📄 আবু কোহাফার বেটার এ সাধ্য ছিলো না
তারপর হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর দিকে মনোযোগী হয়ে বললেন, হে আবু বকর! আমি তো আপনাকে ইশারা করেছিলাম যে, আপনি নামায চালু রাখুন, পিছনে সরে আসবেন না। এর পর কী কারণ ঘটলো যে, আপনি পিছনে সরে আসলেন এবং ইমামতি করতে দ্বিধা করলেন। তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কী বিস্ময়কর উত্তর দিলেন! তিনি বললেন,
مَا كَانَ لِابْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلَّى بِالنَّاسِ بَيْنَ يَدَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'হে আল্লাহর রাসূল! আবু কোহাফার বেটার সাধ্য নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্তমানে মানুষের ইমামতি করে।' আবু কোহাফা তাঁর বাবার নাম। অর্থাৎ, আমার সাধ্য নেই যে, আপনার উপস্থিতিতে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে ইমামতি করি। যখন আপনি ছিলেন না, তখন ছিলো ভিন্ন কথা। কিন্তু যখন আপনাকে দেখলাম, তখন আর আমার সাধ্য ছিলো না যে, ইমামতি অব্যাহত রাখি। এ কারণে আমি পিছনে সরে এসেছি। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথার উপর আর কোনো আপত্তি করলেন না, বরং নীরবতা অবলম্বন করলেন।
📄 হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মাকাম
এর দ্বারা হযরত আবু বকর সিদ্দকি রাযি.-এর মাকাম জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর অন্তরে হুযূর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা এ পর্যায়ে গেঁথে দিয়েছিলেন যে, তিনি বলেন, এটা আমার সাধ্যের বাইরে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, আর আমি সামনে খাড়া থাকবো। যদিও এ ঘটনা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবর্তমানে ঘটেছে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে তিনি সামনে দাঁড়াননি। কিন্তু যখন জানতে পারলেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনে আছেন, তখন সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সাধ্যের বাইরে ছিলো, এজন্যে তিনি পিছনে সরে এসেছেন।
📄 আদবের গুরুত্ব অধিক, নাকি আদেশের?
এখানে একটি মাসআলা ও আদব বর্ণনা করছি, যা একটি মাসনূন আদব। আপনারা এ প্রসিদ্ধ উক্তি শুনে থাকবেন, الْأَمْرُ فَوْقَ الْأَدَبِ অর্থাৎ, সম্মানের দাবি এই যে, বড়ো কেউ কোনো বিষয়ের হুকুম দিলে তার উপর আমল করা আদবের পরিপন্থী হলেও এবং তার উপর আমল না করা আদবের দাবি হলেও ছোটর কাজ হলো ঐ হুকুম তামিল করা। এটা অত্যন্ত নাজুক বিষয় এবং অনেক সময় এর উপর আমল করা কঠিনও হয়ে থাকে। কিন্তু দ্বীনের উপর আমলকারী সকল বুযুর্গের সবসময় এ আমলই ছিলো যে, যখন বড়ো কেউ কোনো কাজের হুকুম দিয়েছে, তখন তারা আদবের পরিবর্তে হুকুম তামিলকে অগ্রগণ্য করেছেন।
📄 বড়োর হুকুমের উপর আমল করবে
উদাহরণস্বরূপ, মনে করুন একজন বুযুর্গ ব্যক্তি কোনো এক বিশেষ আসনের উপর বসা আছেন, এমন সময় ছোট কেউ তার নিকট এলো। তখন ঐ বুযুর্গ তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ভাই তুমি আমার কাছে এসে বসো। তখন তার কথা মানা উচিত। যদিও আদবের দাবি হলো কাছে না বসে দূরে বসা। তার নিকট গিয়ে আসনের উপর বসা আদবের পরিপন্থী। বড়োর একেবারে নিকটে গিয়ে বসতে মনে সংকোচ লাগলেও বড়ো যখন হুকুম দিয়ে বলেছেন যে, এখানে চলে আসো, তখন তার হুকুম তামিল করাই সম্মানের দাবি। কারণ, আদবের তুলনায় হুকুম তামিল করা অগ্রগণ্য।