📄 বাহ্যিক রূপ দেখো না
এবার লক্ষ করুন, বাহ্যিক চেহারা-সুরুতে কোনোভাবেই বুঝা যাচ্ছিলো না যে, আল্লাহর এই বান্দার অন্তরে এমন পোক্ত ঈমান রয়েছে। আল্লাহর মহান সত্তার উপর তার এমন শক্ত আস্থা রয়েছে, তাওয়াক্কুল রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাকে এমন পাকাপোক্ত তাওয়াক্কুল দান করেছেন। বাস্তবেই ঐ যুবক সেদিনই ঐ চাকুরি ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে আল্লাহ তা'আলা তাকে পুরস্কৃত ভূষিত করেন। অন্য হালাল জীবিকা তাকে দান করেন। সে এখন আমেরিকাতে রয়েছে। ঐ যুবকের ঐ কথা আজ পর্যন্ত আমার অন্তরে অঙ্কিত রয়েছে। মোটকথা, কারো বাহ্যিক অবস্থা দেখে আমরা তার ব্যাপারে কি ফয়সালা করতে পারি? জানা তো নেই, আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে ঈমানের কেমন প্রদীপ আলোকিত করেছেন! তাকে নিজের সত্তার উপর কেমন ভরসা ও কেমন তাওয়াক্কুল দান করেছেন! এজন্যে কোনো মানুষকে হীন জ্ঞান করবে না। যে ঈমানের অধিকারী, যাকে আল্লাহ তা'আলা 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ'-এর ঈমান দান করেছেন, সে সম্মানের উপযুক্ত। এ কারণে প্রত্যেক ঈমানদারকে সম্মান করার হুকুম দান করা হয়েছে। হযরত শেখ সাদীর বলেন,
هر بیشه گمان مبر که خالی است شاید که پلنگ خفته باشد
'প্রত্যেক বনকে শূন্য ভেবো না, জানা তো নেই, কেমন কেমন সিংহ ও চিতা তার ভিতর ঘুমিয়ে আছে।'
আল্লাহ তা'আলা কাউকে যখন ঈমানের দৌলত দান করেন, তখন আমাদের কাজ হলো ঐ ঈমানওয়ালাকে মূল্যায়ন করা, তাকে সম্মান করা এবং ঐ ঈমানকে সম্মান করা, যা তার অন্তরে রয়েছে।
📄 সম্মানিত কাফেরকে সম্মান করা
প্রত্যেক মুসলমানকে তো সম্মান করার হুকুম দেওয়া হয়েছেই, হাদীস শরীফে এ পর্যন্ত বলা হয়েছে যে, আগমণকারী যদি কাফেরও হয়, কিন্তু তাকে তার সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি মনে করা হয়, তাকে সম্মান করা হয়, তাকে মানুষ মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে, তাকে বড়ো বলে গণ্য করে। যদি কাফের ও অমুসলিমও হয়, তাহলে তার আগমণে তুমিও তাকে সফ করো। তাকে সম্মান করা ইসলামী আখলাকের একটা দাবি। এই সম্মান কুফরকে নয়। তার কুফরের প্রতি ঘৃণার আচরণ করা হবে, কিন্তু যেনো তাকে তার কওমের মধ্যে সম্মানিত মনে করা হয়, তাই সে যখন তেন নিকট আসবে তার খাতিরে তাকে সম্মান করো। এমন যেন না হয় যে, তা ঘৃণা করার ফলে তুমি তার সঙ্গে এমন আচরণ করলে যে, সে তোমার হও এবং তোমার ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণ হলো। এজন্যে তাকে সম্মান করো。
📄 কাফেরদের সাথে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন করেও দেখিয়েছেন। কাছে বড়ো বড়ো কাফের সর্দার আসতো। তারা যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আসতো, তখন তাদের কখনো মনেই হতো না যে, আমার সঙ্গে অসম্মানের আচরণ করা হচ্ছে। তিনি তাদেরকে সম্মান করতেন। সসম্মানে বসাতেন। সসম্মানে তাদের সাথে কথা বলতেন। এটা হলো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত যে, একজন কাফেরও যদি আমাদের কাছে আসে, সে যেন অসম্মান বোধ না করে。
📄 এক কাফের ব্যক্তির ঘটনা
হাদীস শরীফে এসেছে- একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। সামনে থেকে এক ব্যক্তিকে আসতে দেখা গেলো। হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটেই ছিলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা! যে ব্যক্তি সামনে থেকে আসছে, সে তার গোত্রের খারাপ মানুষ। যখন ঐ ব্যক্তি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আসলো, তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান করলেন। অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে তার সাথে কথা বললেন। যখন ঐ ব্যক্তি কথাবার্তা বলে চলে গেলো, তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নিজেই তো বললেন, এ ব্যক্তি তার কবিলার খারাপ লোক। কিন্তু যখন সে আসলো, তখন আপনি তার সম্মান করলেন এবং তার সাথে খুব নরম আচরণ করলেন, এর কারণ কি? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ মানুষ খুবই খারাপ, যার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্যে সম্মান করা হয়。
টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫৭২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৯৩, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৫৯