📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হুকুম মান্য করা যদি ক্ষমতার বাইরে চলে যায়

📄 হুকুম মান্য করা যদি ক্ষমতার বাইরে চলে যায়


এখানেও একই ঘটনা ঘটে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে যে হুকুম দিয়েছিলেন, তিনি তা মানতে অস্বীকা করেন। এতে বাহ্যত মনে হয় যে, তিনি আদবকে হুকুমের উপর অগ্রগণ্য করেছেন। অথচ হুকুম আদবের উপর অগ্রগামী। এর স্বরূপ ভালো করে বুঝ যে, আসল নিয়ম তো ঐটাই যে, বড়ো যা বলবে, তা মানবে, তা পালন করবে। কিন্তু কতক সময় মানুষ কোনো অবস্থার সামনে এমনভাবে পরায়ন হয়ে যায় যে, তার জন্যে হুকুম তালিম করা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। কেউ তার মাঝে এ কাজ করার শক্তিই থাকে না। তখন যদি সে ঐ কাজ থেরে সরে আসে, তাহলে তার উপর আপত্তি করা হবে না যে, সে বিরুদ্ধাচরণ করেছে, বরং তার উপর এই হুকুম লাগানো হবে যে,
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا 'আল্লাহ তা'আলা কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেন না।'
প্রথম ঘটনায় তো হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. নিজেই বলেছেন যে, এ কাজ আমার সাধ্যের বাইরে ছিলো যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন আর আবু কোহাফার বেটা ইমামতি করবে। আর দ্বিতীয় ঘটনায় হযরত আলী রাযি. হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতে এতোই পরাভূত ছিলেন যে, মুহাম্মাদ নাম থেকে 'রাসূলুল্লাহ' শব্দ মুছে দেওয়া তার সাধ্যের বাইরে ছিলো, এ কারণে তিনি মুছে দিতে অস্বীকার করেছেন。

টিকাঃ
৩. বাকারাহ: ২৮৬

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'বন্ধু যে অবস্থায় রাখেন সেটাই ভালো অবস্থা'

📄 'বন্ধু যে অবস্থায় রাখেন সেটাই ভালো অবস্থা'


তবে আসল হুকুম ঐটাই যে, বন্ধু যে কথা বলবে তা মানবে, নিজের মত চালাবে না। তিনি যেভাবে বলেন, সেভাবেই আমল করবে। কবি বলেন,
نہ تو ہے ہجر ہی اچھا نہ وصال اچھا ہے یار جس حال میں رکھے وہی حال اچھا ہے عشق تسلیم و رضا کے ماسوا کچھ بھی نہیں وہ وفا سے خوش نہ ہو تو پھر وفا کچھ بھی نہیں
'না বিচ্ছেদ ভালো, না মিলন, বন্ধু যে অবস্থায় রাখেন, সেটাই ভালো। সন্তোষ ও সমর্পণ ছাড়া প্রেম আর কিছু নয়, বিশ্বস্থতায় তিনি খুশি না হলে বিশ্বস্থতা কিছুই নয়।' তিনি যদি এমন কাজ করাতেই খুশি হন, যা বাহ্যিকভাবে আদবের খেলাফ, তখন ঐটাই উত্তম, যাতে তিনি সন্তুষ্ট, যার মধ্যে তা, সম্মতি।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সারকথা

📄 সারকথা


মোটকথা, ইমাম নববী রহ. এখানে যে হাদীস এনেছেন, তা এদিকে ইঙ্গিত করার জন্যে এনেছেন যে, মানুষের ঝগড়া মেটানো এবং তাদের মাঝে সন্ধি স্থাপনে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এতো গুরুত্ব ছিলো যে, নামাযের নির্ধারিত যে সময় ছিলো, তা থেকে কিছুটা বিলম্ব হয়ে যায়, কিন্তু তারপরেও তিনি এ কাজে মশগুল থাকেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে পারস্পরিক ঝগড়া থেকে হেফাজত করুন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00