📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এই গীবত জায়েয

📄 এই গীবত জায়েয


এ হাদীসে দুটি প্রশ্ন জাগে। প্রথম প্রশ্ন এই জাগে যে, যখন ঐ ব্যক্তি দূর থেকে আসছিলো, তখন আসার পূর্বেই তার অবর্তমানে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-এর নিকট তার নিন্দা করলেন যে, এ ব্যক্তি তার কবিলার মধ্যে খারাপ মানুষ। বাহ্যত এটাকে গীবত মনে হয়। কারণ, এক ব্যক্তির অবর্তমানে তার দোষ বর্ণনা করা হচ্ছে। এর উত্তর এই যে, মূলত এটা গীবত নয়। কারণ, কোনো ব্যক্তিকে অন্য কারো অনিষ্ট থেকে বাঁচানোর নিয়তে যদি তার দোষ বর্ণনা করা হয়, তাহলে তা গীবত নয়। যেমন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে সতর্ক করার জন্যে বললো যে, তুমি অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্ক থেকো, সে যেনো তোমাকে ধোঁকা দিতে না পারে, বা সে যেনো তোমাকে কষ্ট দিতে না পারে। তাহলে এটা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়। হারাম ও নাজায়েয নয়। বরং কতক অবস্থায় এটা বলা ওয়াজিব। উদাহরণস্বরূপ আপনার নিশ্চিতভাবে জানা আছে যে, অমুক ব্যক্তি অমুককে ধোঁকা দিবে, আর ধোঁকা দেওয়ার ফলে ঐ দ্বিতীয় ব্যক্তির জানের বা মালের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তখন আপনার উপর ঐ দ্বিতীয় ব্যক্তিকে বলে দেওয়া ওয়াজিব যে, দেখো! অমুক ব্যক্তি তোমাকে ধোঁকা দিতে চায়। যাতে সে এ থেকে নিরাপদে থাকে। এটা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এ কারণে যখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশাকে বললেন যে, এ ব্যক্তি তার কবিলার খারাপ মানুষ, তখন তাঁর উদ্দেশ্য এই ছিলো যে, এ ব্যক্তি যেন হযরত আশেয়া রাযি.-কে ধোঁকা দিতে না পারে, বা এ ব্যক্তির উপর ভরসা করে হযরত আয়েশা রাযি. বা অন্য কোনো মুসলমান এমন কোনো কাজ না করে, যার ফলে পরবর্তীতে তাকে আফসোস করতে হয়। এ কারণে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.- কে তার ব্যাপারে আগে থেকে বলে দেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 খারাপ মানুষকে তিনি সম্মান করলেন কেন

📄 খারাপ মানুষকে তিনি সম্মান করলেন কেন


দ্বিতীয় প্রশ্ন এই জাগে যে, একদিকে তো তিনি তার দোষ বর্ণনা করলেন, অপরদিকে যখন সে এলো তখন তার খুব সম্মান করলেন, খুব আদর-যত্ন করলেন। এখানে ভিতর-বাইরের মধ্যে পার্থক্য হলো। সম্মুখে একরকম আচরণ, আর পিছনে আরেক রকেম। আসল কথা হলো, তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল। প্রত্যেকটি বিষয়ের তিনি সীমা বর্ণনা করেছেন। তাই সতর্ক করার জন্যে তিনি বলে দিয়েছেন যে, এ ব্যক্তি খারাপ মানুষ। কিন্তু যখন সে আমার কাছে মেহমান হয়ে এসেছে, তাই মেহমান হিসেবেও তার কিছু হক রয়েছে। তা এই যে, আমি তার সঙ্গে সম্মানের আচরণ করবো। তার সঙ্গে এমন আচরণ করবো, যা একজন মেহমানের সাথে করা উচিত। তাই হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন আচরণই করেছেন。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ঐ মানুষ অতিনিকৃষ্ট

