📄 আদবের গুরুত্ব অধিক, নাকি আদেশের?
এখানে একটি মাসআলা ও আদব বর্ণনা করছি, যা একটি মাসনূন আদব। আপনারা এ প্রসিদ্ধ উক্তি শুনে থাকবেন, الْأَمْرُ فَوْقَ الْأَدَبِ অর্থাৎ, সম্মানের দাবি এই যে, বড়ো কেউ কোনো বিষয়ের হুকুম দিলে তার উপর আমল করা আদবের পরিপন্থী হলেও এবং তার উপর আমল না করা আদবের দাবি হলেও ছোটর কাজ হলো ঐ হুকুম তামিল করা। এটা অত্যন্ত নাজুক বিষয় এবং অনেক সময় এর উপর আমল করা কঠিনও হয়ে থাকে। কিন্তু দ্বীনের উপর আমলকারী সকল বুযুর্গের সবসময় এ আমলই ছিলো যে, যখন বড়ো কেউ কোনো কাজের হুকুম দিয়েছে, তখন তারা আদবের পরিবর্তে হুকুম তামিলকে অগ্রগণ্য করেছেন।
📄 বড়োর হুকুমের উপর আমল করবে
উদাহরণস্বরূপ, মনে করুন একজন বুযুর্গ ব্যক্তি কোনো এক বিশেষ আসনের উপর বসা আছেন, এমন সময় ছোট কেউ তার নিকট এলো। তখন ঐ বুযুর্গ তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ভাই তুমি আমার কাছে এসে বসো। তখন তার কথা মানা উচিত। যদিও আদবের দাবি হলো কাছে না বসে দূরে বসা। তার নিকট গিয়ে আসনের উপর বসা আদবের পরিপন্থী। বড়োর একেবারে নিকটে গিয়ে বসতে মনে সংকোচ লাগলেও বড়ো যখন হুকুম দিয়ে বলেছেন যে, এখানে চলে আসো, তখন তার হুকুম তামিল করাই সম্মানের দাবি। কারণ, আদবের তুলনায় হুকুম তামিল করা অগ্রগণ্য।
📄 দ্বীনের সারকথা ইত্তিবা
আমি বার বার বলেছি যে, পুরো দ্বীনের সারকথা হলো ইত্তিবা। বড়োর হুকুম মানা। তার আনুগত্য করা। আল্লাহর হুকুমের ইত্তিবা। তাঁর রাসূলের হুকুমের ইত্তিবা। তাঁর রাসূলের ওয়ারিসদের ইত্তিবা। তারা যা বলছেন তার উপর আমল করো। যদিও বাহ্যিকভাবে তোমার কাছে তা আদবের পরিপন্থী মনে হয়।
📄 হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের মজলিসে আমার উপস্থিতি
রবিবার দিন হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের মজলিস হতো। কারণ, সে সময় রবিবারে ছিলো সরকারি ছুটি। এটা শেষ মজলিসের ঘটনা। এর পরে হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের আর কোনো মজলিস হয়নি। পরবর্তী মজলিসের দিন আসার পূর্বেই হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের ইন্তিকাল হয়ে যায়। ওয়ালেদ ছাহেব অসুস্থ ও সয্যাশায়ী হওয়ার ফলে মানুষ তাঁর কক্ষে সমবেত হতো। ওয়ালেদ ছাহেব চারপায়ার উপর থাকতেন। মানুষ সামনে, নিচে ও সোফার উপর বসতো। সেদিন অনেক মানুষ আসে এবং কামরা ভরে যায়। এমনকি কিছু লোক দাঁড়িয়েও থাকে। আমি কিছু বিলম্বে পৌঁছি। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব আমাকে দেখে বললেন যে, তুমি এখানে আমার নিকট চলে আসো। আমি কিছুটা সংকোচ করতে লাগলাম যে, মানুষ ডিঙ্গিয়ে যাবো এবং হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের নিকট বসবো! যদিও এ কথা আমার মাথায় ছিলো যে, বড়ো কোনো কথা বললে তা মানা উচিত। কিন্তু আমি কিছুটা ইতস্তত করতে লাগলাম। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব যখন আমার ইতস্তত ভাব দেখলেন, তখন পুনরায় বললেন, তুমি এখানে আসো, তোমাকে একটা ঘটনা শোনাবো। যাই হোক, কোনো রকমে আমি সেখানে পৌছলাম এবং হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের নিকট বসলাম。