📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'আল্লাহর কসম মুছবো না'

📄 'আল্লাহর কসম মুছবো না'


এক তো হলো এই ঘটনা। আরেকটি ঘটনা, হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মক্কার কাফেরদের মধ্যে যখন সন্ধিপত্র লেখানো হচ্ছিলো, তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি লেখো। তিনি বললেন, ঠিক আছে। যখন সন্ধির শর্তসমূহ লিখতে আরম্ভ করলেন, তখন হযরত আলী রাযি, সন্ধিপত্রের উপর লিখলেন 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'। তখন কাফেরদের পক্ষ থেকে যে ব্যক্তি সন্ধির শর্ত পুরা করতে এসেছিলো, সে বললো, না আমি তো 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' লিখতে দেবো না। যেহেতু এ সন্ধিপত্র উভয় পক্ষ থেকে, তাই এর মধ্যে এমন বিষয় থাকা উচিত, যার উপর উভয় পক্ষ একমত। আমরা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' দ্বারা কাজ আরম্ভ করি না। আমরা তো 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লেখি। জাহেলিয়াতের যুগেও মানুষ 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'-এর পরিবর্তে 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লেখতো। অর্থাৎ, হে আল্লাহ আপনার নামে আমরা শুরু করছি। এ কারণে সে বললো, এটা মুছে দাও এবং 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লেখো। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে বললেন, আমাদের জন্যে এতোদুভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। 'বিসমিকাল্লাহুম্মা'ও আল্লাহর নাম। ঠিক আছে ওটা মুছে এটা লিখে দাও। হযরত আলী রাযি. 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লিখে দিলেন। তারপর হযরত আলী রাযি. লিখতে আরম্ভ করলেন- এই চুক্তি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মক্কার সর্দারদের মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। কাফেরদের পক্ষ থেকে যে প্রতিনিধি ছিলো, সে আবারো আপত্তি করলো যে, আপনারা মুহাম্মাদ শব্দের সঙ্গে 'রাসূলুল্লাহ' কেন লিখলেন? আমরা যদি আপনাকে রাসূলুল্লাহ মেনেই নেই তাহলে আর ঝগড়া কিসের? সব ঝগড়া তো এ বিষয়ের উপরেই যে, আমরা আপনাকে রাসূল মানি না। এজন্যে যেই চুক্তিপত্রে আপনি মুহাম্মাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহও লিখবেন, আমি তার উপর স্বাক্ষর করবো না। আপনি শুধু লিখবেন- এই চুক্তিপত্র মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ও কুরাইশদের সর্দারদের মাঝে চূড়ান্ত হয়েছে। তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে বললেন, ঠিক আছে, কোনো ব্যাপার নয়, তুমি তো আমাকে আল্লাহর রাসূল মানো, তাই মুহাম্মাদের সাথে রাসূলুল্লাহ শব্দ মুছে দাও এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ লিখে দাও। হযরত আলী রাযি. প্রথম বিষয় তো মেনে নিয়েছিলেন এবং 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'-এর স্থলে 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লিখে দিয়েছিলেন, কিন্তু যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ কেটে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ লিখে দাও, তখন হযরঃ আলী রাযি. অবিলম্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বললেন,
وَاللَّهِ لَا أَمْحُوهُ 'খোদার কসম! আমি 'রাসূলুল্লাহ' শব্দ মুছবো না।'
হযরত আলী রাযি. মুছতে অস্বীকার করলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার আবেগ উপলব্ধি করলেন এবং বললেন, আচ্ছা তুমি ন মুছলে আমাকে দাও। আমি নিজ হাতে মুছে দেবো। সুতরাং তিনি চুক্তিপত্র তার থেকে নিয়ে নিজ পবিত্র হাতে 'রাসূলুল্লাহ' শব্দ মুছে দিলেন।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫২৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৩৭, মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ৬২১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হুকুম মান্য করা যদি ক্ষমতার বাইরে চলে যায়

