📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা উচিত নয়

📄 টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা উচিত নয়


এটা তো ছিলো একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। মোটকথা, আদব হলো বড়ো। যখন বলছে এই কাজ করো, তখন তার মধ্যে বেশি টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা ঠিক নয়। তখন গিয়ে বসা সম্মানের দাবি। কারণ, বড়োর হুকুম তামিল করা আদবের উপর অগ্রগণ্য।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বুযুর্গদের জুতা বহন করা

📄 বুযুর্গদের জুতা বহন করা


অনেক সময় মানুষ কোনো বুযুর্গের জুতা বহন করতে চায়, তখন যদি ঐ বুযুর্গ জোর দিয়ে বলেন যে, এটা আমার পছন্দ নয়, তখনও সম্মানের দাবি এই যে, জুতা রেখে দিবে, ওঠাবে না। অনেক সময় মানুষ এ ব্যাপারে কাড়াকাড়ি শুরু করে, নাছোড় হয়ে যায়, এটা সম্মানের পরিপন্থী। এজন্যে উক্তি প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, الْأَدَبِ فَوْقَ الْأَرْضِ 'হুকুম তামিল করা আদবের দাবির উপর অগ্রগণ্য।' বড়ো যা বলে তা মেনে নাও। হ্যাঁ, দুই-একবার বুযুর্গকে এ কথা বলায় সমস্যা নেই যে, হযরত আমাকে এ খেদমতের সুযোগ দিন। কিন্তু বড়ো যখন হুকুমই দিয়ে দিলো, তখন হুকুম তামিল করাই ওয়াজিব। তাই করা উচিত। সাধারণ অবস্থার নিয়ম এটাই। যে কাজের হুকুম দেওয়া হবে, সে অনুপাতে কাজ করবে। সাহাবায়ে কেরামের নিয়মও তাই ছিলো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সাহাবায়ে কেরামের দুটি ঘটনা

📄 সাহাবায়ে কেরামের দুটি ঘটনা


কিন্তু এ ঘটনায় আপনারা দেখতে পেলেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে বললেন, তুমি নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকো। কিন্তু আবু বকর সিদ্দীক রাযি. পিছনে সরে আসলেন। আদবের চাহিদার উপর আমল করলেন। হুকুম মানলেন না। এ ধরনের ঘটনা সাহাবায়ে কেরামের পুরো যুগে মাত্র দুটি পাওয়া যায়। যার মধ্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম আদবের দাবিকে হুকুম তামিলের উপর অগ্রগণ্য রেখেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'আল্লাহর কসম মুছবো না'

📄 'আল্লাহর কসম মুছবো না'


এক তো হলো এই ঘটনা। আরেকটি ঘটনা, হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মক্কার কাফেরদের মধ্যে যখন সন্ধিপত্র লেখানো হচ্ছিলো, তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি লেখো। তিনি বললেন, ঠিক আছে। যখন সন্ধির শর্তসমূহ লিখতে আরম্ভ করলেন, তখন হযরত আলী রাযি, সন্ধিপত্রের উপর লিখলেন 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'। তখন কাফেরদের পক্ষ থেকে যে ব্যক্তি সন্ধির শর্ত পুরা করতে এসেছিলো, সে বললো, না আমি তো 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' লিখতে দেবো না। যেহেতু এ সন্ধিপত্র উভয় পক্ষ থেকে, তাই এর মধ্যে এমন বিষয় থাকা উচিত, যার উপর উভয় পক্ষ একমত। আমরা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' দ্বারা কাজ আরম্ভ করি না। আমরা তো 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লেখি। জাহেলিয়াতের যুগেও মানুষ 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'-এর পরিবর্তে 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লেখতো। অর্থাৎ, হে আল্লাহ আপনার নামে আমরা শুরু করছি। এ কারণে সে বললো, এটা মুছে দাও এবং 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লেখো। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে বললেন, আমাদের জন্যে এতোদুভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। 'বিসমিকাল্লাহুম্মা'ও আল্লাহর নাম। ঠিক আছে ওটা মুছে এটা লিখে দাও। হযরত আলী রাযি. 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লিখে দিলেন। তারপর হযরত আলী রাযি. লিখতে আরম্ভ করলেন- এই চুক্তি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মক্কার সর্দারদের মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। কাফেরদের পক্ষ থেকে যে প্রতিনিধি ছিলো, সে আবারো আপত্তি করলো যে, আপনারা মুহাম্মাদ শব্দের সঙ্গে 'রাসূলুল্লাহ' কেন লিখলেন? আমরা যদি আপনাকে রাসূলুল্লাহ মেনেই নেই তাহলে আর ঝগড়া কিসের? সব ঝগড়া তো এ বিষয়ের উপরেই যে, আমরা আপনাকে রাসূল মানি না। এজন্যে যেই চুক্তিপত্রে আপনি মুহাম্মাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহও লিখবেন, আমি তার উপর স্বাক্ষর করবো না। আপনি শুধু লিখবেন- এই চুক্তিপত্র মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ও কুরাইশদের সর্দারদের মাঝে চূড়ান্ত হয়েছে। তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাযি.-কে বললেন, ঠিক আছে, কোনো ব্যাপার নয়, তুমি তো আমাকে আল্লাহর রাসূল মানো, তাই মুহাম্মাদের সাথে রাসূলুল্লাহ শব্দ মুছে দাও এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ লিখে দাও। হযরত আলী রাযি. প্রথম বিষয় তো মেনে নিয়েছিলেন এবং 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'-এর স্থলে 'বিসমিকাল্লাহুম্মা' লিখে দিয়েছিলেন, কিন্তু যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ কেটে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ লিখে দাও, তখন হযরঃ আলী রাযি. অবিলম্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বললেন,
وَاللَّهِ لَا أَمْحُوهُ 'খোদার কসম! আমি 'রাসূলুল্লাহ' শব্দ মুছবো না।'
হযরত আলী রাযি. মুছতে অস্বীকার করলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার আবেগ উপলব্ধি করলেন এবং বললেন, আচ্ছা তুমি ন মুছলে আমাকে দাও। আমি নিজ হাতে মুছে দেবো। সুতরাং তিনি চুক্তিপত্র তার থেকে নিয়ে নিজ পবিত্র হাতে 'রাসূলুল্লাহ' শব্দ মুছে দিলেন।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫২৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৩৭, মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ৬২১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00