📄 ইবাদত ছাড়ানোর পদ্ধতি
শয়তান অতিরঞ্জিত এই বিনয় সৃষ্টি করে বিপথগামী করে থাকে। অন্তরে এই চিন্তা জাগ্রত করে যে, আমি তো অহংকারের রোগে আক্রান্ত নই। কারণ, আমি তো আমার নামাযকে কিছুই মনে করি না এবং সাথে সাথে বিনয়ও অবলম্বন করছি। কিন্তু এ চিন্তা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন ক্রমান্বয়ে অন্তরে নৈরাশ্য সৃষ্টি করে যে, ইবাদত করা তোমার সাধ্যভুক্ত নয়। তোমার নামায কখনোই কবুল হতে পারে না। যখন কবুলই হবে না, তখন পড়ে লাভ কি? তাই নামায ছেড়ে দাও। ঘরে বসে থাকো। এভাবে শয়তান নামায ছাড়িয়ে থাকে।
📄 ইবাদতের জন্য শোকর আদায় করুন
ভালোভাবে মনে রাখুন! যখনই আল্লাহ তা'আলা কোনো আমল করার তাওফীক দিবেন, তার জন্যে শোকর আদায় করুন। সাথে এ কথাও বলুন যে, হে আল্লাহ! আপনার দেওয়া তাওফীকেই আমি এ ইবাদত সম্পাদন করেছি। তবে আমার পক্ষ থেকে অনেক ভুল-ত্রুটি হয়েছে, আপনি দয়া করে সেগুলো মাফ করে দিন। সাহাবায়ে কেরام বলতেন,
لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
'হে আল্লাহ! যদি আপনার দেওয়া তাওফীক না হতো, তাহলে আমরা হেদায়েত পেতাম না। আপনার দেওয়া তাওফীক না হলে আমরা দান করতে পারতাম না এবং নামায পড়তে পারতাম না।'
যাকিছু হয়েছে, তা আপনার দেওয়া তাওফীকেই হয়েছে। এ জন্যে এই তাওফীকের আমরা শোকর আদায় করছি। নিজের ভুল-ত্রুটির কারণে ইস্তিগফার করছি। এ দুটা বিষয় যদি আয়ত্ত করতে পারেন, তাহলে অহংকারও সৃষ্টি হবে না, অতিরঞ্জিত বিনয়ও সৃষ্টি হবে না। যা শয়তানের দুটি অস্ত্র।
📄 শয়তানের মেরুদণ্ড ভঙ্গকারী শব্দ
আমি আমার শাইখের নিকট হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর এ উক্তি শুনেছি যে, কোনো ব্যক্তি যদি নেক আমল করে 'আলহামদুলিল্লাহ' ও 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলে, তখন শয়তান বলে যে, সে আমার কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে। কারণ 'আলহামদুলিল্লাহ' বলার দ্বারা তাওফীক লাভের শোকর আদায় হয়। এর দ্বারা অহংকারের মূল কেটে যায়। এবং 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলার দ্বারা অতিরঞ্জিত বিনয়ের ফলে যেসব ত্রুটির উপর নযর পড়ছিলো, সেগুলোর শিকড় কেটে যায়। এভাবে উভয়ের চিকিৎসা হয়ে যায়। এজন্যে প্রত্যেক নামাযের এবং প্রত্যেক নেক আমলের পর 'আলহামদুলিল্লাহ' ও 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলুন। সাথে আরো বলুন যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে নেক আমলের তাওফীক দান করেছেন, এ কারণে আমি 'আলহামদুলিল্লাহ' বলছি। আর এ আমলের মধ্যে আমার পক্ষ থেকে যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছে, তার জন্যে আমি 'আসতাগফিরুল্লাহ' বলছি। হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দিন। আমাদের হযরত বলতেন যে, হা-হুতাশ করার প্রয়োজন নেই। যে কোনো ইবাদত করার পর এই দু'আ পড়বে।
ইনশাআল্লাহ, শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদের সকলকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
টিকাঃ
৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬২৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৬৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭৭৫৫
৭. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩০০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৫