📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইমামকে সতর্ক করার পদ্ধতি

📄 ইমামকে সতর্ক করার পদ্ধতি


নামায শেষ হলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মুখোমুখি হয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, এটা কোন্ পদ্ধতি যে, নামাযের মধ্যে কোনো ঘটনা দেখা দিলে তোমরা তালি বাজাতে আরম্ভ করো। এটা নামাযের মর্যাদার উপযোগী পদ্ধতি নয়। তালি বাজানো মহিলাদের জন্যে শরীয়তসম্মত। অর্থাৎ, এমনিতে মহিলাদের জামাত পছন্দনীয় নয়, তবে মহিলারা যদি নামাযের মধ্যে শামিল হয় আর তারা ইমামকে কোনো বিষয়ের প্রতি মনোযোগী করতে চায়, তখন তাদের জন্যে হাতের উপর হাত মেরে তালি বাজানোর বিধান রয়েছে। তাদের জন্যে নামাযের মধ্যে মুখে 'সুবহানাল্লাহ' বা 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা ভালো নয়। কারণ, এভাবে মহিলার আওয়াজ পুরুষের কানে চলে যাবে। শরীয়তে মহিলার আওয়াজেরও পর্দা রয়েছে। তাই তাদের জন্যে বিধান এই যে, নামাযের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটলে হাতের উপর হাত মেরে ইমামকে মনোযোগী করবে। কিন্তু যদি পুরুষদের জামাতের মধ্যে কোনো ঘটনা দেখা দেয়, আর সে কারণে ইমামকে মনোযোগী করতে হয়, সে ক্ষেত্রে তাদের জন্যে পদ্ধতি হলো তারা 'সুবহানাল্লাহ' বলবে। যেমন ইমামের বসা উচিত ছিলো, মুক্তাদিরা দেখলো যে, ইমাম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, তখন মুক্তাদীদের 'সুবহানাল্লাহ' বা 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা উচিত। বা ইমামের দাঁড়ানো উচিত ছিলো, কিন্তু বসে গিয়েছে তখনও 'সুবহানাল্লাহ' বলবে। কিংবা জোরে আওয়াজের নামাযে ইমাম আস্তে কেরাত পড়তে আরম্ভ করলে তখনও 'আলহামদুলিল্লাহ' ইত্যাদি বলে তাকে সতর্ক করবে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, যদি নামাযের মধ্যে এমন কোনো ঘটনা দেখা দেয়, যার ফলে ইমামকে সতর্ক করতে হয়, তাহলে মুক্তাদী 'সুবহানাল্লাহ' বলবে, তালি বাজানো উচিত নয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আবু কোহাফার বেটার এ সাধ্য ছিলো না

📄 আবু কোহাফার বেটার এ সাধ্য ছিলো না


তারপর হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর দিকে মনোযোগী হয়ে বললেন, হে আবু বকর! আমি তো আপনাকে ইশারা করেছিলাম যে, আপনি নামায চালু রাখুন, পিছনে সরে আসবেন না। এর পর কী কারণ ঘটলো যে, আপনি পিছনে সরে আসলেন এবং ইমামতি করতে দ্বিধা করলেন। তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কী বিস্ময়কর উত্তর দিলেন! তিনি বললেন,
مَا كَانَ لِابْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلَّى بِالنَّاسِ بَيْنَ يَدَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'হে আল্লাহর রাসূল! আবু কোহাফার বেটার সাধ্য নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্তমানে মানুষের ইমামতি করে।' আবু কোহাফা তাঁর বাবার নাম। অর্থাৎ, আমার সাধ্য নেই যে, আপনার উপস্থিতিতে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে ইমামতি করি। যখন আপনি ছিলেন না, তখন ছিলো ভিন্ন কথা। কিন্তু যখন আপনাকে দেখলাম, তখন আর আমার সাধ্য ছিলো না যে, ইমামতি অব্যাহত রাখি। এ কারণে আমি পিছনে সরে এসেছি। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথার উপর আর কোনো আপত্তি করলেন না, বরং নীরবতা অবলম্বন করলেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মাকাম

📄 হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর মাকাম


এর দ্বারা হযরত আবু বকর সিদ্দকি রাযি.-এর মাকাম জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর অন্তরে হুযূর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা এ পর্যায়ে গেঁথে দিয়েছিলেন যে, তিনি বলেন, এটা আমার সাধ্যের বাইরে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, আর আমি সামনে খাড়া থাকবো। যদিও এ ঘটনা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবর্তমানে ঘটেছে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে তিনি সামনে দাঁড়াননি। কিন্তু যখন জানতে পারলেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনে আছেন, তখন সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সাধ্যের বাইরে ছিলো, এজন্যে তিনি পিছনে সরে এসেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আদবের গুরুত্ব অধিক, নাকি আদেশের?

📄 আদবের গুরুত্ব অধিক, নাকি আদেশের?


এখানে একটি মাসআলা ও আদব বর্ণনা করছি, যা একটি মাসনূন আদব। আপনারা এ প্রসিদ্ধ উক্তি শুনে থাকবেন, الْأَمْرُ فَوْقَ الْأَدَبِ অর্থাৎ, সম্মানের দাবি এই যে, বড়ো কেউ কোনো বিষয়ের হুকুম দিলে তার উপর আমল করা আদবের পরিপন্থী হলেও এবং তার উপর আমল না করা আদবের দাবি হলেও ছোটর কাজ হলো ঐ হুকুম তামিল করা। এটা অত্যন্ত নাজুক বিষয় এবং অনেক সময় এর উপর আমল করা কঠিনও হয়ে থাকে। কিন্তু দ্বীনের উপর আমলকারী সকল বুযুর্গের সবসময় এ আমলই ছিলো যে, যখন বড়ো কেউ কোনো কাজের হুকুম দিয়েছে, তখন তারা আদবের পরিবর্তে হুকুম তামিলকে অগ্রগণ্য করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00