📄 ঐ মানুষ অতিনিকৃষ্ট


এ হাদীসে এ কথাও বলা হয়েছে যে, এর মধ্যে একটি হিকমত এও রয়েছে যে, খারাপ মানুষকে সম্মান করা না হলে হতে পারে সে তোমাকে কষ্ট দিবে বা কোনো বিপদে ফেলবে বা এমন কোনো আচরণ সে করবে, যার ফলে তোমাকে ভবিষ্যতে আফসোস করতে হবে। এজন্যে কোনো খারাপ মানুষের সঙ্গে দেখা হলে তাকে সম্মান করাতেও কোনো দোষ নেই। তার অনিষ্ট থেকে নিজের জান-মাল-আব্রু বাঁচানোও মানুষের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এ কারনেই হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে পরিষ্কার ভাষায় ইরশাদ করেছেন যে, ঐ মানুষ অতিনিকৃষ্ট, যার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্যে মানুষ তাকে সম্মান করে। মানুষ তাকে এজন্যে সম্মান করছে না যে, সে ভালো মানুষ, বরং এজন্যে সম্মান করছে যে, তাকে সম্মান করা না হলে সে কষ্ট দিবে। এমতাবস্থায়ও সম্মান করায় কোনো দোষ নেই। তবে শর্ত হলো, জায়েযের সীমারেখার মধ্যে থেকে সম্মান করতে হবে। তার কারণে কোনো গোনাহে লিপ্ত হওয়া যাবে না।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুপম আদর্শের একেকটি অংশের মধ্যে না জানি আমার-আপনার জন্যে কতো অসংখ্য শিক্ষা রয়েছে। তিনি গীবতের সীমা বলে দিয়েছেন যে, এতোটুকু বিষয় গীবতের অন্তর্ভুক্ত, আর এতোটুকু বিষয় গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়। মেহমানকে সম্মান করা কপটতা নয়। বরং হুকুম হলো আগমণকারী ব্যক্তি কাফের, ফাসেক, ফাজের যাই হোক না কেন, যখন সে তোমার নিকট মেহমান হয়ে আসবে, তখন তাকে সম্মান করবে, তাকে মর্যাদা দিবে, এটা কপটতার অন্তর্ভুক্ত নয়。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 স্যার সাইয়্যিদ আহমাদ ছাহেবের একটি ঘটনা

📄 স্যার সাইয়্যিদ আহমাদ ছাহেবের একটি ঘটনা


আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. থেকে স্যার সাইয়িদের এ ঘটনা শুনেছি। এখন তো তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। এখন আল্লাহ ও তার ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, তিনি ইসলামী আকীদার বিষয়ে যেই গড়বড় করেছেন, তা খুবই মারাত্মক। কিন্তু যেহেতু তিনি প্রথম যুগে বুযুর্গদের সোহবত উঠিয়েছিলেন এবং নিয়মতান্ত্রিক আলেমও ছিলেন, এজন্যে তার আখলাক ছিলো ভালো। যাই হোক, হযরত ওয়ালেদ ছাহেব তার এ ঘটনা শুনিয়েছিলেন যে, একবার তিনি তার ঘরে বসা ছিলেন। সাথে অকৃত্রিম কিছু বন্ধুও ছিলো। সম্মুখে দূর থেকে একজন মানুষকে আসতে দেখলেন। আগমণকারী সাধারণ ভারতীয় পোষাক পরে আসছিলো। কিছুটা কাছে আসার পর লোকটা বাইরের একটি হাউজের নিকট দাঁড়িয়ে গেলো। তার হাতের মধ্যে একটা থলে ছিলো। ঐ থলের মধ্য থেকে একটা আরবী জুব্বা বের করলো। আরবের লোকেরা রুমালের উপরে যেই দড়ি বাঁধে তা বের করলো। উভয়টা পরিধান করলো। তারপর কাছে আসতে থাকলো। স্যার সাইয়িদ ছাহেব দূর থেকে এই দৃশ্য দেখছিলেন। তিনি তার এক সাথীকে বললেন, যে ব্যক্তি আসছে, তাকে ফেরাডি মনে হচ্ছে। কারণ, এ ব্যক্তি এতোক্ষণ পর্যন্ত সহজ-সরল ভারতীয় পোষাক পরে আসছিলো। এখানে এসে তার বেশ পরিবর্তন করে আরবী পোষাক পরলো। এখন সে নিজেকে আরব বলে প্রকাশ করবে। তারপর পয়সা ইত্যাদি চাইবে।
কিছুক্ষণ পর ঐ ব্যক্তি তার নিকট এলো। এসে দরজায় করাঘাত করলো। স্যার সাইয়িদ ছাহেব গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। সসম্মানে ভিতরে নিয়ে আসলেন। স্যার সাইয়িদ জিজ্ঞাসা করলেন, কোথা থেকে তাশরীফ এনেছেন? সে উত্তর দিলো, আমি হযরত শাহ গোলাম আলী রহ.-এর কাছে বাইআত। হযরত শাহ গোলাম আলী রহ. উঁচু স্তরের সূফী বুযুর্গ ছিলেন। তারপর ঐ ব্যক্তি নিজের কিছু প্রয়োজনের কথা বললো যে, আমি এই প্রয়োজনে এসেছি। আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন। সুতরাং স্যার সাইয়িদ ছাহেব প্রথমে তাকে খুব আদর-যত্ন করলেন। তারপর যতো টাকার প্রয়োজন ছিলো তার চেয়ে বেশি এনে দিলেন এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাকে বিদায় করলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00