📄 সম্মানের একটি ধরন
শরীয়তে তো প্রত্যেক মুসলমানকেই সম্মান করার হুকুম দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মুসলমান এলে তাকে সম্মান করা এবং তার মর্যাদা রক্ষা করা তার হক। হাদীস শরীফে এতোটুকু পর্যন্ত এসেছে যে, আপনি যদি কোনো জায়গায় বসা থাকেন, আর কোনো মুসলমান আপনার সাথে দেখা করতে আসে, তাহলে তার আগমনের সুবাদে কমপক্ষে একটু নড়ে হলেও বসবেন।
এমন যেন না হয় যে, একজন মুসলমান ভাই আপনার সঙ্গে দেখা করতে এলো, কিন্তু আপনি নিজের জায়গা থেকে একটুও নড়লেন না, মূর্তির ন্যায় বসে থাকলেন। এটা তার সম্মানের পরিপন্থী। এজন্যে কমপক্ষে নিজের জায়গা থেকে একটু নড়ে বসা উচিত। যাতে আগমনকারী ব্যক্তি অনুভব করে যে, আমি আসার ফলে সে আমাকে সম্মান করেছে।
টিকাঃ
১. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭০২
📄 সম্মানের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া
একটি পদ্ধতি হলো, অন্যের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া। কোনো ব্যক্তি আপনার নিকট এলো আর আপনি তার সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলেন। শরীয়তে এর হুকুম এই যে, যে ব্যক্তি আগমন করলো সে যদি এ কথার প্রত্যাশা রাখে যে, মানুষ আমার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক তাহলে এমতাবস্থায় দাঁড়ানো ঠিক নয়। কারণ, এ বাসনা একথা চিহ্নিত করে যে তার মধ্যে অহংকার রয়েছে। সে অন্যদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। এজন্যে সে চায় যে, অন্য মানুষ আমার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক। এ ধরনের ব্যক্তির ব্যাপারে শরীয়তে হুকুম এই যে, তার জন্যে দাঁড়াবে না। কিন্তু আগমনকারী ব্যক্তির মনে যদি এ বাসনা না থাকে যে, মানুষ আমার জন্যে দাঁড়াক, কিন্তু ঐ ব্যক্তির ইলম, পরহেযগারী ও পদের কারণে তার সম্মানার্থে আপনি দাঁড়িয়ে যান, তাহলে এতে কোনো দোষ নেই, কোনো গোনাহও নেই এবং দাঁড়ানো ওয়াজিবও নয়。
📄 হাদীস দ্বারা দাঁড়ানোর প্রমাণ
খোদ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতক সময় সাহাবায়ে কেরামকে দাঁড়ানোর হুকুম দিয়েছেন। বনু কুরাইযার ফয়সালার জন্যে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত সা'দ ইবনে মুআয রাযি.-কে ডেকে পাঠান এবং তিনি আগমন করেন, তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইযার লোকদেরকে বলেন,
قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ
'তোমাদের সর্দার আসছেন, তার জন্যে তোমরা দাঁড়িয়ে যাও।'
বিধায় এমন ক্ষেত্রে দাঁড়ানো জায়েয। যদি না দাঁড়ায় তাতেও কোনো দোষ নেই। তবে হাদীসে এ বিষয়ে তাকিদ এসেছে যে, কারো আগমনে আপনি মূর্তির ন্যায় যেন বসে না থাকেন। নিজের জায়গা থেকে নড়াচড়া করবেন না এবং তার আগমনে খুশি প্রকাশ করবেন না, এমন যেন না হয়। তিনি বলেছেন, কমপক্ষে এতোটুকু তো করো যে, নিজের জায়গা থেকে একটু নড়ে বসো, যাতে আগমণকারী বুঝতে পারে যে, আমাকে সম্মান করেছে。
টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮১৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩১৪, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৭৪২
📄 মুসলমানকে সম্মান করা ঈমানকে সম্মান করা
একজন মুসলমানকে সম্মান করা মূলত তার ঈমানকে সম্মান করা, যা ঐ মুসলমানের অন্তরে রয়েছে। একজন মুসলমান যেহেতু কালেমায়ে তাইয়েবা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'র উপর ঈমান রাখে এবং তার অন্তরে ঈমান রয়েছে, তাই তার দাবি ও হক এই যে, ঐ মুসলমানকে সম্মান করতে হবে। যদিও বাহ্যিক অবস্থায় ঐ মুসলমানকে দুর্বল দেখছো, তার আমল এবং তার বাহ্যিক আকার-আকৃতি পুরোপুরি দ্বীন মোতাবেক নয়, কিন্তু তোমার তো জানা নেই যে, তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলা যেই ঈমান দান করেছেন, তার মাকাম কী? আল্লাহ তা'আলার নিকট তার ঈমান কতোটুকু মাকবুল। শুধু বাহ্যিক আকার-আকৃতির দ্বারা তা অনুমান করা যাবে না। এজন্যে প্রত্যেক আগমনকারী মুসলমানকে মুসলমান হওয়ার সুবাদে সম্মান করা উচিত।