📄 আলমগীর ও দারাশিকোর মাঝে সিংহাসন লাভের ফয়সালা
ঘটনা এই শোনালেন যে, মোঘল সম্রাট আলমগীরের পিতার ইন্তিকালের পর তার স্থলাভিষিক্তের বিষয় সামনে আসে। তারা ছিলেন দুই ভাই। এক আলমগীর, আরেক দারাশিকো। পরস্পরে রেশা রেশি ছিলো। আলমগীরও তার বাবার স্থলাভিষিক্ত ও বাদশাহ হতে চাচ্ছিলেন। তার ভাই দারাশিকোও সিংহাসনের প্রার্থী ছিলেন। সে সময় একজন বুযুর্গ ছিলেন। উভয়ে চাইলেন ঐ বুযুর্গের নিকট গিয়ে নিজের পক্ষে দু'আ করাবেন। প্রথমে দারাশিকো ঐ বুযুর্গের যিয়ারত ও দু'আর জন্যে গেলেন। তখন ঐ বুযুর্গ আসনের উপর বসা ছিলেন। ঐ বুযুর্গ দারাশিকোকে বললেন, এখানে আমার নিকটে চলে আসো এবং আসনের উপর বসো। দারাশিকো বললেন, না হযরত! আমার সাধ্য নেই যে, আপনার নিকট আসনের উপর বসবো। আমি তো এখানে নিচেই ঠিক আছি। ঐ বুযুর্গ আবার বললেন, আমি তোমাকে ডাকছি, এখানে চলে আসো। কিন্তু তিনি মানলেন না। তার নিকট গেলেন না। সেখানেই বসে থাকলেন। ঐ বুযুর্গ বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা। তারপর ঐ বুযুর্গের যেই নসীহত করার ছিলো তা করলেন, তিনি ফিরে গেলেন।
তার চলে যাওয়ার কিছু সময় পর আলমগীর রহ. এলেন। তিনি নিচে বসতে চাইলে ঐ বুযুর্গ বললেন, তুমি এখানে আমার নিকট চলে আসো। তিনি অবিলম্বে উঠলেন এবং ঐ বুযুর্গের নিকট গিয়ে আসনের উপর বসলেন। তারপর তার যা নসীহত করার ছিলো তা করলেন। আলমগীর চলে গেলে ঐ বুযুর্গ মজলিসে উপস্থিত লোকদেরকে বললেন, ঐ দুই ভাই তো নিজেরাই নিজেদের ফয়সালা করলো। দারাশিকোকে আমি আসন পেশ করেছিলাম, সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। আর আলমগীরকে পেশ করলে সে তা গ্রহণ করেছে। এ জন্যে উভয়ের ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। এখন রাজসিংহাসন আলমগীরই লাভ করবে। সুতরাং তিনিই লাভ করেন। এ ঘটনা হযরত থানভী রহ. হযরত ওয়ালেদ ছাহেব রহ.-কে শোনান。
📄 টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা উচিত নয়
এটা তো ছিলো একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। মোটকথা, আদব হলো বড়ো। যখন বলছে এই কাজ করো, তখন তার মধ্যে বেশি টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা ঠিক নয়। তখন গিয়ে বসা সম্মানের দাবি। কারণ, বড়োর হুকুম তামিল করা আদবের উপর অগ্রগণ্য।
📄 বুযুর্গদের জুতা বহন করা
অনেক সময় মানুষ কোনো বুযুর্গের জুতা বহন করতে চায়, তখন যদি ঐ বুযুর্গ জোর দিয়ে বলেন যে, এটা আমার পছন্দ নয়, তখনও সম্মানের দাবি এই যে, জুতা রেখে দিবে, ওঠাবে না। অনেক সময় মানুষ এ ব্যাপারে কাড়াকাড়ি শুরু করে, নাছোড় হয়ে যায়, এটা সম্মানের পরিপন্থী। এজন্যে উক্তি প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, الْأَدَبِ فَوْقَ الْأَرْضِ 'হুকুম তামিল করা আদবের দাবির উপর অগ্রগণ্য।' বড়ো যা বলে তা মেনে নাও। হ্যাঁ, দুই-একবার বুযুর্গকে এ কথা বলায় সমস্যা নেই যে, হযরত আমাকে এ খেদমতের সুযোগ দিন। কিন্তু বড়ো যখন হুকুমই দিয়ে দিলো, তখন হুকুম তামিল করাই ওয়াজিব। তাই করা উচিত। সাধারণ অবস্থার নিয়ম এটাই। যে কাজের হুকুম দেওয়া হবে, সে অনুপাতে কাজ করবে। সাহাবায়ে কেরামের নিয়মও তাই ছিলো।
📄 সাহাবায়ে কেরামের দুটি ঘটনা
কিন্তু এ ঘটনায় আপনারা দেখতে পেলেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে বললেন, তুমি নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকো। কিন্তু আবু বকর সিদ্দীক রাযি. পিছনে সরে আসলেন। আদবের চাহিদার উপর আমল করলেন। হুকুম মানলেন না। এ ধরনের ঘটনা সাহাবায়ে কেরামের পুরো যুগে মাত্র দুটি পাওয়া যায়। যার মধ্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম আদবের দাবিকে হুকুম তামিলের উপর অগ্রগণ্য রেখেছেন।