরবী জুব্বা বের করলো। আরবের লোকেরা রুমালের উপরে যেই দড়ি বাঁধে তা বের করলো। উভয়টা পরিধান করলো। তারপর কাছে আসতে থাকলো। স্যার সাইয়িদ ছাহেব দূর থেকে এই দৃশ্য দেখছিলেন। তিনি তার এক সাথীকে বললেন, যে ব্যক্তি আসছে, তাকে ফেরাডি মনে হচ্ছে। কারণ, এ ব্যক্তি এতোক্ষণ পর্যন্ত সহজ-সরল ভারতীয় পোষাক পরে আসছিলো। এখানে এসে তার বেশ পরিবর্তন করে আরবী পোষাক পরলো। এখন সে নিজেকে আরব বলে প্রকাশ করবে। তারপর পয়সা ইত্যাদি চাইবে।
কিছুক্ষণ পর ঐ ব্যক্তি তার নিকট এলো। এসে দরজায় করাঘাত করলো। স্যার সাইয়িদ ছাহেব গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। সসম্মানে ভিতরে নিয়ে আসলেন। স্যার সাইয়িদ জিজ্ঞাসা করলেন, কোথা থেকে তাশরীফ এনেছেন? সে উত্তর দিলো, আমি হযরত শাহ গোলাম আলী রহ.-এর কাছে বাইআত। হযরত শাহ গোলাম আলী রহ. উঁচু স্তরের সূফী বুযুর্গ ছিলেন। তারপর ঐ ব্যক্তি নিজের কিছু প্রয়োজনের কথা বললো যে, আমি এই প্রয়োজনে এসেছি। আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন। সুতরাং স্যার সাইয়িদ ছাহেব প্রথমে তাকে খুব আদর-যত্ন করলেন। তারপর যতো টাকার প্রয়োজন ছিলো তার চেয়ে বেশি এনে দিলেন এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাকে বিদায় করলেন।
📄 তিনি তাকে আদর-যত্ন কেন করলেন
লোকটি চলে গেলে স্যার সাইয়িদ ছাহেবকে তার সঙ্গী বললো, আপনিও বিস্ময়কর মানুষ! আপনি স্বচক্ষে দেখলেন, সে তার বেশ পরিবর্তন করলো। তার সাধারণ পোষাক খুলে আরবীয় পোষাক পরলো। আপনি নিজেই বললেন যে, সে ফেরাডি। এসে ধোঁকা দিবে। পয়সা চাইবে, এতদসত্ত্বেও তাকে এতো আদর-যত্ন করলেন। এতোগুলো পয়সা দিলেন, এর কারণ কী? স্যার সাইয়িদ ছাহেব উত্তর দিলেন, আসল কথা হলো, একদিকে তো সে মেহমান হয়ে এসেছিলো এজন্যে আমি তার আদর-আপ্যায়ন করলাম। আর পয়সা দেওয়ার বিষয়, তার ধোঁকার কারণে তাকে পয়সা দিতাম না, কিন্তু যেহেতু সে এতো বড়ো একজন বুযুর্গের নাম নিয়েছে, তাই আমার না করতে সাহস হয়নি। কারণ, হযরত শাহ গোলাম আলী রহ. এমন এক আল্লাহর ওলী, তাঁর সঙ্গে দূরের সম্পর্ক থাকলেও তাঁর সম্পর্ককে সম্মান করা আমার দায়িত্ব। এই সম্পর্কের সম্মান করার ফলে হয়তো আল্লাহ তা'আলা আমাকে মাফ করে দিবেন। এজন্যে আমি তাকে পয়সা দিয়েছি।
📄 দ্বীনের সম্পর্কের সম্মান
এ ঘটনা আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ.-এর নিকট শুনেছি। তিনি এ ঘটনা তার শাইখ হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর নিকট শুনেছেন। হযরত থানভী রহ. এ ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন, একদিকে স্যার সাইয়িদ ছাহেব মেহমানকে সম্মান করেছেন, অপরদিকে বুযুর্গানে দ্বীনের সম্পর্কের সম্মান করেছেন। কারণ, আল্লাহর ওলীর সঙ্গে যদি কারো সামান্য সম্পর্কও থাকে, আর ঐ সম্পর্কের যদি সম্মান করা হয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা এর বদৌলতেও মেহেরবানী করতে পারেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। আমীন। যাই হোক, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বলেছেন যে, যে কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আসলে তাকে সম্মান করো।
📄 সাধারণ সভায় সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করা
এখানে আরেকটি কথা বলছি, তা এই যে, সাধারণ সভা, মজলিস বা মসজিদের স্বাভাবিক নিয়ম এই যে, মসজিদ, মজলিস বা সমাবেশে যে ব্যক্তি প্রথমে যেখানে এসে বসবে সে ঐ জায়গার অধিক হকদার। যেমন মসজিদের প্রথম কাতারে গিয়ে যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে বসে, সে তার অধিক হকদার। এখন অন্যের এ কথা বলার অধিকার নেই যে, ভাই তুমি এখান থেকে সরে যাও, আমি এখানে বসবো। বরং যে ব্যক্তি যেখানে জায়গা পাবে, সে সেখানেই বসবে। কিন্তু ঐ মজলিস, মসজিদ বা সমাবেশে যদি এমন কোনো ব্যক্তি আসে, যে ঐ সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি, তাহলে তাকে সম্মুখে বসানো এবং অন্যদের আগে তাকে জায়গা দেওয়াও এ হাদীসের অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের বড়োদের আমল রয়েছে যে, কোনো মজলিসে সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসা আছে, এমন সময় কোনো সম্মানিত মেহমান এলে তাকে নিজেদের কাছে এনে বসান। যদি তাকে নিকটে বসানোর জন্যে অন্যদেরকে বলতে হয় যে, সামান্য পিছনে সরে যান, তাহলে এতেও সমস্যা নেই।