📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অতিরঞ্জিত বিনয়

📄 অতিরঞ্জিত বিনয়


এ মালফুযে হযরত বলেন, যারা দ্বীনের কাজ করে, তাদের মধ্যে একদিকে অহংকার সৃষ্টি হয়, আবার কতক সময় এর সম্পূর্ণ বিপরীত অতিরঞ্জিত বিনয় সৃষ্টি হয়। বিনয় ভালো জিনিস, কিন্তু তাও সীমার মধ্যে থাকা উচিত। সীমা অতিক্রম করে গেলে এটাও ক্ষতিকর।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অতিরঞ্জিত বিনয়ের একটি ঘটনা

📄 অতিরঞ্জিত বিনয়ের একটি ঘটনা


এ সম্পর্কে হযরত থানভী রহ. তাঁর ওয়াজের মধ্যে তাঁর দেখা একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি রেল গাড়িতে সফর করছিলাম। আরো কিছু লোকও আমার নিকট বসা ছিলো। খানা খাওয়ার সময় হলে তারা তাদের খাবার বের করলো। দস্তরখান বিছালো। সাথীদেরকে একত্রিত করে খানা খেতে আরম্ভ করলো। আমরা যেমন বিনয়ের সাথে বলি যে, আসুন আপনিও ডাল-রুটি খান। সেভাবে তারাও পাশে বসা ব্যক্তিকে বিনয়ের সাথে বললো যে, আপনিও কিছু গু-মোত খান। তারা বিনয়ের কারণে নিজেদের খাবারকে গু-মোত বললো। না'উযুবিল্লাহ। আল্লাহ তা'আলার রিযিককে গু-মোত বলা এটা অতিরঞ্জিত বিনয়। বিনয়ের ফলে এমন কাজ করা, যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতের না-শোকরি, হেয় প্রতিপন্ন ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য হয়, এটা খারাপ জিনিস। সীমাতিরিক্ত বিনয় অকৃতজ্ঞতা। কারণ, এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার তাকদীরের উপর আপত্তি করা হয়। এটা অতি মারাত্মক বিষয়。

টিকাঃ
৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৩৬০, মুওয়াত্তায়ে ইমাম মালেক, হাদীস নং ১৫৫৯

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নিজের নামাযকে 'ঠোকর মারা' বলো না

📄 নিজের নামাযকে 'ঠোকর মারা' বলো না


অতিরঞ্জিত এই বিনয় মানুষকে নিরাশ করে। মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। যেমন, আপনারা মানুষের মুখে শুনে থাকবেন- 'আরে আমাদের নামায আর কি, কয়েকটা ঠোকর মারি।' নামায পড়াকে 'ঠোকর মারা' বলা অতিরঞ্জিত বিনয়। এমন করা উচিত নয়। আল্লাহর দেওয়া তাওফীকের শোকর আদায় করা উচিত যে, তিনি তাঁর দরবারে হাজির হওয়ার তাওফীক দিয়েছেন। কতো মানুষ এমন আছে, আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার তাওফীকও যাদের লাভ হয়নি। এ জন্যে কেন এ নামাযের অবমূল্যায়ন ও না-শোকরি করো? এ কথা ঠিক যে, তোমার নামাযের মধ্যে অনেক ত্রুটি রয়েছে, কিন্তু সে ত্রুটি তোমার। আর তাওফীক দিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা। এ জন্যে প্রথমে তাওফীকের শোকর আদায় করো। তারপর ত্রুটির জন্যে ইস্তিগফার করো। আল্লাহ তা'আলাকে বলো- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে নামায পড়ার তাওফীক দান করেছিলেন, কিন্তু আমি সেই নামাযের হক আদায় করিনি। আসতাগফিরুল্লাহ। প্রথমে ইবাদতের তাওফীকের উপর শোকর আদায় করো, তারপর নিজের ত্রুটির জন্যে ইস্তিগফার করো। এ কথা বলো না যে, আমার নামায তো ঠোকর মারা। এ কথা বলা মোটেই ঠিক নয়।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ত্রুটির জন্য ইস্তিগফার করো

📄 ত্রুটির জন্য ইস্তিগফার করো


তুমি নিজের ত্রুটির জন্যে ইস্তিগফার করলে যিনি ইবাদত করার তাওফীক দিয়েছেন, তিনি তোমার ইস্তিগফার কবুল করে ঐ ইবাদতের মধ্যে পূর্ণতাও দান করবেন, ইনশাআল্লাহ। আরে এমন কোনো মানুষ আছে কি, যে আল্লাহর ইবাদতের হক আদায় করতে পারে? আমি আর তুমি তো দূরের কথা, রাতের তাহাজ্জুদ নামাযে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেই নবীর পা ফুলে যেতো, তিনি বলছেন,
مَا عَبَدْنَاكَ حَقَّ عِبَادَتِكَ، مَا عَرَفْنَاكَ حَقٌّ مَعْرِفَتِكَ 'আমরা আপনার ইবাদতের হক আদায় করতে পারিনি।"
তিনি যখন এ কথা বলছেন, তখন আমরা কী করে তাঁর ইবাদতের হক আদায় করতে পারি! আমাদের সব ইবাদতই তো তাঁর তুলনায় ত্রুটিপূর্ণই হবে। কিন্তু তিনি যখন তাঁর দুয়ারে আসার তাওফীক দিয়েছেন, তাঁর চৌকাঠে সেজদা করার তাওফীক দান করেছেন, তখন তাঁর সম্পর্কে এ বদগুমানী কেন করছো যে, তিনি এ সেজদা কবুল করবেন না! কেমনে তোমরা সেজদায় অবমূল্যায়ন করে বলো যে, এটা নাপাক সেজদা! যখন তুমি তাঁর দেওয়া তাওফীকের শোকর আদায় করে ইস্তিগফার করবে এবং বলবে যে, হে আল্লাহ এ ইবাদতে যা কিছু ত্রুটি হয়েছে, আপনি দয়া করে তা মাফ করে দিন, তখন আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই সে ভুল ত্রুটি-মাফ করে দিবেন。

টিকাঃ
৫. মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১৫০২, শোয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ১৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00