📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হাদীস দ্বারা দাঁড়ানোর প্রমাণ

📄 হাদীস দ্বারা দাঁড়ানোর প্রমাণ


খোদ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতক সময় সাহাবায়ে কেরামকে দাঁড়ানোর হুকুম দিয়েছেন। বনু কুরাইযার ফয়সালার জন্যে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত সা'দ ইবনে মুআয রাযি.-কে ডেকে পাঠান এবং তিনি আগমন করেন, তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইযার লোকদেরকে বলেন,
قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ
'তোমাদের সর্দার আসছেন, তার জন্যে তোমরা দাঁড়িয়ে যাও।'
বিধায় এমন ক্ষেত্রে দাঁড়ানো জায়েয। যদি না দাঁড়ায় তাতেও কোনো দোষ নেই। তবে হাদীসে এ বিষয়ে তাকিদ এসেছে যে, কারো আগমনে আপনি মূর্তির ন্যায় যেন বসে না থাকেন। নিজের জায়গা থেকে নড়াচড়া করবেন না এবং তার আগমনে খুশি প্রকাশ করবেন না, এমন যেন না হয়। তিনি বলেছেন, কমপক্ষে এতোটুকু তো করো যে, নিজের জায়গা থেকে একটু নড়ে বসো, যাতে আগমণকারী বুঝতে পারে যে, আমাকে সম্মান করেছে。

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮১৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩১৪, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৭৪২

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মুসলমানকে সম্মান করা ঈমানকে সম্মান করা

📄 মুসলমানকে সম্মান করা ঈমানকে সম্মান করা


একজন মুসলমানকে সম্মান করা মূলত তার ঈমানকে সম্মান করা, যা ঐ মুসলমানের অন্তরে রয়েছে। একজন মুসলমান যেহেতু কালেমায়ে তাইয়েবা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'র উপর ঈমান রাখে এবং তার অন্তরে ঈমান রয়েছে, তাই তার দাবি ও হক এই যে, ঐ মুসলমানকে সম্মান করতে হবে। যদিও বাহ্যিক অবস্থায় ঐ মুসলমানকে দুর্বল দেখছো, তার আমল এবং তার বাহ্যিক আকার-আকৃতি পুরোপুরি দ্বীন মোতাবেক নয়, কিন্তু তোমার তো জানা নেই যে, তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলা যেই ঈমান দান করেছেন, তার মাকাম কী? আল্লাহ তা'আলার নিকট তার ঈমান কতোটুকু মাকবুল। শুধু বাহ্যিক আকার-আকৃতির দ্বারা তা অনুমান করা যাবে না। এজন্যে প্রত্যেক আগমনকারী মুসলমানকে মুসলমান হওয়ার সুবাদে সম্মান করা উচিত।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এক যুবকের শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 এক যুবকের শিক্ষণীয় ঘটনা


একবার আমি দারুল উলূমে আমার দফতরে বসা ছিলাম। এক যুবক আমার কাছে এলো। ঐ যুবকের মধ্যে মাথা থেকে পাতা পর্যন্ত বাহ্যিকভাবে ইসলামী বেশ-ভূষার কিছুই চোখে পড়ছিলো না। পশ্চিমা পোষাকে সজ্জিত। তার বাহ্যিক আকার দেখে মোটেই বোঝা যাচ্ছিলো না যে, তার ভিতরেও দ্বীনদারির কিছু না কিছু থাকতে পারে। আমার কাছে এসে বললো যে, আমি আপনার নিকট একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। আমি বললাম, কি সেই মাসআলা? সে বললো, মাসআলা এই যে, আমি একচুয়ারি (Actuary) (ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে কতো প্রিমিয়াম হওয়া উচিত এবং কতো টাকার ইন্সুরেন্স হওয়া উচিত, এ জাতীয় হিসাব রাখার জন্যে 'একচুয়ারি' রাখা হয়। তখন পুরো পাকিস্তানের কোথাও এই শিক্ষা দেওয়া হতো না) ঐ যুবক বললো, আমি এই বিদ্যা অর্জনের জন্যে ইংল্যান্ড সফর করি। সেখানে গিয়ে শিক্ষা অর্জন করি। (সে সময়ে পুরো পাকিস্তানে এ বিষয়ে দু'-তিন জনও অধিক শাস্ত্রজ্ঞ ছিলো না। যে ব্যক্তি একচুয়ারি হয়, সে ইন্সুরেন্স কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করার উপযুক্ত থাকে না। যাই হোক ঐ যুবক বললো যে) আমি এখানে এসে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি নেই। (পুরো পাকিস্তানে যেহেতু এ শাস্ত্রের দক্ষ লোক খুব কম, এজন্যে চাহিদাও ছিলো খুব বেশি। তার বেতন ও সুবিধাদি ছিলো অনেক।) আমার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অনেক রয়েছে। এজন্যে আমি এ চাকুরি গ্রহণ করি। যখন এসব কিছু হয়ে গেলো- বিদ্যার্জন করলাম, চাকুরি নিলাম, তখন আমাকে একজন বললো যে, ইন্সুরেন্সের কাজ হারাম। এটা জায়েয নেই। এখন আমি আপনার কাছে সত্যায়ন করতে এসেছি যে, বাস্তবে এটা হালাল, না হারাম?

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইন্সুরেন্সের চাকুরিজীবি কি করবে

📄 ইন্সুরেন্সের চাকুরিজীবি কি করবে


আমি তাকে বললাম যে, বর্তমানে ইন্সুরেন্সের যতোগুলো পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর কোনোটির মধ্যে রয়েছে সুদ, কোনোটির মধ্যে রয়েছে জুয়া, এজন্যে সে সবই হারাম। এ কারণে ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করাও জায়েয নেই। তবে আমাদের বড়োরা বলেন যে, কেউ যদি ব্যাংক বা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরি করে, তাহলে তার উচিত নিজের জন্যে অন্য কোনো হালাল ও জায়েয জীবিকার সন্ধান করা। এমন গুরুত্ব ও চেষ্টার সাথে সন্ধান করবে, যেমন একজন বেকার লোক করে থাকে। যখন অন্য কোনো হালাল উপায় পেয়ে যাবে, তখন এই হারাম মাধ্যম ছেড়ে দিবে। আমাদের বড়োরা এ কথা এজন্যে বলেন যে, জানা তো নেই কার কি অবস্থা। কেউ যদি সাথে সাথে হারাম উপায় ছেড়ে দেয় তাহলে আবার কোনো পেরেশানিতে পড়ে না যায়। তখন শয়তান এসে তাকে ফুসলাবে যে, দেখো! তুমি দ্বীনের উপর আমল করছিলে যার ফলে তোমার উপর এই বিপদ এসেছে। এজন্যে আমাদের বড়োরা বলেন, সাথে সাথে এই হারাম চাকুরি ছেড়ো না, বরং অন্যত্র চাকুরির খোঁজ করো। হালাল জীবিকার ব্যবস্থা হলে তখন এটা ছেড়ে দাও।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00