📄 হুকুম মান্য করা যদি ক্ষমতার বাইরে চলে যায়


এখানেও একই ঘটনা ঘটে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে যে হুকুম দিয়েছিলেন, তিনি তা মানতে অস্বীকা করেন। এতে বাহ্যত মনে হয় যে, তিনি আদবকে হুকুমের উপর অগ্রগণ্য করেছেন। অথচ হুকুম আদবের উপর অগ্রগামী। এর স্বরূপ ভালো করে বুঝ যে, আসল নিয়ম তো ঐটাই যে, বড়ো যা বলবে, তা মানবে, তা পালন করবে। কিন্তু কতক সময় মানুষ কোনো অবস্থার সামনে এমনভাবে পরায়ন হয়ে যায় যে, তার জন্যে হুকুম তালিম করা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। কেউ তার মাঝে এ কাজ করার শক্তিই থাকে না। তখন যদি সে ঐ কাজ থেরে সরে আসে, তাহলে তার উপর আপত্তি করা হবে না যে, সে বিরুদ্ধাচরণ করেছে, বরং তার উপর এই হুকুম লাগানো হবে যে,
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا 'আল্লাহ তা'আলা কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেন না।'
প্রথম ঘটনায় তো হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. নিজেই বলেছেন যে, এ কাজ আমার সাধ্যের বাইরে ছিলো যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন আর আবু কোহাফার বেটা ইমামতি করবে। আর দ্বিতীয় ঘটনায় হযরত আলী রাযি. হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতে এতোই পরাভূত ছিলেন যে, মুহাম্মাদ নাম থেকে 'রাসূলুল্লাহ' শব্দ মুছে দেওয়া তার সাধ্যের বাইরে ছিলো, এ কারণে তিনি মুছে দিতে অস্বীকার করেছেন。

টিকাঃ
৩. বাকারাহ: ২৮৬

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'বন্ধু যে অবস্থায় রাখেন সেটাই ভালো অবস্থা'

📄 'বন্ধু যে অবস্থায় রাখেন সেটাই ভালো অবস্থা'


তবে আসল হুকুম ঐটাই যে, বন্ধু যে কথা বলবে তা মানবে, নিজের মত চালাবে না। তিনি যেভাবে বলেন, সেভাবেই আমল করবে। কবি বলেন,
نہ تو ہے ہجر ہی اچھا نہ وصال اچھا ہے یار جس حال میں رکھے وہی حال اچھا ہے عشق تسلیم و رضا کے ماسوا کچھ بھی نہیں وہ وفا سے خوش نہ ہو تو پھر وفا کچھ بھی نہیں
'না বিচ্ছেদ ভালো, না মিলন, বন্ধু যে অবস্থায় রাখেন, সেটাই ভালো। সন্তোষ ও সমর্পণ ছাড়া প্রেম আর কিছু নয়, বিশ্বস্থতায় তিনি খুশি না হলে বিশ্বস্থতা কিছুই নয়।' তিনি যদি এমন কাজ করাতেই খুশি হন, যা বাহ্যিকভাবে আদবের খেলাফ, তখন ঐটাই উত্তম, যাতে তিনি সন্তুষ্ট, যার মধ্যে তা, সম্মতি।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সারকথা

📄 সারকথা


মোটকথা, ইমাম নববী রহ. এখানে যে হাদীস এনেছেন, তা এদিকে ইঙ্গিত করার জন্যে এনেছেন যে, মানুষের ঝগড়া মেটানো এবং তাদের মাঝে সন্ধি স্থাপনে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এতো গুরুত্ব ছিলো যে, নামাযের নির্ধারিত যে সময় ছিলো, তা থেকে কিছুটা বিলম্ব হয়ে যায়, কিন্তু তারপরেও তিনি এ কাজে মশগুল থাকেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে পারস্পরিক ঝগড়া থেকে হেফাজত করুন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00