📄 হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের মজলিসে আমার উপস্থিতি
রবিবার দিন হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের মজলিস হতো। কারণ, সে সময় রবিবারে ছিলো সরকারি ছুটি। এটা শেষ মজলিসের ঘটনা। এর পরে হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের আর কোনো মজলিস হয়নি। পরবর্তী মজলিসের দিন আসার পূর্বেই হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের ইন্তিকাল হয়ে যায়। ওয়ালেদ ছাহেব অসুস্থ ও সয্যাশায়ী হওয়ার ফলে মানুষ তাঁর কক্ষে সমবেত হতো। ওয়ালেদ ছাহেব চারপায়ার উপর থাকতেন। মানুষ সামনে, নিচে ও সোফার উপর বসতো। সেদিন অনেক মানুষ আসে এবং কামরা ভরে যায়। এমনকি কিছু লোক দাঁড়িয়েও থাকে। আমি কিছু বিলম্বে পৌঁছি। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব আমাকে দেখে বললেন যে, তুমি এখানে আমার নিকট চলে আসো। আমি কিছুটা সংকোচ করতে লাগলাম যে, মানুষ ডিঙ্গিয়ে যাবো এবং হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের নিকট বসবো! যদিও এ কথা আমার মাথায় ছিলো যে, বড়ো কোনো কথা বললে তা মানা উচিত। কিন্তু আমি কিছুটা ইতস্তত করতে লাগলাম। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব যখন আমার ইতস্তত ভাব দেখলেন, তখন পুনরায় বললেন, তুমি এখানে আসো, তোমাকে একটা ঘটনা শোনাবো। যাই হোক, কোনো রকমে আমি সেখানে পৌছলাম এবং হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের নিকট বসলাম。
📄 হযরত থানভী রহ.-এর মজলিসে ওয়ালেদ ছাহেবের উপস্থিতি
ওয়ালেদ ছাহেব রহ. বললেন, একবার হযরত থানভী রহ.-এর মজলিস হচ্ছিলো। সেখানেও এরকমই ঘটনা ঘটে যে, জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং ভরে যায়। আমি কিছুটা দেরিতে পৌছি। তখন হযরত থানভী রহ. বললেন, তুমি এখানে আমার নিকট চলে আসো। আমি কিছুটা ইতস্তত করতে লাগলাম যে, একেবারে হযরতের নিকট গিয়ে বসবো! তখন হযরত পুনরায় বললেন, তুমি এখানে আসো, তোমাকে একটি ঘটনা শোনাবো। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব বলেন, তারপর আমি কোনো রকমে সেখানে পৌঁছলাম। হযরতের নিকটে গিয়ে বসলাম। তখন হযরত একটি ঘটনা শোনালেন।
📄 আলমগীর ও দারাশিকোর মাঝে সিংহাসন লাভের ফয়সালা
ঘটনা এই শোনালেন যে, মোঘল সম্রাট আলমগীরের পিতার ইন্তিকালের পর তার স্থলাভিষিক্তের বিষয় সামনে আসে। তারা ছিলেন দুই ভাই। এক আলমগীর, আরেক দারাশিকো। পরস্পরে রেশা রেশি ছিলো। আলমগীরও তার বাবার স্থলাভিষিক্ত ও বাদশাহ হতে চাচ্ছিলেন। তার ভাই দারাশিকোও সিংহাসনের প্রার্থী ছিলেন। সে সময় একজন বুযুর্গ ছিলেন। উভয়ে চাইলেন ঐ বুযুর্গের নিকট গিয়ে নিজের পক্ষে দু'আ করাবেন। প্রথমে দারাশিকো ঐ বুযুর্গের যিয়ারত ও দু'আর জন্যে গেলেন। তখন ঐ বুযুর্গ আসনের উপর বসা ছিলেন। ঐ বুযুর্গ দারাশিকোকে বললেন, এখানে আমার নিকটে চলে আসো এবং আসনের উপর বসো। দারাশিকো বললেন, না হযরত! আমার সাধ্য নেই যে, আপনার নিকট আসনের উপর বসবো। আমি তো এখানে নিচেই ঠিক আছি। ঐ বুযুর্গ আবার বললেন, আমি তোমাকে ডাকছি, এখানে চলে আসো। কিন্তু তিনি মানলেন না। তার নিকট গেলেন না। সেখানেই বসে থাকলেন। ঐ বুযুর্গ বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা। তারপর ঐ বুযুর্গের যেই নসীহত করার ছিলো তা করলেন, তিনি ফিরে গেলেন।
তার চলে যাওয়ার কিছু সময় পর আলমগীর রহ. এলেন। তিনি নিচে বসতে চাইলে ঐ বুযুর্গ বললেন, তুমি এখানে আমার নিকট চলে আসো। তিনি অবিলম্বে উঠলেন এবং ঐ বুযুর্গের নিকট গিয়ে আসনের উপর বসলেন। তারপর তার যা নসীহত করার ছিলো তা করলেন। আলমগীর চলে গেলে ঐ বুযুর্গ মজলিসে উপস্থিত লোকদেরকে বললেন, ঐ দুই ভাই তো নিজেরাই নিজেদের ফয়সালা করলো। দারাশিকোকে আমি আসন পেশ করেছিলাম, সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। আর আলমগীরকে পেশ করলে সে তা গ্রহণ করেছে। এ জন্যে উভয়ের ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। এখন রাজসিংহাসন আলমগীরই লাভ করবে। সুতরাং তিনিই লাভ করেন। এ ঘটনা হযরত থানভী রহ. হযরত ওয়ালেদ ছাহেব রহ.-কে শোনান。
📄 টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা উচিত নয়
এটা তো ছিলো একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। মোটকথা, আদব হলো বড়ো। যখন বলছে এই কাজ করো, তখন তার মধ্যে বেশি টালবাহানা ও হুজ্জতগিরি করা ঠিক নয়। তখন গিয়ে বসা সম্মানের দাবি। কারণ, বড়োর হুকুম তামিল করা আদবের উপর অগ্রগণ্য।