📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এক যুবকের শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 এক যুবকের শিক্ষণীয় ঘটনা


একবার আমি দারুল উলূমে আমার দফতরে বসা ছিলাম। এক যুবক আমার কাছে এলো। ঐ যুবকের মধ্যে মাথা থেকে পাতা পর্যন্ত বাহ্যিকভাবে ইসলামী বেশ-ভূষার কিছুই চোখে পড়ছিলো না। পশ্চিমা পোষাকে সজ্জিত। তার বাহ্যিক আকার দেখে মোটেই বোঝা যাচ্ছিলো না যে, তার ভিতরেও দ্বীনদারির কিছু না কিছু থাকতে পারে। আমার কাছে এসে বললো যে, আমি আপনার নিকট একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। আমি বললাম, কি সেই মাসআলা? সে বললো, মাসআলা এই যে, আমি একচুয়ারি (Actuary) (ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে কতো প্রিমিয়াম হওয়া উচিত এবং কতো টাকার ইন্সুরেন্স হওয়া উচিত, এ জাতীয় হিসাব রাখার জন্যে 'একচুয়ারি' রাখা হয়। তখন পুরো পাকিস্তানের কোথাও এই শিক্ষা দেওয়া হতো না) ঐ যুবক বললো, আমি এই বিদ্যা অর্জনের জন্যে ইংল্যান্ড সফর করি। সেখানে গিয়ে শিক্ষা অর্জন করি। (সে সময়ে পুরো পাকিস্তানে এ বিষয়ে দু'-তিন জনও অধিক শাস্ত্রজ্ঞ ছিলো না। যে ব্যক্তি একচুয়ারি হয়, সে ইন্সুরেন্স কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করার উপযুক্ত থাকে না। যাই হোক ঐ যুবক বললো যে) আমি এখানে এসে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি নেই। (পুরো পাকিস্তানে যেহেতু এ শাস্ত্রের দক্ষ লোক খুব কম, এজন্যে চাহিদাও ছিলো খুব বেশি। তার বেতন ও সুবিধাদি ছিলো অনেক।) আমার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অনেক রয়েছে। এজন্যে আমি এ চাকুরি গ্রহণ করি। যখন এসব কিছু হয়ে গেলো- বিদ্যার্জন করলাম, চাকুরি নিলাম, তখন আমাকে একজন বললো যে, ইন্সুরেন্সের কাজ হারাম। এটা জায়েয নেই। এখন আমি আপনার কাছে সত্যায়ন করতে এসেছি যে, বাস্তবে এটা হালাল, না হারাম?

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইন্সুরেন্সের চাকুরিজীবি কি করবে

📄 ইন্সুরেন্সের চাকুরিজীবি কি করবে


আমি তাকে বললাম যে, বর্তমানে ইন্সুরেন্সের যতোগুলো পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর কোনোটির মধ্যে রয়েছে সুদ, কোনোটির মধ্যে রয়েছে জুয়া, এজন্যে সে সবই হারাম। এ কারণে ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করাও জায়েয নেই। তবে আমাদের বড়োরা বলেন যে, কেউ যদি ব্যাংক বা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করে, তাহলে তার উচিত নিজের জন্যে অন্য কোনো হালাল ও জায়েয জীবিকার সন্ধান করা। এমন গুরুত্ব ও চেষ্টার সাথে সন্ধান করবে, যেমন একজন বেকার লোক করে থাকে। যখন অন্য কোনো হালাল উপায় পেয়ে যাবে, তখন এই হারাম মাধ্যম ছেড়ে দিবে। আমাদের বড়োরা এ কথা এজন্যে বলেন যে, জানা তো নেই কার কি অবস্থা। কেউ যদি সাথে সাথে হারাম উপায় ছেড়ে দেয় তাহলে আবার কোনো পেরেশানিতে পড়ে না যায়। তখন শয়তান এসে তাকে ফুসলাবে যে, দেখো! তুমি দ্বীনের উপর আমল করছিলে যার ফলে তোমার উপর এই বিপদ এসেছে। এজন্যে আমাদের বড়োরা বলেন, সাথে সাথে এই হারাম চাকুরি ছেড়ো না, বরং অন্যত্র চাকুরির খোঁজ করো। হালাল জীবিকার ব্যবস্থা হলে তখন এটা ছেড়ে দাও।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমি পরামর্শ নিতে আসিনি

📄 আমি পরামর্শ নিতে আসিনি


আমার এই উত্তর শুনে ঐ যুবক বললো যে, মাওলানা ছাহেব! আমি আপনার কাছে এ পরামর্শ নিতে আসিনি যে, চাকুরি ছাড়বো কি ছাড়বো না। আমি শুধু জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যে, এ কাজ হালাল না হারাম। আমি তাকে বললাম, হালাল-হারام হওয়ার বিষয় আমি তোমাকে বলেছি। সাথে বুযুর্গদের শোনা কথাও বলে দিয়েছি। ঐ যুবক বললো, আপনি আমাকে এই মশওয়ারা দিবেন না যে, চাকুরি ছাড়বো কি ছাড়বো না। আপনি পরিষ্কার ভাষায় আমাকে বলুন, এই চাকুরি হালাল কি না? আমি বললাম, হারাম। ঐ যুবক বললো, বলুন, এটা আল্লাহ হারাম করেছেন, না আপনি হারাম করেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ হারাম করেছেন। ঐ যুবক বললো, যে আল্লাহ এটাকে হারাম করেছেন, তিনি আমাকে রিযিক থেকে মাহরুম করবেন না। এ কারণে এখন আমি এখান থেকে আর ঐ অফিসে ফিরে যাবো না। আল্লাহ যখন হারাম করেছেন, তখন তিনি আমার উপর রিযিকের দরজা বন্ধ করবেন না। এজন্যে আমি আজ থেকে এটা ছেড়ে দিলাম。

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বাহ্যিক রূপ দেখো না

📄 বাহ্যিক রূপ দেখো না


এবার লক্ষ করুন, বাহ্যিক চেহারা-সুরুতে কোনোভাবেই বুঝা যাচ্ছিলো না যে, আল্লাহর এই বান্দার অন্তরে এমন পোক্ত ঈমান রয়েছে। আল্লাহর মহান সত্তার উপর তার এমন শক্ত আস্থা রয়েছে, তাওয়াক্কুল রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাকে এমন পাকাপোক্ত তাওয়াক্কুল দান করেছেন। বাস্তবেই ঐ যুবক সেদিনই ঐ চাকুরি ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে আল্লাহ তা'আলা তাকে পুরস্কৃত ভূষিত করেন। অন্য হালাল জীবিকা তাকে দান করেন। সে এখন আমেরিকাতে রয়েছে। ঐ যুবকের ঐ কথা আজ পর্যন্ত আমার অন্তরে অঙ্কিত রয়েছে। মোটকথা, কারো বাহ্যিক অবস্থা দেখে আমরা তার ব্যাপারে কি ফয়সালা করতে পারি? জানা তো নেই, আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে ঈমানের কেমন প্রদীপ আলোকিত করেছেন! তাকে নিজের সত্তার উপর কেমন ভরসা ও কেমন তাওয়াক্কুল দান করেছেন! এজন্যে কোনো মানুষকে হীন জ্ঞান করবে না। যে ঈমানের অধিকারী, যাকে আল্লাহ তা'আলা 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ'-এর ঈমান দান করেছেন, সে সম্মানের উপযুক্ত। এ কারণে প্রত্যেক ঈমানদারকে সম্মান করার হুকুম দান করা হয়েছে। হযরত শেখ সাদীর বলেন,
هر بیشه گمان مبر که خالی است شاید که پلنگ خفته باشد
'প্রত্যেক বনকে শূন্য ভেবো না, জানা তো নেই, কেমন কেমন সিংহ ও চিতা তার ভিতর ঘুমিয়ে আছে।'
আল্লাহ তা'আলা কাউকে যখন ঈমানের দৌলত দান করেন, তখন আমাদের কাজ হলো ঐ ঈমানওয়ালাকে মূল্যায়ন করা, তাকে সম্মান করা এবং ঐ ঈমানকে সম্মান করা, যা তার অন্তরে রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00